বিশেষ সংবাদ:

একুশের কবিতা : ভুলিতে কি পারি

Logoআপডেট: রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ফারুক হোসেন শিহাব


বউ তার শুধু ভাবে কোথায় প্রিয়জন,
বিছানায় এপাশ-ওপাশ মানেনাতো মন।
বহুদিন হয়ে গেছে আসেনাকো পতি,
কখনো কি ভেবেছিল এই পরিণতি।


রাত যায় দিন আসে নেই কোন খোঁজ,
এই ভাবে ভেবে ভেবে কাটায় সে রোজ।
বউয়ের মায়ার সাথে কথার মালা-
চাওয়ালের মুখ থেকে খুলেছে যে তালা।


তার মুখে বাবা ডাক শুনবেনা তুমি?
হৃদয়টা ভরে যাবে দেখে তুনি-মুনি।
তোমার সখের পিঠা রেখেছি বানিয়ে,
আমার ধৈর্য্যও এখন এসেছ ঘনিয়ে।


তোমারে খাওয়াবো বলে মুরগীটা পুষি,
ঝালফ্রাই করে দেব খাবে তুমি আসি।
উঠানে লাগিয়ে যাওয়া পুঁইয়ের গাছে,
ফুলে ফুলে ভরে গেছে এখনো যে আছে।


কত মাস হয়ে গেছে দেখিনা ঐ মুখ,
তোমার চিন্তার আমার ধরেছে অসুখ।
চিঠি পেয়ে নাহি এলে পাব মনে ব্যাথা,
গোস্সা থাকবে শুধু থাকবেনা কথা।


তোমার পথের পানে চেয়ে আছি আমি,
চিঠি পেয়ে চলে এসো প্রাণপ্রিয়ো স্বামী।
অথচ, ফিরেনি স্বামী ফিরে তার লাশ!
একুশে ফেব্রুয়ারী হলো সর্বনাশ!!!


অ, আ, ফেস্টুন হাতে মিছিলের সারি,
স্বামী তার গিয়েছিল ভুলে যায় নারী।
সেই দিনের সে মিছিলে পুলিশের গুলি,
মাটিতে লুটায় স্বামী শ্লোগান তুলি।


চাওয়ালের মুখে সে বাবা নাহি শোনে,
না জানি ইচ্ছে কত ছিল তার মনে।
হলো না খাওয়া তার শখের পিঠা,
মুরগীর ঝালফ্রাই পুুঁইয়ের ডাঁটা।


হলো নাকো পাওয়া তার বউয়ের আদর,
আহাজারী-চিৎকারে বুক থর-থর।
বউয়ের বিলাপে আজো পৃথিবী ভারী,
ভাষার সে শহীদের ভুলিতে কি পারি?