বিশেষ সংবাদ:

এ মানবিকতা আমাদের শক্তি ও সাহসের জায়গা : সংস্কৃতিমন্ত্রী

Logoআপডেট: বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭

এবি প্রতিবেদক

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেছেন, ‘আমাদের সমাজ যে কত মানবিক, তা সুজনের ঘটনার মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এন্ড অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন জার্মানি (জার্মান প্রবাসে) সুজন ও সুজনের পরিবারের জন্য যা করেছে, তা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। আমাকে অনুপ্রাণিত করে সুজনকে ঘিরে মানবিক কাহিনী যা নিরেট সত্য ঘটনা। এ মানবিকতা আমাদের বড় ভরসা, শক্তি ও সাহসের জায়গা। আর মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালবাসা তাতে রয়েছে অসাধারণ শক্তি।’

 


 
গতকাল বিকালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জার্মান প্রবাসী প্রয়াত সুজন চন্দ্র সরকারের পরিবারকে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এন্ড অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন জার্মানি আয়োজিত স্মরণসভা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 




আসাদুজ্জামান নূর আরো বলেন, ‘এদেশের মানুষ বরাবরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায়। বর্তমানে রোহিঙ্গা সমস্যা একটি মানবিক বিপর্যয়। এ বিপর্যয়েও বর্তমান সরকারসহ এদেশের মানুষ উদাত্তভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্রমশঃ উন্নতি করছি। একইসাথে আমাদের মানবিকতাবোধ আরো উন্নত ও জাগ্রত করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জার্মান প্রবাসে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়াত সুজনের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ২ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করেন।

 


 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাঃ পবিত্র দেবনাথ এবং জার্মান প্রবাসে সংগঠনের অ্যাডমিন ও কোঅর্ডিনেটর তানজিয়া ইসলামের বাবা ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফর ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন এন্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডার (বারডেম) এর প্রফেসর ডাঃ মীর নজরুল ইসলাম এবং প্রয়াত সুজনের বাবা ও ভাই।

 


 
প্রয়াত সুজন চন্দ্র সরকার জার্মানির ব্রেমেন শহরে হেপাটাইটিস সি ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর অর্থকষ্টে যখন তার লাশ বাংলাদেশে পাঠানো অসম্ভব হয়ে ওঠে, তখন জার্মান প্রবাসীদের এ সংগঠনের উদ্যোগে প্রায় ৫০০ জন দাতা সুজনের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে। দানের অর্থ দিয়ে সুজনের লাশ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পরও বেশ কিছু অর্থ বাড়তি থেকে যায়। সেই বাড়তি অর্থ দিয়ে জার্মান প্রবাসে সংগঠনের ফেসবুক পেইজে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়াত সুজনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।