বিশেষ সংবাদ:

এসএম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭

এবি প্রতিবেদক
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান চারুকলার এক কিংবদন্তি পুরুষ। তাঁর আঁকা ছবির মহিমা সকলের মনছবিকেও যেন নতুন করে প্রস্ফুটিত করে।

 

তেলরঙ ও জলরঙে আঁকা তাঁর চিত্রকর্মে অতি সাধারণের মধ্যে অসাধারণত্ব দেখা মিলে। যেখানে বিশ্বের কেন্দ্র হচ্ছে গ্রাম আর সেই কেন্দ্রের রূপকার ‘কৃষক’ আপন মহিমায় অধিষ্ঠিত। গ্রাম ও গ্রামের মানুষ ছিল তাঁর শিল্পকর্মের অনুপ্রেরণা আর উপকরণ ছিল কৃষক এবং কৃষকের জীবন চেতনা।  আজ তাঁর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। বরেণ্য এ শিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

 


 
কীর্তিমান এ চিত্রশিল্পীর প্রয়াণ দিবসকে ঘিরে নড়াইলের জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শিল্পী এসএম সুলতান। তার পিতা মো. মেছের আলি ও মাতা মোছা. মাজু বিবি। চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে পিতা-মাতা আদর করে নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া। কলকাতা আর্ট স্কুলের বাঁধাধরা জীবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার কঠোর রীতিনীতি সুলতানের জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তিনি ছিলেন বোহেমীয় জীবনাচারের অনুসারী। চেতনায় তিনি ছিলেন স্বাধীন এবং প্রকৃতিগতভাবে ছিলেন ভবঘুরে এবং ছন্নছাড়া। প্রকৃতিকে তিনি সবসময় রোমান্টিক কবির আবেগ দিয়ে ভালোবেসেছেন। আবার যান্ত্রিক নগর জীবনকে সেরকমই ঘৃণা করেছেন।
 
জীবনের মূল সুর-ছন্দ তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন গ্রামীণ জীবন, কৃষক এবং কৃষিকাজের মধ্যে। তিনি ছিলেন গ্রামীণ চিত্রপটের এক বিদগ্ধ রূপকার। আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য, দ্রোহ-প্রতিবাদ, বিপ্লব-সংগ্রাম এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার ইতিহাস তার শিল্পকর্মকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। তিনি ছিলেন একজন সুর সাধক এবং বাঁশিও বাজাতে সিদ্ধহস্ত।
 
 
চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন “পাট কাটা”, “ধান কাটা”, “ ধান ঝাড়া”, “ধান ভানা”, “ জলকে চলা”, “ চর দখল”, “গ্রামের খাল”, “গ্রামের দুপুর”, “নদী পারাপার”, “ধান মাড়াই”, “জমি কর্ষণে যাত্রা”, “মাছ ধরা”, “নদীর ঘাটে”, “গুন টানা”, “ফসল কাটার ক্ষণে” , “শরতের গ্রামীণ জীবন”, “শাপলা তোলা”র মতো বিশ্ববিখ্যাত সব ছবি।
 
কিন্তু বর্তমানে শিল্পীর এই সংগ্রহশালায় নেই যথাযথ লোকবল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দুর্লভ ছবি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেশ কিছু চিত্রকর্মে ভাঁজ পড়েছে, ফাটল দেখা দিয়েছে। ২০১৬ সালে শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রতিনিধি দল এসে একটি চিত্রকর্ম সংস্কার কাজ করেন তারপর আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তাঁর ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পল ক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীর ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছিল। কালোত্তীর্ণ এই শিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন।