বিশেষ সংবাদ:

আবারও যুদ্ধবিরোধী নাটক 'ত্রিংশ শতাব্দী'

Logoআপডেট: শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
দেশের অন্যতম তারুণ্যদীপ্ত নাট্য-সংগঠন স্বপ্নদলের আলোচিত একটি নাটক ‘ত্রিংশ শতাব্দী’। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসীত ও দর্শকনন্দিত হয়েছে নাটকটি।
নিয়মিত মঞ্চায়নের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল ২২শে জুলাই রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে নাটকটি।

বাদল সরকারের মূল রচনা অবলম্বনে যুদ্ধবিরোধী গবেষণাগার এ প্রযোজনাটি রূপান্তরসহ নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে প্রযোজনাটির ৯৪তম প্রদর্শনী । এর আগে গত ৯ মে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয় নাটকটির ৯২তম মঞ্চায়ন এবং ১১ মে পরীক্ষণ থিয়েটার হলে ছিল ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ নাটকের আরেকটি বিশেষ মঞ্চায়ন।

যুদ্ধোন্মাদনার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ 'ত্রিংশ শতাব্দী'-র মূল কাহিনি পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকির আণবিক বোমা বিস্ফোরণের অনভিপ্রেত পরিণতি। যার সমান্তরালে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বসনিয়া-ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান-ভারত, ইরাকে আগ্রাসন, কুয়েত-তিউনিসিয়া-ইয়ামেন-সিরিয়া-তুরস্ক-মিয়ানমার-গুলশানে বর্বর হামলা প্রভৃতি প্রসঙ্গ।

‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনায় নানাবিধ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবাজ-যুদ্ধাপরাধী-অশান্তিকামীদের স্বরূপ এবং তাদের কর্মের তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী বীভৎসতার চিত্র উদঘাটিত হয়েছে। সভ্যতা ধ্বংসকারী মানবসৃষ্ট যুদ্ধ-গণহত্যা-অনাচারের বিপরীতে মানুষ হিসেবে বর্তমান কর্তব্য অনুধাবন এবং এক্ষেত্রে দর্শককে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুখোমুখি স্থাপনই ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার প্রত্যাশা। আর প্রযোজনাটির উপস্থাপনায় প্রয়োগ করা হয়েছে হাজার বছরের নাট্য-ঐতিহ্যের ধারায় আধুনিক ‘বাঙলা নাট্যরীতি’।

‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার গ্রন্থিকেরা হলেন জুয়েনা শবনম, ফজলে রাব্বি সুকর্ন, সামাদ ভূঞা, শিশির সিকদার, জেবুন নেসা, শাখাওয়াত শ্যামল, মেহেদী রানা, সোনালী রহমান, অর্ক অপু ও জাহিদ রিপন।

প্রসঙ্গত, স্বপ্নদলের ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনাটি দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইউরোপের স্বনামখ্যাত নাট্যোৎসব ‘১৩তম এ সিজন অব বাংলা ড্রামা-২০১৫’, নয়াদিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি)-তে এশিয়ার বৃহত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ ভারতের রাষ্ট্রীয় নাট্যোৎসব ‘১৭তম ভারত রঙ মহোৎসব-২০১৫’, কলকাতার দমদমে ‘শম্ভু মিত্র ও বিজন ভট্টাচার্য স্মৃতি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব-২০১৬’ সহ ভারতের নানা স্থানে বেশ কিছু আমন্ত্রিত প্রদর্শনীর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।