বিশেষ সংবাদ:

অভিজিৎ হত্যার দায় স্বীকার করেছে আনসার বাংলা-৭ নামে একটি সংগঠন

Logoআপডেট: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

এবি প্রতিবেদক
অভিজিৎ হত্যার দায় স্বীকার করে নিয়েছে আনসার বাংলা-৭ নামে একটি সংগঠন। তারা এই অভিযোগ স্বীকার করে টুইটারে পোস্টও দিয়েছে। সেই সঙ্গে অভিজিৎ রায়ের হত্যার জন্য দু’টি কারণও উল্লেখ করে তারা। অভিজিৎকে হত্যার জন্য তারা ভিন্ন ভিন্ন পোস্টে ২টি কারণ উল্লেখ করেছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে- ইসলামের বিরুদ্ধে অভিজিৎ এর ‘ক্রাইম’ করা। দ্বিতীয় পোস্টে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট তাদের (আনসার বাংলা-৭) দুই ভাই কুরসান ও সামকে শহীদ করেছে। তার প্রতিশোধ ও শাস্তি দিতে অভিজিৎকে গুপ্তহত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ব্লগার অভিজিৎকে হত্যার দুই ঘণ্টার মধ্যে এই হত্যার দায় স্বীকার করে টুইটারে পোস্ট দেয় আনসার বাংলা-৭ নামে ওই সংগঠনটি। এ বিষয়ে ডিএমপি রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান বলেন, ‘আনসার বাংলা-৭ এই হত্যার দায় স্বীকার করে টুইটারে যে পোস্টটি দিয়েছে সেটিকে আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি না। কারণ এই পোস্টটিও তদন্তের একটি অংশ। সবকিছু নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, হামলার মোটিভ শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই হত্যাকা- সম্পর্কে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কারা হত্যা করেছে- তা তদন্ত করা হচ্ছে। উগ্র ধর্মীয় চেতনার কোনো গোষ্ঠী অভিজিৎ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। সেজন্য হিযবুত তাহরীরসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ও জামায়াত-শিবিরের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

 

এদিকে অভিজিৎ রায়ের নির্মম হত্যাকা- তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন সাকি নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অভিজিতের হত্যাকা-কে ‘কাপুরুষতা ও বর্বরতায় ভয়ঙ্কর’বলে বর্ণনা করেন। এ হত্যাকা-ের নিন্দা জানিয়েই শুরু হয় এদিনের ব্রিফিং। মুখপাত্র বলেন, এটা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও ধর্ম নিরপেক্ষতার সার্বজনীন নীতি, যা বাংলাদেশের সংবিধানে সুরক্ষিত ও দেশটির গর্বিত ঐতিহ্য তার ওপর কাপুরুষোচিত হামলা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। আমরা অবশ্যই বিধি মোতাবেক কনস্যুলার সহায়তা দেব। যদি চাওয়া হয় তাহলে তদন্তে সহায়তার জন্যও আমরা প্রস্তুত। স্পষ্টত, আমরা তার অতীত সম্পর্কে জানি, যে কারণে আমি এটা বলেছি। তবে এ হত্যাকা-ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলার মতো আমাদের কাছে কিছু নেই।

 


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষক অভিজিৎ রায় একজন ব্লগার। ‘মুক্তমনা’ নামে একটি ব্লগের তিনি প্রতিষ্ঠাতা। ওই ব্লগে সাম্প্রদায়িক ও উগ্রধর্মীয় চেতনাবিরোধী লেখালেখি করতেন তিনি। অভিজিৎ রায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন। সপরিবারের ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এবার একুশের বইমেলায় দুটি বই প্রকাশ হয়েছে ড. অভিজিতের। এ কারণে তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি সপরিবারে দেশে ফিরেন তিনি। অনেক আগে থেকেই লেখালেখি নিয়ে অভিজিৎকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল বিভিন্ন ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী। অভিজিতের কয়েকজন সহকর্মী ও ব্লগার জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে অভিজিৎ রায় ব্লগে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন। বিশেষ করে উগ্র ধর্মীয় চেতনা ও ধর্ম নিয়ে যারা ব্যবসা করতেন তাদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। ‘মুক্তমনা’ ব্লগে এসব নিয়ে লেখালেখির কারণে সাম্প্রদায়িক শক্তির পক্ষে বিশেষ করে শিবির ও হিযবুত তাহরীর কেন্দ্রিক বেশকিছু ব্লগে তার বিরুদ্ধে লেখালেখি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন প্রকৌশলী অভিজিৎ।