বিশেষ সংবাদ:

এক আত্মবিশ্বাসী কালো মেয়ের কথা

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ০৭ মার্চ, ২০১৭

এবি ডেস্ক
‘নদীর জল ঘোলাও ভালো, জাতের মেয়ে কালোও ভালো’ এটি আমাদের দেশের একটি প্রবাদ। দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের জীবনে ‘কালো’ জেন্ডার বৈষম্যমূলক রঙ। এ অঞ্চলে ফর্সা ও কালো রঙ দিয়ে নিরূপিত হয় নারীর বিয়ের বাজারদর।
দৈনিক পত্র-পত্রিকায় পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনে ফর্সা রঙ পাত্রীর অন্যতম গুণ হিসেবে শর্ত দেওয়া হয়। অনিন্দ্য সুন্দরী হওয়াটা পাত্রীর যোগ্যতার নূন্যতম শর্ত। এক্ষেত্রে এমন প্রশ্ন-তো হতেই পারে যে, কালোদের দেশে কালো নারীদের গায়ের রঙ নিয়ে কতটা বৈষম্য রয়েছে? আসলে গায়ের রঙ কালো নিয়ে জগত জুড়েই নারীদের সইতে হয় নানা রকম নিগৃহতা-অপমান। কপালের লিখন বলে মেনে নিতে হয় শত যন্ত্রণার কুৎসিত বাক্য। তবে এই কালোই যে, আলো হতে পারে তার প্রমানও কিন্তু বিচিত্র এই পৃথিবীতে কম নেই।


পশ্চিম আফ্রিকার একটি আলোচিত দেশ সেনেগাল। যেখানের বেশির ভাগ মানুষের গায়ের রঙই কালো। মূলত, আবহাওয়ার কারণেই সেখানকার বাসিন্দারা ‘কালারড্’। এমনই এক ‘কালো’ মেয়ে, খোদিয়া দিওপ। বয়স ২০ বছর।
‘গায়ের রঙের জন্য ছোটবেলা থেকেই বড্ড হেনস্থ হতে হয়েছে সমবয়সী এমনকি আশপাশের মানুষদের কাছে।’ আন্তর্জাতিক স্তরের এক ইংরেজি দৈনিককে এমনটাই জানিয়েছেন খোদিয়া। তিনি আরও বলেন, ‘সেনেগালের প্রায় ৬৫ শতাংশ মহিলাই তাঁদের গাত্রবর্ণ নিয়ে বেশ দ্বিধায় থাকেন। এবং ত্বকের জন্য প্রচুর পরিমাণে প্রসাধনী ব্যবহার করেন।
ছোটবেলার সেই দিন কাটিয়ে খোদিয়া দিওপ এখন একজন ‘অ্যাসপায়ারিং মডেল’। ‘দ্য কালারড গার্ল’ সংস্থার মাধ্যমে তিনি এই সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন খোদিয়া। তাঁর এই পেশার মাধ্যমে তিনি ফিরে পেয়েছেন আত্মবিশ্বাসও।
বর্তমানে, ২ লক্ষেরও বেশি ফ্যান রয়েছে খোদিয়ার ইনস্টাগ্রাম-এ। তার মতো ‘কালার্ড সিস্টার’-দের উদ্দেশ্যে সেখানে তার বক্তব্য অনুপ্রেরণা দেয় সকলকেই।