বিশেষ সংবাদ:

আনন্দ মুখরতায় ‘গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব’ শুরু

Logoআপডেট: শনিবার, ০৬ অক্টোবর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

আবারও শুরু হলো ‘গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব’। দুই বাংলার অভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনগণের মৈত্রীর বন্ধনকে আরো সুদৃঢ়তর করার লক্ষে ৫ অক্টোবর শুক্রবার জমকালো আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আলোচিত ও বহুলপ্রতিক্ষিত এই আসর। 

৫ অক্টোবর বিকাল ৫টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ১১ দিনব্যাপী ‘গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৮’-এর উদ্বোধন করেন ভারতের বিশিষ্ট নাট্যজন শ্রী বিভাস চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের নাট্যজন মামুনুর রশীদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

এছাড়া উদ্বোধনী পর্বে সম্মানীত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান, নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। উৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পর্ষদের সদস্য সচিব আকতারুজ্জামান।

এছাড়া উৎসবকে আরও প্রাণোচ্ছ্বল করার লক্ষে প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে আসরের শুভ উদ্বোধনের জন্য গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক পর্ষদের পক্ষ থেকে সকল জাতীয় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি আসরকে আরো আলোময় করে তোলে। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালায় ভারতের ড্যান্সার্স গিল্ড পরিবেশন করে জোনাকী সরকারের নির্দেশনায় ও ড. মঞ্জুশ্রী চাকীর কোরিওগ্রাফীতে নৃত্যনাট্য ‘তোমারই মাটির কন্যা’।

গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব পর্ষদের আয়োজনে এবার দর্শকনন্দিত প্রযোজনা নিয়ে ভারতের ৪টি নাট্যদল, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ২৬টি নাট্যদলসহ মোট ৩০টি থিয়েটার সংগঠন অংশ নিয়েছে সপ্তমবারের মত অনুষ্ঠিতব্য এ আসরে। ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন, পরিক্ষণ থিয়েটার হল ও স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৃহত্তর এই সাংস্কৃতিকযজ্ঞ।

প্রতিসন্ধ্যায় নাটক মঞ্চায়ন ছাড়াও প্রতিদিন বিকেলে উন্মুক্ত মঞ্চে থাকছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। ৯টি পথ নাটক, ১৮টি আবৃত্তি সংগঠনের আবৃতি, ১৮টি সঙ্গীত সংগঠন ও ১৮টি নৃত্য সংগঠনের পরিবেশনা, একক আবৃত্তি এবং একক সঙ্গীত পরিবেশনা নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের মুক্তমঞ্চের আয়োজন। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণে উদযাপিত হচ্ছে এবছরের ‘গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব’।

উন্মুক্ত মঞ্চের সাংস্কৃতিক পর্ব প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়ে চলছে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এবং মঞ্চনাটক শুরু হচ্ছে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায়।

উল্লেখ্য, উৎসবে মঞ্চনাটক, নৃত্য, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও পথনাটকে ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৯৬টি দল অংশগ্রহণ করছে। উৎসব সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডে। 

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-ভারতের স্বনামধন্য বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে নানা বিষয়-বৈচিত্র্যের পরিবেশনা নিয়ে গত ৬ বছর ধরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব।