বিশেষ সংবাদ:

আজ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী তপন মাহমুদের জন্মদিন

Logoআপডেট: সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

দেশের সঙ্গীত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিত্বমূলক জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের  প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বর্তমানে একই দায়িত্ব পালন করছেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী তপন মাহমুদ। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আজ ১২ নভেম্বর সোমবার বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী তপন মাহমুদের ৬৮তম জন্মদিন। ১৯৫১ সালের আজকের দিনে তিনি বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ঘরোয়া পরিবেশে তার জন্মদিন উদযাপন করবে বঙ্গবন্ধুমহল।  ১৯৫৮ সালে বরিশাল ব্রজমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রথম একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিনি। তারপর থেকে সঙ্গীত জগতে তার পথচলা শুরু। বরিশালে প্রয়াত নারায়ণ চন্দ্র সাহা, ঢাকায় প্রয়াত ফজলে নিজামী ও মুক্তিযুদ্ধকালে কলকাতায় প্রয়াত অরবিন্দ বিশ্বাসের কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিম নেন তিনি। 

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। একাত্তরে জুলাই মাসে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে যোগ দেন ও সঙ্গীত পরিবেশন। একাত্তরে ‘রণাঙ্গন ঘুরে এলাম’  শীর্ষক কথিকা রচনা করেছেন এবং সেগুলো পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে অতিথি শিল্পী হিসেবেও নিয়মিত রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন তিনি।

তপন মাহমুদ বৈতালিক শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রথম নিয়মিত দর্শনীর বিনিময়ে গীতি-নৃত্য-নাট্যের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যনাট্য শ্যামা, শাপমোচন, চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, মায়ার খেলা এবং কাজী নজরুল ইসলামের ও ‘মুসাফির’ নৃত্যনাট্যের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তিনি এবং প্রধান  পুরুষ চরিত্রে কণ্ঠদান  করেনে। বর্তমানে রবীন্দ্রসঙ্গীতের গ্রুপ হিসেবে রূপান্তরিত বৈতালিক এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারি-বেসরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী পালন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির সদস্য তিনি। ৭ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে রবীন্দ্রসঙ্গীত বিষয়ক নিয়মিত পাক্ষিক/মাসিক ‘আনন্দলোক’ গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও পরিচালক ছিলেন। তার প্রকাশিত অ্যালবাম সংখ্যা ২২টি।

১৯৬৯ থেকে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত জীবনে তিনি অজস্র সম্মাননা ও পদক লাভ করেন। ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। একই বছর রবীন্দ্রসঙ্গীতে অসাধারণ অবদানের জন্য পেয়েছেন এবি ব্যাংক-চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা। ২০১৮ সালে উদীচী নিউইয়র্ক প্রদত্ত সম্মাননা পেয়েছে।

তার স্ত্রী বুলা মাহমুদও একজন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। দুই মেয়ে তুহিনা তপন মাহমুদ মিষ্টি পেশায় স্থপতি, অন্যজন তানিয়া তপন মাহমুদ পর্ণা কম্পিউটার সাইন্সে গ্রাজুয়েট ও ইংরেজিতে মাষ্টার্স ডিগ্রি।

তপন মাহমুদ ২০০২ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে  উপ-সচিব  হিসেবে ২৫ বছর চাকরি পূর্তিতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে। বতর্মানে তিনি বাংলাদেশ জেনারেল ইনসিওরেন্স কোম্পানিতে হেড অব এইচ আর অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট হিসেবে কর্মরত।