বিশেষ সংবাদ:

জমকালো আয়োজনে ইয়াং স্টার সোসাইটি'র প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

Logoআপডেট: সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২০

আমার বিনোদন প্রতিবেদক
মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার মানসে ২০১৯ সালের ১লা নভেম্বর লক্ষ্মীপুরের একঝাঁক উদীয়মান ছাত্র জেলা শহরে প্রতিষ্ঠা করে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'লক্ষ্মীপুর ইয়াং স্টার সোসাইটি'। 'তারুণ্যের উদ্যোগ, মানব সেবায় করি ত্যাগ' -শ্লোগানে বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞে এরই মধ্যে সংগঠনটি অতিক্রম করেছে প্রতিষ্ঠার প্রথমবর্ষ। এ উপলক্ষে ১লা নভেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভা কমপ্লেক্সস্থ সোনার বাংলা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ১ম বর্ষপূর্তি ও রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহতী এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভা মেয়র ও ইয়াং স্টার সোসাইটি'র প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু তাহের।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন ও সাবেক অধ্যক্ষ- অধ্যাপক মাইন উদ্দিন পাঠান, জেলা পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান এড. রহমত উল্লাহ্ বিপ্লব। আয়োজনকে ঘিরে অডিটোরিয়াম জুড়ে ছিল রঙ-বেরঙের বেলুন ও ফুলেল বাহারি সাজসজ্জা। সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা তারেক আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ফারুক হোসেন শিহাব। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন হাফেজ মো. মোবারক করিম। 

 

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইয়াং স্টার সোসাইটির প্রধান আহ্বায়ক ফাহাদ হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে সংগঠনের বহুমুখী কর্মযজ্ঞ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোকপাত করেন। এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কয়েকজন উপদেষ্টা, স্থানীয় শিক্ষক এবং সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নগরপিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু তাহের বলেন, ‘আত্মমানবতার সেবায় যারা কাজ করে তারা যেমনিভাবে সমাজের কাছে সম্মনীয় তেমনি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছেও পছন্দের মানুষ। প্রথমদিকে আমি ইয়াং স্টারের কোমলমতি এইসব কিশোর-তরুণদের পর্যবেক্ষণ করেছি- তারা আসলে কী করে, তাদের উদ্দেশ্য কী। ধীরে ধীরে তাদের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এরপর থেকে তারা যখন যেই আবেদন নিয়ে গিয়েছে আমি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে আহ্বায়ক বেশ কিছু আবেদন করেছে। সব চাহিদা একসাথে মিটানো যাবে না। আমি তাদের কাজকে আরও গভীরভাবে দেখবো এবং এসব চাওয়া-পাওয়া তাদের কর্মকাণ্ডের উপরই নির্ভর করবে। ইয়াং স্টার সোসাইটি'র কর্মীরা যে গতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সততা ও নৈতিকতা নিয়ে এই গতি অব্যাহত থাকলে এই সংগঠন আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি বলবো- এই সংগঠনের ব্যানারে রক্তদান ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক নির্মূল এবং ইভটিজিং নিয়ে কাজ করতে। এ বিষয়েও আমি সর্বাত্মক সহায়তা করবো।’

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, ‘মাত্র একবছর সময়ে একটি সংগঠন এতোটা নিবেদিত কর্মকাণ্ড করেছে, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। কিন্তু দৃঢ়তার সাথে এই গতি ধরে রাখতে হবে। সততা, নৈতিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়বোধের সাথে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন অনেক সংগঠনই দেখেছি, যারা কিছুদিন কাজ করে একটা সময় জিমিয়ে পড়ে। আমি আশা করবো এই সংগঠন তেমন নয়। এরা সেই জায়গাটি ওভারকাম করে সামনে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। তারা নিজেদের সেই সামর্থ এরই মধ্যে দেখাতে সক্ষম হয়েছে। আমি তাদের সার্বিক সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

 

ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, ইয়াং স্টার সোসাইটি'র তরুণ ভাইয়েরা শুরু থেকে একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে। করোনা মহামারীর ভেতর অসহায় মানুষের জন্য তারা যে কর্মকাণ্ড করেছে তা খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু শুধু সংগঠন নিয়ে দৌঁড়ালে হবে না, পাশাপাশি লেখাপড়াও ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে।’

এড. রহমত উল্লাহ্ বিপ্লব বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকে আমি এই সংগঠনের সাথে যুক্ত। করোনার মধ্যে যেখানে মানুষ ঘর থেকে বের হওয়াটাই কঠিন, সেই সময়ে ইয়াং স্টার সোসাইটিসহ লক্ষ্মীপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যে ভূমিকা রেখেছে তা অবিস্মরণীয়। সংগঠনের রেজিস্ট্রিশন নিয়ে যে প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে এজন্য দাপ্তরিক যতো সহযোগিতা লাগে আমি করবো বলে সবাইকে আস্বস্ত করছি।’

 

ততক্ষণে অতিথিদের প্রাণছোঁয়া ও প্রেরণালব্ধ কথামালায় পরিপাটি এ আয়োজনে উপস্থিত সবার মাঝে মুগ্ধতা জাগে। বক্তব্যপর্ব শেষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে সংগঠনের গত একবছরের নানা কর্মকাণ্ডের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের হাত থেকে রক্তযোদ্ধা হিসেবে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন- জাহিদুল ইসলাম ফয়সাল, ইহসানুল হক পাবেল, মো. আব্দুল্লাহ-আল নোমান, সিমান্ত সোহান, তালহা জোবায়ের, আরমান হোসেন, সালাউদ্দিন রিফাত এবং ইসমাইল হোসেন।
এ ছাড়াও জেলায় সময়ের সেরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়- নন্দন ফাউন্ডেশন, মুক্তমালা ফাউন্ডেশন, সবুজ বাংলাদেশ, সেইফ আওয়ার লাইফ (সোল), অগ্রযাত্রা, বি কে বি, মানবতাই ধর্ম এবং রেনেসাঁ-কে। সব শেষে সভাপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।