বিশেষ সংবাদ:

মায়ের জন্য স্যরি ও ভালোবাসা এবং ধন্যবাদ

Logoআপডেট: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

আশরাফুজ্জামান মিনহাজ

গবেষক, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, কানাডা

 

মায়ের সমস্ত সত্তা জুড়ে থাকে সন্তান। সন্তানের সংখ্যা যতই হোক না, মায়ের ভালবাসায় টান পড়ে না কখনোই! সন্তানের আদর-যত্ন, সুবিধা-অসুবিধা, শখ, আবদার- সব দিকেই থাকে মায়েদের সমান নজর।

 

মায়ের পৃথিবীতে জুড়ে যেন সব সময়েই থাকে কেবল সন্তানের উপস্থিতি। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর যখন থেকে মায়ের ওপর নির্ভরতা কমে যায় সন্তানের, একটু একটু করে যেন মাতা-সন্তানের দূরত্ব বাড়তে থাকে। সম্পর্কে চলে আসে একটা আড়ষ্টভাব, আড়াল। ফলে মা-সন্তানের মধুরতম সম্পর্ক মিষ্টতা না হারালেও ঢাকা পড়ে যায় একটুখানি।

 

মা শুধু আমাদের খেয়ালই রাখেন না, সেই সাথে মেনে নেন আমাদের সব অন্যায় আচরণ। মনে করে দেখুন তো, কখনোই কি মা’র সাথে অন্যায় আচরণ করেননি? করে থাকলে কি মাফ চেয়েছিলেন তাঁর কাছে? আপনি হয়তো বলবেন, তার দরকার নেই। মা তো এমনিতেই ক্ষমা করে দেন!

 

মা’কে বলুন SORRY
মা হলেন মমতার আধার। সন্তান অন্যায় আচরণ করে ফেললেও তা মনে রাখেন না। মনে কষ্ট পেলেও প্রকাশ করেন না, ব্যাপারটিকে এড়িয়ে যান খুব সহজেই। হয়তো কিছুদিন অভিমানে একটু চুপচাপ থাকেন, কিন্তু সন্তানের প্রতি ভালবাসায় সে অভিমানও টিকে থাকে না।

মা’র সাথে মনোমালিন্য ঘটলে আপনিই না হয় দ্বিধা ভুলে এগিয়ে যান! যদিও মা আপনার কাছ থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা আশা করেন না, তারপরও তাঁকে ‘স্যরি’ বলুন। মা’র কাছে ক্ষমা চাইলে কেউ ছোট হয় না, তাই নিজের ‘ইগো’কে ভুলে যান।

 

মায়ের সাহায্য নিতে যদি ‘ইগো’ বাধা না দেয়, তাহলে মাকে ‘সরি’ বলতে ‘ইগো’ বাধা দিলে সেটাকে পাত্তা না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে! এই ছোট্ট একটা শব্দ ‘সরি’ মায়ের সাথে আপনার মানসিক দূরত্ব কমিয়ে দেবে অনেকখানি। আপনাদের দুজনের নৈকট্য বেড়ে যাবে অকল্পনীয়ভাবে। আপাতদৃষ্টিতে ‘দুঃখিত’ বা ‘সরি’ বলাটা হয়তো অনেক ফর্মাল মনে হচ্ছে, কিন্তু এ ব্যাপারটিই মা ও সন্তানের সম্পর্ককে করে তুলবে আরো সহজ, দূর করে দেবে আড়ষ্টতা।

প্রকাশ করুন ভালোবাসা
মাকে ভালবাসে সবাই। কিন্তু সবাই কি সেটা প্রকাশ করতে পারেন? মাও জানেন যে তাঁর সন্তান তাঁকে ভালবাসে। তাই ভালবাসার প্রকাশবিধি নিয়ে তাঁর তেমন মাথাব্যথা থাকে না!

কিন্তু মাকে যদি একবার মুখ ফুটে বলতে পারেন যে তাঁকে অনেক ভালবাসেন, তাহলে কী হবে? মা অবশ্যই খুশি হবেন! কারণ ব্যাপারটা তাঁর কাছে অনেকটা ‘সারপ্রাইজ গিফট’-এর মতোই!

 

মাকে নিজের চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছে-আবদারের কথা বলতে কোনো দ্বিধা হয় না, তাহলে নিজের ভালবাসার কথা বলতে এত দ্বিধা কেন? অনেকেই মাকে অকপটে সব কথা বলতে পারেন, কিন্তু ‘তোমাকে ভালবাসি মা’- এ কথাটি বলতে গেলেই যেন মুখে কুলুপ এঁটে বসেন।

সকল দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে মাকে জানান যে, তাঁকে কতটা ভালবাসেন! উপহার ও নিজের আচরণ দিয়ে তো মা’র প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করাই যায়, একবার মুখে বলে দেখুন না! নিদেনপক্ষে লিখে দিন।

 

একটি শুভেচ্ছা কার্ডে অথবা ছোট্ট একটা চিরকুটে লিখে মাকে পৌঁছে দিন আপনার মনের বার্তা। ভালবাসার এমনতর প্রকাশ মাকে দিতে পারে স্বর্গীয় সুখ! মুখ ফুটে বলা অতি সাধারণ এই বাক্যটি আপনার মাকে দিতে পারে তাবত্‍ পৃথিবীর ভাললাগা।

 

ছোট্ট একটি শব্দ 'ধন্যবাদ'
এবার আরেকটি ‘ফর্মাল’ শব্দের কথা বলি, সেটা হলো ‘ধন্যবাদ’! এবার নিশ্চয়ই ভ্রু কুঁচকে ভাবছেন, মাকে ধন্যবাদ বলবেন কেন? মা কি ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য আমাদের জন্য এত কিছু করেন? আসলেই তো তাই!

মা কোনো কিছুই ধন্যবাদ পাবার জন্য করেন না। মা-ই হচ্ছেন একমাত্র মানুষ, যিনি আমাদের খেয়াল, যত্ন, আদর কোনো কিছই পাওয়ার আশায় করেন না। তাই মা-সন্তানের সম্পর্কে ‘ধন্যবাদ’ কথাটি খুব একটা খাটে না!

 

কিন্তু তারপরেও, খুব ছোট্ট একটা কাজের জন্য মাকে ধন্যবাদ দিন, দেখবেন মায়ের মুখটা হাসিতে ভরে গিয়েছে! এই হাসিটা ধন্যবাদ পাবার জন্য নয়, এই হাসির পেছনে লুকিয়ে আছে মূল্যায়ন পাবার আনন্দ। তাই জড়তা ভুলে মাকেও মাঝে মাঝে ধন্যবাদ জানান।