বিশেষ সংবাদ:

মায়ের পেটে নয়,যন্ত্রে জন্মাবে মানুষ!

Logoআপডেট: শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০১৫

এবি ডেস্ক

সময় যত এগুচ্ছে মানুষের জীবনচলা যেন ততই সহজ হয়ে যাচ্ছে। আর তা সম্ভব হয়ে উঠছে প্রযুক্তির ছোঁয়াতেই।

 

নতুন নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে মানবজাতি আজ এমন এক উন্নত অবস্থার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যে, উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে পৃথিবীর সর্বত্র প্রতিটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাওয়া-পরা ও সম্মানজনক জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা বিধান সম্ভব।

 

অর্থাৎ বিজ্ঞানের জয়যাত্রা মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও সাবলীল করেছে। আগামীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আবিষ্কার মানুষকে নতুন এক দিগন্তে পোঁছে দিবে যা মানুষ এখনো কল্পনা করতে পারবে না। সেই লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যাবহার এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে।

 

এবার প্রযুক্তি দিচ্ছে চমকে যাওয়ার মতো নতুন এক তথ্য! গবেষকরা আশা করছেন- মায়ের পেটে নয়, আগামী তিন দশকের মধ্যেই কৃত্রিম উপায়ে শরীরের বাইরেই মানবশিশুর জন্ম-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।‘একটোজেনেসিস’ নামের এই পদ্ধতি ২০৩৪ সাল নাগাদ প্রস্তুত হবে বলেই ধারণা করছেন গবেষকেরা। এর পরের দশকেই এটি মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে। ২০০১ সাল থেকেই এ প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা চলছে।

 

গবেষকেরা ‘একটোজেনেসিস’ পদ্ধতির সাহায্যে এর আগে ‘প্লাসেন্টা যন্ত্রে’ ইঁদুরের ভ্রূণ তৈরিতে কাজ করেছেন। এই প্রযুক্তি নিয়ে অবশ্য পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তিটির সমর্থকেরা বলছেন, এই প্রযুক্তির ফলে শিশুমৃত্যুর হার কমবে এবং সহজে শিশুর নজরদারি করা যাবে। তবে এ বিষয়ে সমালোচকেরা মনে করছেন, পদ্ধতিটি মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারবেনা। বরং এতে সামাজিক সমস্যা তৈরি হবে। এ ধরনের প্রযুক্তির ফলে মা ও শিশুর মধ্যকার বন্ধন আর থাকবে না।

 

‘একটোজেনেসিস’ হচ্ছে শরীরের বাইরে একটি জৈব দেহের বেড়ে ওঠার পদ্ধতি, যা পশু বা ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। এতে কৃত্রিম গর্ভাশয়ের জন্য কৃত্রিম একটি জরায়ুর প্রয়োজন পড়ে, যেটি ফিটাসের জন্য পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে।

 

বর্জ্য অপসারণের জন্য কাস্টম-বিল্ট অ্যামিনোটিক ফ্লুইডের থলিও প্রয়োজন পড়ে। এই সব বস্তুকে একটি ‘প্লাসেন্টা যন্ত্র’ দিয়ে সংযুক্ত করা হয়, যাতে বিভিন্ন কেবল বা তার যুক্ত থাকে। এই তারগুলোর মাধ্যমে ফিটাসের শরীরের ওজন, হূত্স্পন্দন বেড়ে ওঠার প্রকৃতি বোঝা যায়।

 

গবেষকেরা দাবি করেছেন, পুরো কৃত্রিম এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্তান জন্ম হলে ‘সারোগেট মাদার’ বা গর্ভ ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। এ ছাড়া সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমে যাবে। এ ছাড়া বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার ঝামেলাও কমে যাবে। শিশু অসুস্থ হলে সহজে ওষুধ দেওয়া যাবে।

 

অনলাইন ম্যাগাজিন মাদারবোর্ডকে হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন ভবিষ্যদ্বাদী জোলতান ইস্তাভান জানিয়েছেন, আগামী দুই দশকের মধ্যেই কৃত্রিম এই গর্ভধারণ পদ্ধতিটি পুরোপুরি ব্যবহারোপযোগী হয়ে যাবে এবং তিন দশকের মধ্যেই মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তিগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু আইনি ও নৈতিক বাধা থাকায় এই প্রযুক্তির প্রয়োগে দেরি হচ্ছে।