বিশেষ সংবাদ:

সংস্কৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত ‘গঙ্গা-যমুনা উৎসব’

Logoআপডেট: শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৭

ফারুক হোসেন শিহাব
বর্ণীল সাজ-বাহারে সজ্জিত হয়েছে শিল্প-সংস্কৃতির তীর্থস্থান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। প্রধান ফটক অতিক্রম করতেই দৃষ্টি ফেলা দায়। এদিক ওদিক প্রাণবন্ত আড্ডার জটলা।

 

সংস্কৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত এখন শিল্পকলার প্রতিটি চত্বর। একাডেমীতে একের পর এক উৎসবে সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শক-শুভাকাঙ্ক্ষী এমনকি নাট্যকর্মীদের মধ্যেও বইছে আনন্দঘন আমেজ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘৬ষ্ঠ জাতীয় যুবনাট্য উৎসব’ শেষ হতে না হতেই শুরু হলো জোড়া উৎসব।

 



গত ৬ অক্টোবর একদিকে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হয় ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’ অপরদিকে জাতীয় নাট্যশালায় শুরু হয় ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৭’। এদিকে শিল্পকলার সঙ্গীত ও নৃত্যকলা অডিটোরিয়ামে চলছে প্রাঙ্গণেমোর আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী নাট্যোৎসব। আবার দলের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নাট্যসংগঠন আরণ্যক ২২ থেকে ২৮ অক্টোবর আয়োজন করতে যাচ্ছে সপ্তাহব্যাপী নাট্যোৎসব। সব মিলিয়ে নাট্যাঙ্গনে এখন উৎসবের ধুম।

 


ভারত-বাংলাদেশের সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দু’দেশের মৈত্রীর বন্ধন আরো সুদৃঢ় করার মানসে ষষ্ঠবারের মতো চলছে ‘গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব’। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার হল ও স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের বৃহত্তর এ সাংস্কৃতিক আসর। এরই মধ্যে জমে উঠেছে বহুতাত্রিক এ সৃজনযজ্ঞ। উৎসবের বৈচিত্রময় পরিবেশনায় নিজেকে রাঙ্গাতে আসা বিনোদন প্রত্যাশীদের পদভারে সরব রয়েছে মঞ্চপাড়া। প্রতিদিন বিকেল হতে না হতেই নানা বয়স ও পেশার নাট্য ও সংস্কৃতিমোদি দর্শক-শুভাকাঙ্ক্ষীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে উৎসব প্রাঙ্গণ। মঞ্চনাটক, যাত্রা, নৃত্য, আবৃত্তি, সঙ্গীত, মূকাভিনয় ও পথনাটক নিয়ে সাজানো হয়েছে এ আয়োজন।

ভারতের ৩টি ও ঢাকার ২৬টিসহ মোট ২৯টি নাট্যদলের নাটক মঞ্চায়িত হবে এবারের উৎসবে। এছাড়াও প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত উৎসব প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে থাকছে ৬৩টি সংগঠনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সন্ধ্যা সাতটা থেকে তিনটি হলে প্রদর্শিত হচ্ছে মঞ্চনাটক। এবারের উৎসবকে উৎসর্গ করা হয়েছে ভারতের প্রয়াত নাট্যজন অমলেশ চক্রবর্তীকে।


উৎসবে আজ ১৪ অক্টোবর বিকেল ৪টায় মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবে নাট্যভূমি, কণ্ঠশীলন, স্রোত আবৃত্তি সংসদ, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, পদাতিক সঙ্গীত সংসদ, সপ্তকলির আসর এবং নন্দন কলা কেন্দ্র। ছাড়াও সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে রয়েছে কলকাতার দল অনীকের নাটক ‘শকুন্তলা’। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে সুবচন নাট্য সংসদের ‘মহাজনের নাও’ এবং স্টুডিও থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে বহুবচনের নাটক ‘অনিকেত সন্ধ্যা’।
তবে আয়োজকদের আপ্রাণ চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতাও দৃষ্টি এড়ায়নি প্রাণবন্ত এ সাংস্কৃতিক আসরে। বিশেষ করে এতো বড় একটি উৎসবে বিষয়ভিত্তিক কোনো সেমিনার ও জেলা পর্যায়ের কোনো নাটক না থাকায় নাটকসংশ্লিষ্টদের হতাশ করেছে। আয়োজন প্রসঙ্গে উৎসব উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতির ধারার মধ্য দিয়েই আমরা পেয়েছি আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠার শুভ্র পথ। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হাজার বছরের।

দুই বাংলার অবিভাজ্য সংস্কৃতির সেতুবনন্ধনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি মানবিক সত্তা বিনির্মাণে এই আয়োজনকে এগিয়ে নিচ্ছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারের উৎসবেও আমরা নাটকের পাশাপাশি শিল্পকলার অন্য শাখাগুলোও যোগ করছি। তবে এবার বিশেষভাবে যুক্ত হচ্ছে মূকাভিনয়। পাশাপাশি যাত্রা, সঙ্গীত, নৃত্য এবং আবৃত্তি তো রয়েছেই। উৎসবে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা প্রবীণ-নবীনের সমন্বয় করেছি। তবে আর্থিক সংকটের কারণে জেলার কোনো নাট্যদলকে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। আগামীবছর এটি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে।’


একই সুতোই গাঁথা দুই বাংলার অভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনগণের মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ়তর করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য এ আয়োজন। শুধু তাই নয়, এটি হয়ে উঠেছে দুই বাংলার সম্প্রীতির সেতুবন্ধনে সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রাণের জাগরণ। যা দু’দেশের কাঁটাতারের সিমানা ছাড়িয়ে ভেসে চলেছে অনবদ্য হৃদস্রোতে। এই একাত্মার অটুট বন্ধন এগিয়ে যাচ্ছে অনবদ্য এক মানবিক স্বপ্নযাত্রায়। এই স্বপ্ন নিরন্তর-সীমাহীনৃ।