বিশেষ সংবাদ:

যৌন হয়রানির দায়ে ভূঞাপুরে সাংবাদিক গ্রেপ্তার

Logoআপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৪

সোহেল পারভেজ, টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
ভূঞাপুরে এক মুসলিম নারীর দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে নওমুসলিম হয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষনের ঘটনার মামলায় আসামী অভিজিৎ ঘোষকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের কানাইলাল ঘোষের বকাটে ছেলে এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার স্বশিক্ষিত ভূঞাপুর সংবাদদাতা।

জানা যায়, উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের কানাই লাল ঘোষের ছেলে অভিজিৎ ঘোষ বছর তিনেক আগে গোবিন্দাসী বাজারের বাহাজ মার্কেটে অভি মিডিয়া হাউজ নামে একটি দোকান ভাড়া নেন।

সে ওই দোকানে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিতো। প্রায় এক বছর আগে গোবিন্দাসী স্কুলের ১০ম শ্রেণির দরিদ্র এক মুসলিম নারী ওই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেয়া শুরু করে। ওই মুলিম নারীর মা অভিজিতের পাশের দোকানে টেইলার্সের কাজ করতো। দরিদ্র হওয়ায় অভিজিৎ ঘোষ ওই মেয়েকে ফ্রি প্রশিক্ষণ দেয়ার আশ্বাস দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষার ফি, ফরমপূরনের ফি, জামাকাপড়সহ নানা ধরনের জিনিসপত্রও কিনে দেয় প্রতারণার ফাঁদ পাতে অভিজিৎ। এভাবে তাদের মধ্যে গভির বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিছুদিন যেতে না যেতেই তা প্রেমের সম্পর্কে রুপ নেয়।

অভিজিৎ ওই মেয়েকে নিয়ে নদী এলাকায় ও যমুনা আনন্দ পার্কে নিয়মিত ঘুরে বেড়াতে থাকে। একপর্যায়ে নওমুসলিম হয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাথে নিয়মিত শারীরীক সম্পর্ক চালাতে থাকে।

বিষয়টি জানাজানি হলে ওই মুসলিম নারী অভিজিৎ ঘোষকে মুসলমান হয়ে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু অভিজিৎ রাজি না হওয়ায় ওই মুসলিম নারী অভিজিৎকে আসামী করে ৯ই মে ভূঞাপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং -৭। মামলা দায়েরের পর পলাতক থাকে সে। ৩ জুন অভিজিৎ হাইকোর্ট থেকে ২ সপ্তাহের জামিন নেয়।

ওই সময়সীমার মধ্যে তাকে নি¤œ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু অভিজিৎ ঘোষ হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নি¤œ আদালতে হাজির না হয়ে ইত্তেফাক পত্রিকার সংবাদদাতা দাপট খাটিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে থাকে এবং মামলার বাদী ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।