বিশেষ সংবাদ:

‘বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে নাট্যোৎসব’ শুরু

Logoআপডেট: শনিবার, ০৯ মার্চ, ২০১৯

এবি প্রতিবেদক
বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চ গৌরবময় শতবর্ষ অতিক্রম করেছে। নাট্যচর্চার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে এসব মঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তারই আলোকে দেশের ২৬টি জেলার ৩৫টি নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবার আয়োজন করেছে ‘বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে নাট্যোৎসব ২০১৯’।

বিভিন্ন সংগঠনের পরিবেশনায় প্রতিটি শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে একদিনের নাট্যোৎসব। ৯ মার্চ বিকাল ৫টায় ঢাকার হাতিরঝিলের এ্যাম্ফিথিয়েটারে তাৎপর্যবহ এ নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ ও উৎসব সমন্বয়কারী কালচারাল অফিসার সৌম্য সালেহ।

উল্লেখ্য, দেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চগুলোর ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং অবদানকে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। এই গ্রন্থের মধ্যে দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং শতবর্ষ অতিক্রান্ত ৩৫টি মঞ্চের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বইটি রচনা করেছেন একাডেমির মহাপরিচালক ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকী। সংকলন সহযোগী ছিলেন সৌম্য সালেক ও মারুফা মঞ্জুরী খান।

শতবর্ষী নাট্যমঞ্চগুলো হচ্ছে- কুমিল্লা টাউন হল, কুষ্টিয়া পরিমল থিয়েটার, খুলনা নাট্য নিকেতন, গাইবান্ধা নাট্যসংস্থা, গাজীপুর ভাওয়াল রাবজাড়ি নাট্যমণ্ডপ, ঝিনাইদহ করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব, টাঙ্গাইল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব, ঠাকুরগাঁও এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হল, দিনাজপুর নাট্য সমিতি, নীলফামারী ডোমার নাট্য সমিতি মঞ্চ, নওগাঁ করোনেশন হল, পাবনা বনমালী ইন্সটিটিউট, বাগেরহাট টাউন হল , ফরিদপুর টাউন থিয়েটার, বগুড়া এডওয়ার্ড ড্রামাটিক মঞ্চ, অশ্বিনী কুমার টাউন হল, বরিশাল, ময়মনসিংহ আমরাবতী নাট্যমন্দির এবং ময়মনসিংহ টাউন হল।

এছাড়াও রয়েছে- এল.পি মিশ্র ইন্সটিটিউট, ময়মনসিংহ, দূর্গাবাড়ি নাটমন্দির, ময়মনসিংহ, মাগুড়া টাউন হল, যশোর বি. সরকার মেমোরিয়াল হল, রংপুর টাউন হল, রাজবাড়ি সফিউর রহমান মিলনায়তন, ললিত মোহন মিত্র নাট্যমঞ্চ, রাজশাহী, রাজা প্রমদানাথ টাউন হল, রাজশাহী, লালমনিরহাট এম.টি. হোসেন ইন্সটিটিউট, সিলেট ক্ষীরোদ মেমোরিয়াল স্টেজ, নাটমন্দির, ব্রহ্ম মন্দির, বন্দরবাজার, সিলেট, মণিপুরী রাজবাড়ী নাটমন্দির, সিলেট, মালনীছড়া চা বাগান নাটমন্দির, সিলেট, সিরাজগঞ্জ পৌর ভাসানী মিলনায়তন, এবং ঢাকার মাহবুব আলী ইন্সটিটিউট, লালকুঠির ও কার্জন হল।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ৭-৯ মার্চ হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব-এর আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর হাতিরঝিলে অবস্থিত এম্ফিথিয়েটারে সাংস্কৃতিক উৎসবে থাকছে অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, সঙ্গীত, নৃত্য, যন্ত্রসঙ্গীত, মঞ্চনাটক, যাত্রাপালা, পালাগান, পাপেট শো, ব্যান্ড সঙ্গীত ও দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনা। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত।

৯ মার্চ তৃতীয় ও সমাপনী দিনের আয়োজনে শুরুতেই যন্ত্রসঙ্গীত সেতার পরিবেশন করেন- এবাদুল হক সৈকত। শিল্পীকে তবলায় সহযোগিতা করেন পণ্ডিত বিপ্লব ভট্টাচার্য। ফারহানা চৌধুরী বেবী, সাদিয়া ইসলাম মৌ, সোমা গিরি, সোহেল রহমান, অন্তর দেওয়ান-এর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশিত হয়।আ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দল। 

একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মেহরিন, ইয়াসমীন আলী, সরদার হিরক রাজা, মৌটুসী পার্থ, লুইপা ও সুচিত্রা রানি সূত্রধর। মিলন কান্তি দে এর পরিচালনায় যাত্রাপালা নবাব সিরাজউদ্দৌলার অংশ বিশেষ পরিবেশিত হয়। মাল্টিমিডিয়া পাপেট থিয়েটার প্রযোজিত মুস্তাফা মনোয়ার-এর পরিচালনায় পাপেট শো অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাশকুর এ সাত্তার কল্লোল এবং তামান্না তিথি।