বিশেষ সংবাদ:

আজ গঙ্গা–যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবে ‘গ্যালিলিও’

Logoআপডেট: রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

আজ ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাড়াজাগানো নাটক ‘গ্যালিলিও’। গঙ্গা–যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসবে নাট্যপ্রদর্শনীর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির বিশেষ এই মঞ্চায়ন। আয়োজনকে ঘিরে ২০ বছর পর নাটকটি আবারও মঞ্চে এনেছে নাগরিক। নাটকসরণি-খ্যাত মহিলা সমিতি মঞ্চে গত ৫ অক্টোবর একটি সফল প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঞ্চের খ্যাতিমান অভিনেতা আলী যাকের এ নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

প্রায় তিন দশক আগে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ‘গ্যালিলিও’ নাটকটি প্রদর্শনী শুরু করেছিল। তখন নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যজন আতাউর রহমান। আড়াই ঘণ্টার নাটকটি একাধারে দশ বছর অসংখ্য প্রদর্শনী হয়েছিল। এবার নবরূপে নাটকটি দেড় ঘণ্টার হয়ে মঞ্চে আসছে। নব রূপায়নে ‘গ্যালিলিও’ নির্দেশনায় রয়েছেন পান্থ শহারিয়ার।

নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে আলী যাকের বলেন, ‘আমার বয়স বেড়েছে বলে এবার মঞ্চে মুভমেন্ট কমে গেছে, ব্যাপারটা এমন নয়। গ্যালিলিও  সব সময়ই এমনই ছিল। আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, এখনকার মঞ্চনাটকের ইন্টারপ্রিটেশন হলো অনেকটা অ্যাক্রোবেটিক (শরীরী কসরতের)। আমি অ্যাক্রোবেটিকে বিশ্বাসী নই। আমি সার্কাসের বেলায় অ্যাক্রোবেটিকে বিশ্বাস করি, অভিনয়ের বেলায় নয়।’

নাটকটি প্রসঙ্গে নির্দেশক পান্থ শাহরিয়ার বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর নাটকটি এখন থেকে আবার নিয়মিত মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে। নাটকের সেই সময়কার অভিনেতা আলী যাকের এবং আসাদুজ্জামান নূরকে পাচ্ছেন দর্শকরা অভিনেতা হিসেবে। ৫ অক্টোবর এই দুই অভিনেতা পূণরায় মঞ্চে ফিরেছেন।’

গ্যালিলিও নাটকের আন্দ্রে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দর্শক নন্দিত অভিনেতা খালেদ খান। তিনি কয়েক বছর আগে পরলোকগমন করেন। এই চরিত্রে এবার নির্দেশক পান্থ শাহরিয়ার অভিনয় করবেন। এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুহে তামান্না লাবণ্য, শফি আলম বাবলু, অভি বিশ্বাস, মাহফুজ রিজভী, আবদুর রশীদ, কামরুজ্জামান পিন্টু।

ব্রেটল ব্রেখটের ‘দ্য লাইফ অব গ্যালিলিও গ্যালিলি’ অবলম্বনে নাটকটির অনুবাদ ও নাট্যরূপ দিয়েছেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। নাটকটির মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন অপি করিম এবং প্রযোজনা অধিকর্তা হিসেবে রয়েছেন সারা যাকের।

এ নাটকের কাহিনিকাল ১৬০৯ সাল। ইতালির বিখ্যাত পদার্থ ও অঙ্কশাস্ত্রবিদ গ্যালিলিও গ্যালিলি ঘোষণা করলেন, সূর্য স্থির ও পৃথিবী ঘূর্ণায়মান। আরও বললেন, সৌরজগতে স্ফটিক স্তর বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। এর আগে মানুষ জানত, পৃথিবী স্থির ও সূর্য এর চারপাশে ঘুরে আলোকিত করছে পৃথিবীকে।

মানুষের এতদিনের বিশ্বাসে আঘাত হানে গ্যালিলিওর এ মতবাদ। খেপে উঠেন চার্চের অধিকর্তা। এরও আগে এমন কথা বলায় পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল একজনকে। যুক্তিকে সঙ্গী করে গ্যালিলিও ছুটে যান মানুষের কাছে। প্লেগের মতো মহামারিও তাকে আটকে রাখতে পারেনি। চার্চের ক্ষমতা আর রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনেও মাথা নত করেননি।

তবে শারীরিক যন্ত্রণার কাছে নতি স্বীকার করে ১৬৩৩ সালের ২২ জুন স্বীকার করেন তার মতবাদ ভুল। সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় ইতালির সমস্ত গবেষণা, নতুন চিন্তা আর আবিষ্কারের পথ। গ্যালিলিওকে কলঙ্কের নাম বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, গ্যালিলিও চলে যান ধর্ম আদালতের কড়া নজরদারীতে। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন আর্চ বিশপের মতামত দেওয়া আর হোরেসের মধ্যে। কিন্তু নিজের মধ্যে গর্ববোধ আগলে রেখেছিলেন সযত্নে। মৃত্যুর আগে লিখে রেখেছিলেন তার মতবাদ। পরবর্তী প্রজন্মকে জানিয়ে গিয়েছিলেন বিজ্ঞান সাধারণের জন্য, সবার জন্য।

 

 

এবি/রায়হান