বিশেষ সংবাদ:

উদীচীর গৌরবময় সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব

Logoআপডেট: শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

যথাযোগ্য মর্যাদায় সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী উদযাপন করছে গৌরবময় সুবর্ণ জয়ন্তী। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সংগঠনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভেতর দিয়ে পার করল পথচলার ৫০ বছর। এ উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচী পালনের ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী সমাপনী উৎসব।

‘আঁধারবৃন্তে আগুন জ্বালো, আমরা যুদ্ধ আমরা আলো’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আজ শনিবার সকালে সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সাবেক পাঁচ সভাপতি পান্না কায়সার, হাসান ইমাম, অধ্যাপক যতীন সরকার, গোলাম মোহাম্মদ টিপু ও  কামাল লোহানী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, উদীচীর উপদেষ্টা কমরেড মনজুরুল আহসান খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আমন্ত্রিত অতিথিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর পরই শহীদ মিনার থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার বাকি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে। অনুষ্ঠানমালার তালিকায় থাকছে গণসঙ্গীত, সেমিনার ও আলোচনাসভা। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে উদীচী এরই মধ্যে জাতীয় সাংস্কৃতিক সম্মেলন, সত্যেন সেন গণসঙ্গীত উৎসব, জাতীয় গণসঙ্গীত প্রতিযোগিতা, নৃত্য উৎসব ও লোকসংস্কৃতি উৎসব পালন করেছে।

উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাজ করাই উদীচীর স্বার্থকতা। সে লক্ষ নিয়ে এগিয়ে চলেছে সংগঠনটি। গৌরবোজ্জ্বল এ পঞ্চাশ বছরকে স্মরণীয় করার লক্ষে এ আয়োজন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৬৮ সালে বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন উদীচী গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ উদীচীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। জন্মলগ্ন থেকে উদীচী অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম করে আসছে। উদীচী ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১ সালে বাঙালির সার্বিক মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে গড়ে তোলে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম।

এ সংগ্রাম গ্রাম-বাংলার পথে-ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালে উদীচীর কর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। দেশের সকল গণতান্ত্রিক, মৌলবাদবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে এ সংগঠন বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে সারাদেশে উদীচীর তিন শতাধিক শাখা রয়েছে। দেশের বাইরেও ছয়টি দেশে শাখা রয়েছে উদীচীর। ২০১৩ সালে এই সংগঠনটি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক লাভ করে।