বিশেষ সংবাদ:

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য ও আহ্বান

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ০৬ নভেম্বর, ২০১৮

নিউজজি প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বক্তব্য উপস্থাপনের লক্ষে আজ ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩য় তলায় কনফারেন্স হল ২-এ সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি, লেখক-গবেষক গোলাম কুদ্দুছ। এতে আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীরমুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ, গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন আকতারুজ্জামান, নাট্যজন আহম্মেদ গিয়াস, চারুশিল্পী কিরীটি রঞ্জন বিশ্বাস, কবি ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু, নৃত্যশিল্পী শেখ মাহফুজুর রহমান, আবৃত্তি শিল্পী ফয়জুল আলম পাপপু, কবি হানিফ খান, আবৃত্তি শিল্পী তারেক আলী মিলন, গণসঙ্গীত শিল্পী স্বপন চৌধুরী। আয়োজনটি পরিচালনা করেন জোটের সাধারণ সাম্পাদক হাসান আরিফ।

এসময় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়- ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসেবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। দেশ এবং জনগণের সংকটে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট স্বীয় ভূমিকা পালনে সচেষ্ট রয়েছে।

১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। ৩০ লক্ষ শহিদের আত্মদান এবং কয়েক লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা। স্বাধীন বাংলাদেশকে আমরা কতগুলো নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেই। আর সে উদ্যোগেরই প্রথম সোপান হলো ’৭২-এর সংবিধান। বাঙালির হাজার বছরের লড়াই-সংগ্রাম, রাষ্ট্রভাবনা এবং মানবিকবোধের প্রতিফলন ঘটেছে এই সংবিধানের প্রতিটি ধারা-উপধারায়।

কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে প্রথমে মোস্তাক-জিয়া এবং পরবর্তীতে এরশাদ-খালেদার সরকারগুলো সেই সংবিধানের চার মূলস্তম্ভ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদকে কেটে-ছিঁড়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে।রাজনৈতিক দলসমূহের অনৈক্য, ভোট বর্জন, ভোট প্রতিরোধ এবং কখনো কখনো ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেও রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবির পাশাপাশি গণতন্ত্রের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রবণতাও দৃশ্যমান। সরকার বিরোধী কোন কোন নেতার হুমকি, ধমক এবং আল্টিমেটাম প্রদান পরিস্থিতিকে আরও জটিলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি।’

‘মানুষ সংঘাত-নৈরাজ্য চায় না- চায় অবাধ শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন। জাতির দুর্ভাগ্য হলো স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলেও আমরা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো পূর্ণ ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারিনি।’ উল্লেখ করে এমনি পরিস্থিতিতে দেশে বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বেশ কিছু দাবি ও যৌক্তিক প্রস্তাব পেশ করা হয়।

যার মধ্যে জোট থেকে বলা হয়েছে- ‘সংবিধানই হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূলভিত্তি। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সকল মত ও চিন্তার প্রতিফলন একমাত্র জাতীয় সংসদেই হওয়া বাঞ্ছনীয়। নির্বাচনে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করণের স্বার্থে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী, এমপিদের কোন ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দীক্ষিত এবং মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পোষ্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনে দলীয় স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশীশক্তির ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালির হাজার বছরের মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা বিরোধী অপপ্রচার প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।,

এসময় বক্তারা সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন। এ দাবি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন, সরকার, সকল রাজনৈতিক দল এবং শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।