বিশেষ সংবাদ:

‘রাঢ়াঙ’ নাটকের এককালীন শেষ প্রদর্শনী

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে আরণ্যক নাট্যদলের ‘রাঢ়াঙ’ একটি মাইলফলক। ২০০৪ সাল থেকে বিরতিহীনভাবে প্রদর্শিত হয়ে আসছে সাঁওতালদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত আলোচিত এ নাটক। নিয়মিত প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দেশে-বিদেশে জননন্দিত হওয়া এ নাটকটি আবারও আসছে জাতীয় নাট্যশালায়।
আগামীকাল ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির ১৮০তম প্রদর্শনী। এরপরই ঘটবে অনির্দিষ্ট সময়ের বিরতি। আবারও হয়তো কোনো এক সময় নাট্যপ্রেমীদের ভালোবাসার টানে মঞ্চে ফিরে আসবে ‘রাঢ়াঙ’। এমনটাই জানা গেছে দলীয়সূত্রে।

২০০০ সালে নওগাঁর সাঁওতালদের ভূমি বিদ্রোহ নিয়ে আবৃত হয়েছে ‘রাঢ়াঙ’-এর কাহিনি । ওই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন তরুণ আলফ্রেড সরেন। সাঁওতালদের সে বিদ্রোহ তখন দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। বিদ্রোহ দমাতে না পেরে জোতদারের দল আলফ্রেড সরেনকে হত্যা করেছিল। তার সেই আত্মদানের গল্প নিয়ে মামুনুর রশীদ রচনা করেন নাটক ‘রাঢ়াঙ’। নাটকটি নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
নাটকটি প্রসঙ্গে নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সাঁওতালি শব্দ ‘‘রাঢ়াঙ’’-এর অর্থ দূরাগত মাদলের ধ্বনি। এই নাটকে দূরাগত মাদলের ধ্বনির সঙ্গে শোষিত সাঁওতালদের জেগে ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঘাত-প্রতিঘাত, হাসি-কান্না, জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ ও হত্যার নির্মমচিত্র ফুটে উঠেছে।’

এতে আলফ্রেড সরেনের চরিত্রে অভিনয় করছেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ এবং ‘ব্যারিস্টার’ চরিত্রে মামুনুর রশীদ। এছাড়া অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী অভিনয় করছেন ‘দারোগা’ চরিত্রে, আ খ ম হাসান রয়েছেন ‘পুলিশ’ হিসেবে। পাশাপাশি জয়রাজ সাঁওতাল নেতা ও তমালিকা কর্মকার সাঁওতাল তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন।
‘রাঢাঙ’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। এরপর ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বেশকটি নাট্যোৎসবে অংশ নিয়েছে আরণ্যকের দর্শকনন্দিত এ নাট্য-আখ্যান। ২০১১ সালে নাটকটির শততম প্রদর্শনী এবং ২০১৫ সালে ১৫০তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, শহীদ মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’ নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করে আরণ্যক নাট্যদল। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন মামুনুর রশীদ। এরপর তিনি এ দলের হয়ে মঞ্চে আনেন ‘ওরা কদম আলী’, ‘ইবলিশ’, ‘অববাহিকা’, ‘আগুনমুখা’, ‘পাথর’সহ বেশকিছু আলোচিত নাটক। যা হয়ে আছে সময় ও কালের অনন্য সাক্ষী।