বিশেষ সংবাদ:

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে মঞ্চে ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, শ্রাবণের রাতে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য নৃশংসভাবে হত্যা করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারবর্গকে। নিজ পিতাকে হত্যার এ লজ্জা বাঙালিকে বয়ে বেড়াতে হবে যুগের পর যুগ। তাই তো শ্রাবণের বৃষ্টি যেন প্রতি বছর বাঙালির জীবনে কান্নার রূপ ধরে আসে।

ক্যালেন্ডারের পাতায় থাকা শ্রাবণ মাস যেন শুধুই বেদনার, স্বজন হারানোর কষ্টের, কান্নার। এবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে সুপরিকল্পিতভাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে গবেষণালব্ধ মঞ্চনাটক ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’। নাট্যকার আনন জামান রচিত এ নাটকটি পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন আশিক রহমান লিয়ন।

গতকাল ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হয় মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় প্রযোজিত এই নাট্যাখ্যানের উদ্বোধনী প্রদর্শনী। একই আবহে আজ ১৪ আগস্ট এবং আগামীকাল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে নাটকটি মঞ্চায়িত হবে বলে জানা গেছে।

‘জানো নাকি মানুষ, শ্রাবণ কতখানি শ্রাবণ হলে বত্রিশ নম্বর বাড়িটির সিঁড়ির রক্তচিহ্ন মুছে দেয়া যাবে’ এই সংলাপের মধ্য দিয়ে পুরো জাতির কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয়। দর্শকদের আবেগ-উপলব্ধিকে তাড়িত করা হয় দেশ-মাতৃকার জন্য বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও ত্যাগের মহিমাকে ইঙ্গিত করার মধ্য দিয়ে।

নির্দেশক জানান, দীর্ঘ ১০ মাস ধরে এ পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা ও পাঠচক্র এবং দেড় মাস ধরে একটানা মহড়া করে উদ্বোধনী মঞ্চায়ন প্রস্তুতির জন্য প্রায় ৪০ জন নাট্যকর্মী নিয়মিত অভিনয় ও নেপথ্যে কাজ করছেন। তবে মঞ্চে অভিনয়ে রয়েছে ২৫ জন নাট্যকর্মী।

নাটকটি প্রসঙ্গে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের অধিকর্তা মীর জাহিদ হাসান বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনে যান তখন থেকে হত্যাকাণ্ডের প্রক্রিয়া শুরু। বঙ্গবন্ধু যখন ভারতে যান তখনো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

সর্বশেষ ১৯৭৫ সালে এসে কুচক্রী মহলটি সফল হয়। একটি ভূখণ্ডে জাতির পিতা হয়ে ওঠার যে দীর্ঘ জার্নি অর্থাৎ ভাষা সংগ্রাম থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ, তিনি মানুষের নেতা কীভাবে হয়ে উঠলেন, কীভাবে জাতির পিতা হয়ে উঠলেন তাও নাটকে তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।’ নিয়মিত প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জেলা শহরে নাটকটির প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 নাটকের নির্দেশক আশিক রহমান লিয়ন বলেন, ‘নাট্যকার আনন জামান রচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারকে নারকীয় হত্যাকাণ্ড এবং ওই সময়ের রাজনীতি ও ষড়যন্ত্রের একটি ইতিহাস পাঠ হলো ‘‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’’। আমি নির্দেশক হিসেবে এই নাট্য প্রয়াসকে শুধু ইতিহাসের পাঠ হিসেবে না দেখে, তৎকালীন ঘটনার গভীরে ঢুকে নাটকে উপস্থাপিত ইতিহাসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।’

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন- কবির আহমেদ, মো. শাহনেওয়াজ, সামিউল জীবন, পলি বিশ্বাস, ফারুক আহমেদ সেন্টু, মনিরুল আলম কাজল, রাজিব হোসেন, শিবলী সরকার, শাহরিয়ার হোসেন পলিন, তারেকেশ্বর তারোক, আহাদুজ্জামান কলিন্স, সুমাইয়া তাইয়ুম নিশা, আরাফাত আশরাফ, স্বপ্নিল, আজহার, পিয়াসী জাহান, কাজী তারিফ, তাজুল রনি, রেদোয়ান, সিয়াম রাব্বি, জুনায়েদ, নূর আকতার মায়া, রাফি, রিফাত হোসেন জুয়েল, ইকবাল চৌধুরী, মীর নাহিদ আহসান এবং মীর জাহিদ হাসান।

আশিক রহমান লিয়নের মঞ্চ-আলো-পোশাক ও আবহসঙ্গীত পরিকল্পনায় নাটকটির কোরিওগ্রাফি করেছেন আমিনুল আশরাফ। সৈকত নাসিরের অ্যানিমেশনে নাটকের আবহসঙ্গীত সম্পাদনা করেছেন কাজী মোহাইমিনুল হক। নাটকের পোস্টার ডিজাইন করেছেন দেবেন্দু উদাস এবং রূপসজ্জায় রয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নাটকটি নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।