বিশেষ সংবাদ:

না ফেরার দেশে আবৃত্তিশিল্পী রণজিৎ রক্ষিত

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী অধ্যক্ষ রণজিৎ রক্ষিত আর নেই। আজ ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে গুণী এই আবৃত্তিজন স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

রণজিৎ রক্ষিত চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহ-সভাপতি ছিলেন। ছিলেন বোধন আবৃত্তি স্কুলের অধ্যক্ষ। দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নির্বাহী পরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ছিলেন জড়িত।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরের আগ্রাবাদে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে লিফটে নামার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এরপর প্রথমে চমেকে এবং পরে মেহেদিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সর্বশেষ সোমবার তাকে চমেকে স্থানান্তর করা হয়। বোধন আবৃত্তি পরিষদের সহ-সভাপতি প্রণব চৌধুরী জানান, চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেখে জানিয়েছিলেন মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল।

রণজিৎ রক্ষিতের মরদেহ এমএম আলী সড়কের জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, চেরাগি পাহাড় চত্বর, মিউনিসিপ্যাল স্কুল ও বাসায় নেয়া হবে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। এরপর বলুয়ার দীঘির পাড় শ্মশানে দাহ করা হবে। আবৃত্তির জাদুকর হিসেবে পরিচিতি রণজিৎ রক্ষিতের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়া গ্রামে। বাবা বিপ্লবী যতীন্দ্রমোহন রক্ষিত ও মা রানি রক্ষিত। ষাটের দশকে নিয়মিত আবৃত্তিচর্চার পাশাপাশি নাট্য আন্দোলনেও সম্পৃক্ত হন তিনি। ১৯৬৫ সালে শিক্ষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কুনজরে পড়েন এবং কারাবরণ করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম সহায়ক সমিতির সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের প্রথম পথনাটক গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়ের ‘যায় দিন ফাগুন দিন’ এ মূল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তখন থেকে গণায়ন ও নান্দীকার নাট্য সম্প্রদায়ে কাজ করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত কাজ করেন। অভিনয় করেন চারটি টেলিফিল্মে।

দেশের বাইরে ভারত, যুক্তরাজ্য, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে আবৃত্তি পরিবেশন করে সমাদৃত হন। সম্মাননা দিয়ে তাকে সম্মানিত করেছে সুচেতনা কলকাতা, স্বনন ঢাকা, প্রমা, অবসর, বান্ধব পাঠাগার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চ, বর্ণ আবৃত্তি সংসদ, বিশ্বজনীন শান্তি সংঘ, মোপলেসসহ নানা সংগঠন।

মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪১ বছর জীববিজ্ঞানের শিক্ষকতার পাশাপাশি ছিলেন চট্টগ্রাম একাডেমি, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান পরিষদ, প্রবর্তক সংঘসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আমন্ত্রণে কলকাতা ও বর্ধমানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন রণজিৎ রক্ষিত।