বিশেষ সংবাদ:

নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার পেলেন ‘আইটিআই পদক’

Logoআপডেট: রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের (আইটিআই) সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সাম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার পেয়েছেন আইটিআই পদক। গত ২৩ নভেম্বর চীনের হাইকুর হাইনান অপেরা হাউসে আইটিআইর ৭০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মান জানানো হয়। আইটিআইর প্রতি তাঁর সুদীর্ঘকালের প্রতিশ্রুতি ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি সরূপ তাঁকে এই পদক প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় এই উদযাপন অনুষ্ঠান এবং হাইকু থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে প্রায় ২০০ বিদেশি ও চীনা প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে রামেন্দু মজুমদারের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন আইটিআইর প্রকাশনা পর্ষদের সচিব বাবুল বিশ্বাস। রামেন্দু মজুমদার ছাড়াও আইটিআই পদকে ভূষিত হয়েছেন আরো দুজন সাবেক আইটিআই সভাপতি দক্ষিণ কোরিয়ার জং ওক কিম ও জার্মানির ম্যানফ্রেড বাইলহার্জ। আজ সোমবার চার দিনব্যাপী এই উদযাপন অনুষ্ঠান শেষ হবে বলে জানা গেছে। 

তাৎপর্যবহ এই আন্তর্জাতিক পদকপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আইটিআই বিশ্বব্যাপী থিয়েটার চর্চার অগ্রগতিকে আরো সুদৃঢ় ও গতিশীল করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। আমি গত ৩৭ বছর ধরে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। এই সম্মাননা পাওয়াটা আমার জন্য যেমনি আনন্দের তেমনি দেশের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের।’

বাংলাদেশের নাট্যজগতে রামেন্দু মজুমদারের পদচারণা পাঁচ দশকজুড়ে। মঞ্চে অভিনয় ও নির্দেশনার পাশাপাশি টিভি নাটক এবং চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেছেন। নাট্যজন রামেন্দু মজুমদারের জন্ম ১৯৪১ সালের ৯ আগস্ট লক্ষ্মীপুর জেলায়। থিয়েটারের সঙ্গে তিনি জড়িয়েছিলেন সেই ছাত্রজীবনেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বি.এ (অনার্স) ও এম, এ পাশ করে তিনি অধ্যাপনাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। চৌমুহনী কলেজে বছর তিনেক অধ্যাপনার পর পেশা পরিবর্তন করে যোগ দেন বিজ্ঞাপন শিল্পে ১৯৬৭ সালে করাচীতে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি এবং বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা, বিবৃতির একটি ইংরেজি সংকলন সম্পাদনা করে দিল্লী থেকে প্রকাশ করেন। ১৯৭২ এ দেশে ফিরে বিটপী অ্যাডভার্টাইজিং এ পরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ এ প্রতিষ্ঠা করেন এক্সপ্রেশানস্- যেখানে এখন তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত।

বেতার ও টেলিভিশনে তিনি নাটক করছেন যথাক্রমে ১৯৬২ ও ১৯৬৫ থেকে। এ দু’টো মাধ্যমে দীর্ঘদিন সংবাদ পাঠ করেছেন। মঞ্চে অভিনয় করছেন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সংগঠক এ যাবৎ দেশ-বিদেশে পেয়েছেন বহু পুরস্কার-সম্মাননা।