বিশেষ সংবাদ:

বিয়ে করলে ধর্ষণের অভিযোগ মাফ!

Logoআপডেট: শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৬

এবি ডেস্ক
ইসলামে দৃষ্টিতে ধর্ষণ ভয়াবহ এক অপরাধ। প্রথমত, এটি ব্যাবিচার দ্বিতীয়ত, জুলুম বা কাউরো থেকে অন্যায়ভাবে কিছু কেড়ে নেওয়া। এখানে ধর্ষিত ব্যাক্তি সম্পূর্ণ নিরাপরাদ।

 

অনেক আলিমের মত অনুসারে, বিবাহিত ব্যাক্তির ব্যাবিচারের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি পাথর ছুড়ে মৃত্যুদন্ড। আবার আর্থিক জরিমানার পক্ষেও অনেকের মতবাদ রয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে তুরস্কের অবস্থান নিচ্ছে রূপ।

 

কেননা, তুরস্কে এরকম অপরাধের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়েই চলেছে। তাই ধর্ষণের মহামারী ঠেকাতে কৌশলীগত এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। তুরস্কে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোন মেয়েকে ধর্ষণের পর যদি ওই ধর্ষণকারী সেই মেয়েটিকে বিয়ে করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিয়ে ক্ষমা করে দেয়া হবে। এরকম একটি বিতর্কিত বিলে হঠাৎ করেই সমর্থন দিয়েছে তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টি।


তুরস্কের মানবাধিকার এবং নারী অধিকার সংগঠনগুলো এই প্রস্তাবিত আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, এই আইনের মানে দাঁড়াবে ধর্ষণকে আইনি বৈধতা দেয়া।
তুরস্কে সরকারি দল এ.কে. পার্টির এমপিরা প্রস্তাবিত এই আইনটিতে বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিকভাবে তাদের সমর্থন জানায়।


এই আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি শর্তে একবারের মতো ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে। শর্তটি হচ্ছে- ধর্ষক ওই ধর্ষিত নারীকে বিয়ে করতে হবে। প্রস্তাবিত এই আইনটি বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিটি ধর্ষিতা ওই মেয়েটিকে বিয়ে করলে তার সাজা মওকুফ করা হবে এবং তার বিচার খারিজ হয়ে যাবে। সরকার বলছে, এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- যারা না বুঝেই অল্পবয়সী কোন মেয়ের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছে তাদেরকে বিয়ে করার সুযোগ দেওয়া। তবে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে যেসব গ্রুপ তারা এর তীব্র সমালোচনা করছে। তারা বলছেন, যেসব পুরুষ জেনেশুনেই এই কাজটি করছিলো তাদেরকেও এই আইনের আওতায় ক্ষমা করা হবে এবং এর মধ্য দিয়ে ধর্ষণ আইনি বৈধতা পেয়ে যেতে পারে।


আগামী মঙ্গলবার যদি পার্লামেন্টে এই আইনটি পাশ হয় তাহলে আপাতত তিন হাজারের মতো পুরুষ বিয়ের সম্মতিক্রমে এই অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। জরিপে দেখা যাচ্ছে, তুরস্কে গত কয়েক বছরে যৌন হযরানির সংখ্যা ব্যপকহারে বেড়েছে এবং দেশটিতে নারীদের ৪০ শতাংশই কোন না কোনভাবে শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।