বিশেষ সংবাদ:

এই দিনেই পৃথিবী ছাড়েন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

Logoআপডেট: বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

আজ ২১ জুন তারুণ্য ও সংগ্রামের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯১ সালের এই দিনে দুরন্ত কাব্যমহিমার এই রূপকার পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। বাংলাদেশের কবিতায় অবিস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাঁকে দিয়েছে সত্তরের দশকের অন্যতম আলোচিত-আলোকিত কবির স্বীকৃতি। অকালপ্রয়াত এই কবি নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন। আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে।

‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতা ও ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ’ গানের স্রষ্টা তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা, ও অসাম্প্রদায়িকতা তার কবিতায় বলিষ্ঠভাবে তুরে ধরেছেন তিনি। এছাড়া স্বৈরতন্ত্র ও ধর্মের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল উচ্চকিত। তাঁর কবিতা মূলত সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল।
‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন’—এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন ‘দিন আসবেই দিন সমতার’। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা।

তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র জন্ম বরিশালে হলেও তাদের পৈত্রিক বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠেখালি গ্রামে। তবে বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। ঢাকা ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুল থেকে ১৯৭৪ সালে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে এইচএসসি পাস করেন। অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন।

১৯৮০ সালে সম্মানসহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা। জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক।ব্যক্তিগত জীবনে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি বহুল আলোচিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করেন। ১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।

১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। দিনটি স্মরণে আজ ২১ জুন বৃহস্পতিবার সকালে কবির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলার মিঠাখালীতে ‘রুদ্র স্মৃতি সংসদ’ শোভাযাত্রা, সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ ছাড়া সন্ধ্যা ৬টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কবির স্মরণে স্মরণসভার আয়োজন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মোংলা শাখা ও মোংলা প্রেসক্লাব।

মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।

এ ছাড়া ১৯৮০ সালে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কারসহ জীবদ্দশায় বহু পুরস্কার-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। অকাল প্রয়াত এই কবি ও সংগঠকের কর্মময় স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মংলার মিঠেখালিতে গড়ে উঠেছে ‘রুদ্র স্মৃতি সংসদ’।

‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পর পর দুই বছর ‘মুনীর চৌধুরী’ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন।