বিশেষ সংবাদ:

ঢাবি’র নাটমণ্ডলে ৬ রজনীতে ‘ম্যাকবেথ’

Logoআপডেট: রবিবার, ০৭ অক্টোবর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রযোজনায় উইলিয়াম শেক্সপীয়র রচিত ও সৈয়দ শামসুল হক অনূদিত মহাকাব্যিক নাটক ‘ম্যাকবেথ’ মঞ্চে আসছে আগামী ৯ অক্টোবর। নাটকটি নির্দেশনায় রয়েছেন উক্ত বিভাগের অধ্যাপক ও স্বনামধন্য নাট্যজন ড. ইসরাফিল শাহীন।

ঢাবি’র থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের এমএ সমাপনী সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের অভিনয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ম্যাকবেথ’। আসছে ৯, ১০, ১১ ও ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬:৩০ এবং ১২ এবং ১৩ অক্টোবর বিকাল ৪ টা ও সন্ধ্যা ৭টায় ঢাবি’র নাটমণ্ডলে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির ৮টি প্রদর্শনী। ৯ অক্টোবর নাট্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন উপমহাদেশের খ্যাতনামা নির্দেশক অধ্যাপক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। যার পরিকল্পনা ও সহযোগীতায় আছেন বিভাগীয় শিক্ষক তানভীর নাহিদ খান ও মহসিনা আক্তার। এছাড়া এমএ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনার্স ২য় সেমিস্টার, ৪র্থ সেমিস্টার ও ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরাও এ প্রযোজনায় অভিনয় এবং নেপথ্যের কাজে অংশ নিয়েছে। এই সৃষ্টিপ্রক্রিয়া যেন বিভাগের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারি সকলের শ্রম-শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-উদ্ভাবনের যৌথ উদযাপন-চিহ্নে পরিণত হয়েছে।

নাটকটি প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন বলেন, ‘‘এই আততায়ী সময়ে অামাদের জীবন, আমাদের দেশ, আমাদের পৃথিবীর অন্তর্গত বিপন্নতা যেন হত্যা ও রক্তে পরিপ্লুত ম্যাকবেথের মতন রাজনৈতিক-মনস্তাত্ত্বিক নাটকটিতে শেক্সপীয়রীয় স্থান-কালরহিত এক অমোঘ ভাষায় ফুটে ওঠেছে। আমরা যা করে ফেলি আর আমাদের নৈতিক মূল্যবোধ অর্থাৎ কর্ম ও মর্ম-এ দুয়ের সংঘর্ষই যেন ম্যাকবেথ। এই সংঘর্ষই যেন মানুষের নিয়তি। এই নিয়তি থেকে কি আমাদের নিস্তার নেই?

এইসব প্রশ্ন মোকাবিলা করতেই থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ সমাজকে নিমন্ত্রণ জানায় ‌‘এসো, আমরা বীজ বপন করি, তাহলে মাটি আমাদের একটি ফুল উপহার দেবে।’ এই উপহার আমাদের জানান দেয়- ‘আমরা বেঁচে থাকি কেবলমাত্র সৌন্দর্য আবিষ্কারের কারণে।’ এই আবিষ্কার রাজনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয়। কারণ ‘রস আস্বাদন করতে পারার মধ্যেই রয়েছে যাবতীয় সমতার সম্ভার।’’

নাটকে- স্কটিশ সেনাপতি ম্যাকবেথ যুদ্ধ জয় করে ফিরে আসার পথে একদল রহস্যময় শক্তি তাদের পথ রোধ করে ভবিষ্যদ্বাণী উচ্চারণ করে বলে- ম্যাকবেথ হবে কডোর প্রধান ও পরে রাজা এবং ব্যাংকো হবে রাজার আদি পিতা। ম্যাকবেথের চিঠি পেয়ে লেডি ম্যাকবেথ বিস্তারিত জানতে পারে। অতঃপর রাজাকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন ম্যাকবেথ। রাজা হত্যার দায় এড়াতে কৌশলে একে একে হত্যা করেন ডানকানের দেহরক্ষী, ব্যাংকো, ম্যাকডাফের স্ত্রী ও সন্তানদের। রহস্যময় শক্তির মোহে ম্যাকবেথ ভুলে যায় যে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। এক সময় লেডি ম্যাকবেথ অনুতাপে দগ্ধ ও অসুস্থ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন। এমনি গল্প-আখ্যানে গড়ে উঠেছে নাটক  ‘ম্যাকবেথ’।

উল্লেখ্য, এ নাটকটির প্রতিটি প্রদর্শনীতে আসন সংখ্যা মাত্র ৮৫টি এবং টিকিটের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৩০০ ও ২০০ টাকা। প্রসঙ্গত, এর আগে প্রথম ঢাকার মঞ্চে ‘ম্যাকবেথ’ নাটকটি নিয়ে আসে দেশের প্রথম সারির নাট্যসংগঠন নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় এবং পরে ২০১৩ সালে নাটকটি মঞ্চে আনে পদাতিক নাট্য সংসদ। এছাড়াও একাধিকবার নাটকটি ঢাবির একাডেমিক প্রোডাকশন হিসেবে মঞ্চে তোলা হয়।