বিশেষ সংবাদ:

৪৫ বছর ধরে হাসপাতালের বিছানায়!

Logoআপডেট: রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০১৫

এবি ডেস্ক
দীর্ঘ ৪৫ বছর থেকে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছেন ব্রাজিলের এক বাসিন্দা। তাঁর নাম পাউলো মাচাডো। জানা গেছে, ছোটবেলা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি  করান। তারপর কেটে গেল সাড়ে চার দশক। কিন্তু রোগ থেকে মুক্তি পাননি দুর্ভাগা এই ব্যক্তি।

 

অবশ্য হাসপাতালে ভর্তি  করানোর সময় ডাক্তাররা বলেছিল কিছুদিন থাকতে হবে। সেই দিনটা কখন সপ্তাহ পেরিয়ে মাস, মাস পেরিয়ে বছর, বছর পেরিয়ে যুগ, আর যুগ পেরিয়ে হয়ত জীবন হতে চলেছে সেটা খেয়ালই ছিল না কারও।
সাও পাওলোর এই হাসপাতালে একের পর রোগিরা এসেছেন, কেউ সেরেছেন, কেউ হয়তো জীবনযুদ্ধে হেরেছেন, কিন্তু সেই একই বিছানায় জীবনযুদ্ধ লড়েই চলেছেন পাউলো। লড়তে লড়তে অনেকে যখন হাল ছেড়ে দেন, সেখানেই আবার নতুন করে লড়ার রসদ খুঁজেছেন। হাসপাতালে রোগি ও ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে কেটে গেল তার জীবনের ৪৫ বছর। 

 



হাসপাতালের নিয়ম মেনে ভিজিটিং আওয়ার্সটাতেই শুধু পরিবার, বন্ধু, কিংবা বাইরের লোকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেতেন পাউলো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য তাঁর জন্য নিয়ম বদলাতে চেয়েছিল, শুধু তাঁর জন্য ভিজিটিং আওয়ার্সের সময় ২৪ ঘণ্টা করে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু নিয়ম ভাঙতে রাজি হননি পাউলো।

 

এখনও শুধু ভিজিটিং আওয়ার্সেই বাইরের লোকদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পাউলোর যখন দুদিন বয়স, তখনই তাঁর মা মারা যান। কিছু দিন পর পাউলোর পোলিও আক্রান্ত হন। ব্রাজিলে তখন পোলিও রোগের প্রকোপ খুব বেড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রথম কটা দিন বেড পাননি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে অনেক কাজ করছেন পাওলো। হুইলচেয়ারে শুয়ে কম্পিউটারে কার্টুন বানান, মানে পেশায় তিনি কম্পিউটার অ্যানিমেটর। এখন নিজের জীবন যুদ্ধ নিয়ে একটা টেলিভিশন সিরিজের কাজে ভীষণ ব্যস্ত।
পাউলো বলেন, দআমি তো আর ফুটবল খেলতে পারি না, তাই মাথা খাটানোর কাজটার জন্য একটু বেশি সময় পাই। তাই কম্পিউটারের কাজটাই খুব ভালবাসিদ। হাসপাতালে সময় কাটান কি করে! জবাবে পাওলো বলেন, কী বলেন কী এটাই তো আমার ঘর। ঘরে সময় কাটানোর কত উপায়!