বিশেষ সংবাদ:

সময়ের দেয়ালে পিষ্ট মানুষ

Logoআপডেট: শুক্রবার, ২০ মে, ২০১৬

রওশন রুবী

কাঁটালতা ঝোঁপ, তারপর বেড়ে ওঠা
আদিগন্ত হাঙরের ক্ষুধা মেটাতে মেটাতে
রোজ আমিও তো কোদালে তুলেছি মাটি,
নিড়ানি দিয়ে সচল রেখেছি ফসলের বায়ু চলাচল,

 

বৃষ্টি রোদ্দুর মেপে ফিরেছি ঘরে
ভোর এলে ছুটেছি নিতে প্রাণের খবর
আগাছার পর আগাছা তুলে
শূন্য গোলায় ভরেছি ফসল,
তারপরও মহাজন রক্ত চক্ষু বাঁকায়।

 

ঘরে স্বজনের পীড়া বন্ধক রাখি
নীল বেদনায় নিরব সময়ের কাছে ,
ঘুম আসেনা,আসেই না ঘুম,সুবাসিত ঘুম,
ঘুমলেই আসে শুধু সাপের হিস্ হিস্
শব্দময় জেগে উঠে একরোখা মহাজন।

 

একমুঠো কাপনের মতো ভাত
এক আজলা জল , এক বাটি ঝোল
পেতে চেয়ে
কতো শীত চলে গেছে পিষ্ট হতে হতে,
কতো গ্রীষ্ম পুড়েছে পিঠের পর ,
বর্ষার জল গেছে ভিজে ভিজে দেখে,
রুয়েছি বীজ যতো সময়ের স্নায়ুতে
কেন ফুরাচ্ছেনা তবুও অকাল।

 

এইভাবে বেঁচে থাকাকেও
বেঁচে থাকা বলে,
এই বেঁচে থাকা সফল হবে কবে
কবে আর মহাজন দুটি পরানের কথা ভালোবেসে বলে যাবে,
ছ'মাসের শ্রম বেচে, ছ'মাসেই ফুরাই,
কিছুতেই কেন যে ভালো লাগা নেই,
ভালো লাগা নিয়ে যাচ্ছে
এক দল মুখোসধারী ভাইরাস।

 

আমাদের জোনাকি নেভানো ,
ফসল ফলানো হাত ধরো ও স্বপ্নীল সুযোগ,
আমরা সময়ের দেয়ালে পিষ্ট মানুষ
যাদের শ্রমেই সংশয়হীন হয় অন্য জীবন।