বিশেষ সংবাদ:

শিল্পকলায় আজ উদীচীর ‘হাফ আখড়াই’

Logoআপডেট: শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ১৯৬৮ সালে বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, সহ একঝাঁক তরুণ উদীচী গঠন করেন। জন্মলগ্ন থেকে উদীচী গণমানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ নির্মাণে সংগ্রাম করে আসছে।

সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নাটকসহ সংস্কৃতি ও এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের নৈতিক অধিকার আদায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে নিবেদিত এই সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিশেষ করে নিয়মিত আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে উদীচী। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আলোচিত নাটক ‘হাফ আখড়াই’।

উদীচীর অন্যতম প্রধান সংগঠক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক রতন সিদ্দিকী রচিত দর্শকনন্দিত এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম। ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলা টপ্পা গানের একটি দলকে ঘিরে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, নারীর প্রতি সে সময়ের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী, ধনী-গরীব বৈষম্য নাটকটির মূল প্রতিপাদ্য। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন উদীচী কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগের শিল্পীরা।

১৮০৪ সালে বাংলা টপ্পা গানের জনক রামনিধি গুপ্ত কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন আখড়াই। নিজস্ব পদ্ধতিতে সঙ্গীতশিক্ষা প্রচলনের মাধ্যমে দ্রুত কলকাতার অভিজাত শ্রেণির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। কিন্তু বয়সের-ভারে শিষ্য মোহনচাঁদের কাছে শিক্ষাগুরুর দায়িত্ব হস্তান্তরের পরই ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে তার প্রতিষ্ঠিত আখড়ার চেহারা।

মোহনচাঁদের হাতে দলের দায়িত্ব যাওয়ার পর বাংলা টপ্পা গানের আরেক বাঁক পরিবর্তন দেখা দেয়। এ পরিবর্তন শৈল্পিক না হয়ে ছিল গণমানুষমুখী। এতে করে গুরু-শিষ্যের দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে মোহনচাঁদ গঠন করেন আলাদা দল, যার নাম দেয়া হয় ‘হাফ আখড়াই’। এমনি ঘটনা ও দ্বন্দ্বচক্রে আবৃত হয়েছে নাটকটি।