বিশেষ সংবাদ:

একই স্রোতধারায় গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

এবি প্রতিবেদক
‘গঙ্গা’ বাংলাদেশ ভূ-খ-ে প্রবেশ করে রূপ নিয়েছে ‘পদ্মা’ নামে। আবার পদ্মা গোয়ালন্দে এসে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই গঙ্গা-যমুনার সাথে বাঙালির অবিচ্ছেদ্য মমত্ব।

 

নদী ও প্রেম, দুটি শব্দ যেন মিলেমিশে একাকার। এটি যেন বাঙালির চেতন-চৈতন্যের সাথে গড়েছে গভীর বন্ধন। কয়েক বছর ধরে চলমান গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসবও ভারত-বাংলাদেশের সংস্কৃতির মধ্যে অনবদ্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। দুই বাংলার নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এ আসরকে ঘিরে দুদেশের সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। এ বছরও তার কমতি নেই। বরাবরের মতো এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই বাংলার বহুল আলোচিত সংস্কৃতিযজ্ঞ ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

 

৬ থেকে ১৫ অক্টোবর ঢাকায় শুর” হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এ সাংস্কৃতিক আসর। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল, স্টুডিও থিয়েটার এবং উন্মুক্ত  মঞ্চে ৯০টি দল মঞ্চনাটক, পথনাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও মূকাভিনয়ে অংশগ্রহণ করবে। উৎসবে এবার অংশ নিচ্ছে ভারতের স্বনামধন্য ৩টি নাট্যদল। এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে পশ্চিম বঙ্গের প্রয়াত নাট্যজন অমলেশ চক্রবর্তীকে। ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে যৌথভাবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন ভারত ও বাংলাদেশের কীর্তিমান দুই নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের ও বিভাস চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। উৎসবকে সার্বিকভাবে সফল করার প্রয়াসে বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছকে আহ্বায়ক ও আকতার”জ্জামানকে সদস্য সচিব করে উদযাপন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। যার অংশ হিসেবে বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীদের সমন্বয়ে ১০টি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে এগিয়ে চলছে আয়োজনের সকল প্রস্তুতি। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ধারাকে আরও বেগবান করতে নাটক রেখেছে অনন্য অবদান। নাটকের মধ্য দিয়েই আমরা পেয়েছি আত্মমর্যাদাবোধকে প্রতিষ্ঠার শুভ্র পথ। বাংলাদেশের নাটক আজ বিশ্ব নাট্যাঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, আমাদের নাটক তথা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হাজার বছরের। ভারত-বাংলাদেশ দুদেশের অভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনগণের মৈত্রীর বন্ধন আরও দৃঢ়তর করার লক্ষ্য নিয়ে বিগত পাঁচ বছর ধরে ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসব’-এর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এবারের উৎসবটিও বৈচিত্র্যে-বর্ণিলতা এবং বড় পরিসরে উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ হয়েছে।

 



উৎসবে মঞ্চ নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও পথনাট্যের সাথে এবার যুক্ত হচ্ছে যাত্রাপালা ও মূকাভিনয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সম্মুখে উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক পর্ব চলবে প্রতিদিন ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এবং মঞ্চনাটক শুর” হবে সন্ধ্যা ৭টায়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় উদযাপিত হবে তাৎপর্যবহ এ সাংস্কৃতিক আয়োজন। দর্শক উপস্থিতি বাড়াতে গঙ্গা-যমুনা উৎসব উদযাপন কমিটি প্রতিটি আসরেই নিয়ে থাকে ব্যতিক্রমী কৌশল। তারই অংশ হিসেবে ভারতের জনপ্রিয় একজন অভিনয়শিল্পী ও তার দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়ে থাকে। এর আগে, দল নিয়ে এসেছিলেন মনোজ মিত্র, ঢলী বসু, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, দেবশংকর হালদারের মতো প্রথিতযশা অভিনয়শিল্পীরা; এবার আসছেন পশ্চিম বাংলার গুণী ন্যাট্যসংগঠক ও নির্দেশক বিভাস চক্রবর্তী। আসছেন নাট্যজন দেবশংকর হালদারও। যেজন্য আয়োজনকে ঘিরে উৎসুক দর্শক-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। এ প্রসঙ্গে উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারের উৎসবেও আমরা নাটকের পাশাপাশি শিল্পকলার অন্য শাখাগুলোও যোগ করছি। তবে এবার বিশেষভাবে যুক্ত হচ্ছে যাত্রাপালা এবং মূকাভিনয়। পাশাপাশি সঙ্গীত, নৃত্য এবং আবৃত্তি তো থাকছেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘উৎসবে আমরা প্রবীণ-নবীনের সমন্বয় করেছি। আশা করি বরাবরের মতো এবারের আয়োজনেও সর্বস্তরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ শতস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন।’
উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসব’। আসরটি দুই বাংলার থিয়েটার অঙ্গনে ব্যাপক সমাদৃত হয়। শুর” থেকেই কলকাতার এ নাট্যাসরে বাংলাদেশের একাধিক নাট্যসংগঠন অংশ নিয়ে আসছে। ২০১২ সাল থেকে আরো বর্ণিল পরিসরে একই নামে বাংলাদেশেও আসরটি আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসব’ উপ-কমিটি। ২০১৪-তে এসে নাট্যপ্রদর্শনীর পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সংমিশ্রণে উৎসবটি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ফলে নামকরণ করা হয় ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব’।