বিশেষ সংবাদ:

জীবদ্দশায় যেভাবে কাটতো হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

তিনি ছিলেন হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার মতো একজন মানুষ। তার বাঁশি না থাকলেও, ছিল বাঁশির সুরের চেয়েও জাদুকরী সাহিত্যসম্ভার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত এবং সমাদৃত হয়। বলছি, নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর কথা। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক-উপন্যাসিক।

যা মুহূর্তের মধ্যেই মুগ্ধতায় ভাসিয়ে পাঠককে নিয়ে যায় নতুন জগতে। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার সাহিত্যচর্চার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর।

আজ ১৩ নভেম্বর কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন। নন্দিত এই কথা সাহিত্যিক আজ আর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি রেখে গেছেন বিস্তীর্ণ স্মৃতি আর সৃজন-সৃষ্টির অমৃত-সম্ভার। গত কয়েকটি বছর হুমায়ূন আহমেদ ছাড়াই কাটছে তার জন্মদিন।

অগণিত পাঠক, দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রিয় এই লেখকের জীবদ্দশায় কিভাবে পালিত হতো তার জন্মদিন? সেই স্মৃতিচারণই করেছেন নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।

২১ বছর ধরে নুহাশপল্লীতে  কর্মরত মোশাররফ বলেন, স্যার খুব একটা পছন্দ না করলেও প্রতিবছর ঠিকই তার জন্মদিনে কেক কাটা হতো। শাওন আপা (মেহের আফরোজ শাওন), নূর স্যার (আসাদুজ্জামান নূর), চ্যালেঞ্জার স্যার, অভিনেতা রিয়াজ, ডা. এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, স্বাধীন খসরুসহ আরও অনেকেই আসতেন।

জন্মদিনকে ঘিরে একটা স্টেজ বানানো হতো। ফায়ার ক্যাম্প হতো। আমরা স্যারের প্রিয় সব গান গাইতাম। সেলিম চৌধুরী, এসআই টুটুল, কুদ্দুছ বয়াতিসহ আরও অনেকে গাইতেন। এভাবে চলত অনেক রাত পর্যন্ত।’

আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, ‘আমিও স্যারকে গান শোনাতাম। আমি গান গাই জেনে স্যারই আমাকে হারমোনিয়াম আর তবলা কিনে দিয়েছিলেন। স্যার মারা যাওয়ার পর ৪০ রাত আমি ঘুমাইনি। কাঁচা কবরটা রাতের পর রাত পাহারা দিয়েছি। পরে স্যারের দেয়া ডিজাইনেই কবরটি শাওন আপা বাঁধাই করিয়েছেন।

কবরটি আমি প্রতিদিন ধুয়ে-মুছে রাখি। প্রতিবার স্যারের জন্মদিনে প্রচুর ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে ফুল নিয়ে ছুটে আসেন। স্যারের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান দেখে আমি আপ্লুত হই।’

আজ  অন্যান্যবারের মত নুহাশপল্লীতে এবং পরিবারিকভাবে নানা আয়োজনের পালিত হবে বিরল এই কথাসাহিত্যিকের ৭০তম জন্মদিন। পাশাপাশি চ্যানেল আইয়ের আয়োজনে রয়েছে ‘হিমু মেলা’।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন সবার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। ২০১২ সালের ১২ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শেষ ইচ্ছানুযায়ী নিজ হাতে গড়ে তোলা গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচুতলায় তাকে সমাহিত করা হয়।