বিশেষ সংবাদ:

লক্ষ্মীপুর জেলাব্যাপী পৌর ও ইউপি নির্বাচনে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য

Logoআপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০১৬

মো: ইউছুফ
লক্ষ্মীপুর জেলাব্যাপী তিনটি পৌর নির্বাচন ও জেলার ৫৮ টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক ইউনিয়নে ভোট গ্রহন শেষ হওয়ার পর দৃশ্যমান হয়েছে যে, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতা পাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল।

 

শুধু মাত্র নৌকা প্রতীকের দোহাই দিয়ে প্রশাসনের আনুকুল্য পেয়ে নির্বাচানী বৈতরনী পার হওয়ার পর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন এমন হচ্ছে? পুলিশ বাহিনী এমন বদনামের বিপরীতে বাহবা নিচ্ছে জেলা আওয়ামালীগ-এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

 

জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ তাদের এসিআর সমৃদ্ধ করছেন এই যুক্তিতে যে, তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে নৌকার গণজাগরন সৃষ্টি হয়েছে। নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে তাই সকাল ১১ টার পরই ভোট কাস্ট হচ্ছে ৮০ শতাংশ। রামগতি, রামগঞ্জ ও কমলনগরে ভোট গ্রহনের দিন নির্বাচনী কর্মকর্তা ছিল, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছিল, ভোটের দিন স্ট্রাইকিং ফোর্স ছিল কিন্তু চেয়ারম্যান ব্যালট হাতে দিয়ে দাও সদস্য ব্যালট প্রাথমিক অবস্থায় ভোটাদের হাতে দেওয়া হলেও পরে সেটাও দখল হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

ভোটাররা অভিযোগ করেন, নৌকা প্রতিকের মেয়র ও চেয়ারম্যান ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্ভব নয় মেনে নিলেও কাউন্সিলর ও ইপি সদস্য নির্বাচন করতেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। অশান্ত লক্ষ্মীপুরকে শান্ত করতে যে প্রশাসনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা সর্বমহলে প্রশংসনীয় ছিল সেই প্রশাসন ভোট কেন্দ্রে বহিরাগত ঠেকানোর জন্য কোন ভূমিকাই নিচ্ছেন না বলে সচেতন মহলের দাবী। তাই রামগতি, রায়পুর, রামগঞ্জে পৌরসভা নির্বাচনে জেলা শহর থেকে বহিরাগত লোক দিয়ে কেন্দ্র দখল করছে।

 

ভোট কেন্দ্রে পুলিশ বাহিনীর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারণেই একচেটিয়া সুবিধা নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল এটা প্রতিপক্ষ প্রার্থী নয় সাধারণ ভোটারদের মুখরোচক আলোচনায়ও স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কি উপরের নির্দেশে না কি স্থানীয় পর্যায়ের তা বোঝা যাচ্ছে না বলে জনমনে প্রশ্ন। উপরের নির্দেশ হলে দেশের অন্যান্য জেলায়তো নৌকা প্রতিক পরাজিত হচ্ছে এবং ধানের শীষ প্রার্থী কম জিতলেও অনেক জায়গায় সতন্ত্র প্রার্থী জিতছে। অন্যদিকে প্রশাসন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ থেকে কেমন অর্থ পায় তা জানা না গেলেও নৌকা প্রতিকের প্রতিজন ইউপি চেয়ারম্যান থেকে প্রশাসন ম্যানেজের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দিতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

পৌরসভার কাউন্সিলর বানানোর জন্য জেলা আওয়ামীলীগের এক গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি রামগঞ্জে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করতে গেলে আওয়ামীলীগ সমর্থক আরেক কাউন্সিলর কর্তৃক হেনস্তা হয়েছেন বলে জানা গেছে। সচেতন মহলের আকুল আবেদন, সুষ্ঠ ভোটের আয়োজন করলে মানুষ অন্তত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে মানসিক শান্তি পাবে।