বিশেষ সংবাদ:

চলে গেলেন বিশিষ্ট ক্রীড়ালেখক রণজিৎ বিশ্বাস

Logoআপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১৬

এবি প্রতিবেদক
পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন সাবেক সচিব ও নন্দিত লেখক ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতুবরণ করেন। জানাগেছে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি চট্টগ্রামে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্থানীয় সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। একসময়ের জনপ্রিয় এই ক্রীড়ালেখক দুই সন্তান অভিষেক বিশ্বাস হীরা ও উপমা বিশ্বাস মুক্তা এবং তার স্ত্রী শেলী সেনগুপ্তা সহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে যান। তিনি ছিলে অনন্য কথার যাদুকর।

 

তার মৃত্যুতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কৃতি এই লেখক, আবৃত্তিকার ও সংস্কৃতিজন তথা প্রগতিশীল ব্যক্তিত্বের মৃত্যু সংবাদে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আইটিআই’র সম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দে গভীর শোক ও তার পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তাহমিলুর রহমান জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রণজিৎ বিশ্বাস স্যার বুধবার রাতে চট্টগ্রামে আসেন পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে। দুপুরে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের ভিআইপি কক্ষ ‘বকুল’ এ বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকেও তিনি কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় এনডিসি তাকে ডাকতে যান। এসময় ভেতর থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে সার্কিট হাউসের কর্মচারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেন। সেখানে বিছানায় শোয়া অবস্থায় রণজিৎ বিশ্বাসের দেহ পড়ে থাকে। পরে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


উল্লেখ্য, রণজিৎ বিশ্বাস ১৯৭৩ সাল থেকে লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন। সে সময় তিনি বিভিন্ন বিষয় এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন।

 

ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাসের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৬ সালের ১লা মে তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা অপর্ণাচরণ বিশ্বাস ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদানকারী ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী শক্তি কর্তৃক উপর্যুপরি চারবার পদোন্নতি বঞ্চিত হন। এরপর বর্তমান সরকারের আমলে সচিব ও সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। সর্বশেষ তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।