বিশেষ সংবাদ:

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন আজ

Logoআপডেট: শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
বাংলা প্রবন্ধ-সাহিত্যের পাঠকপ্রিয়তা অর্জন ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে তার অবদান অসামান্য। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অধ্যাপক, লেখক, সাহিত্যিক, সম্পাদক, শিক্ষাবিদ, মার্ক্সবাদী একজন দার্শনিক। সর্বপরি বাঙালির সমকালীন চিন্তা ও মননের আশ্রয়।
জীবনাচরণে, লেখায় এবং সাংগঠনিক কাজে সবসময় তিনি লালন করেন পরিবর্তনকামী প্রবল এক চেতনা। তার সংগ্রামের পথ ধরেই হয়তো একদিন ঘটবে বাঙালির চিন্তার আমূল বিবর্তন তথা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব। জাতির চেতনা বিকাশে তার দিক-নির্দেশনা সবাইকে প্রাণিত করে।

আজ ২৩ জুন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের এই দিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের বাড়ৈখালা গ্রামে তিনি জন্ম লাভ করেন।

কর্মজীবনের প্রায় পুরোটা সময় ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। পড়েছেন এবং পড়িয়েছেন ইংরেজি ভাষায়। তবে লিখছেন বাংলা ভাষায়। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সমকালের একজন সচেতন লেখক। গদ্যনির্মাতা এবং সাময়িকীর সম্পাদক হিসেবে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন। সমকালীন বাংলা ভাষার প্রথম সারির প্রাবন্ধিক তিনি।

মানুষের মনোবৃত্তির বিকাশে শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য ও নৈতিক দায়বোধের বিষটি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ভাবনা-বলয়ের অন্যতম সূত্র। একই সাথে সমাজ রূপান্তরের ধারায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সংযোগে মানুষের জীবনযাপনকে আরো অর্থপূর্ণ করা চলে তার এই বিদগ্ধ চিন্তা ও সাধনা। বাঙালির জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, রাষ্ট্রভূমি ও সমাজ ব্যবস্থার ক্রম পরিবর্তন ধারা প্রভৃতি প্রসঙ্গ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখালেখির অন্যতম আশ্রয়। সাহিত্যসেবক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সমকালে জাতির একজন একনিষ্ঠ অভিভাবক। এখন পর্যন্ত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বইয়ের সংখ্যা আশি ছাড়িয়েছে।

শিক্ষা ও সাহিত্য-সৃজনে অসামান্য অবদানের জন্য এ যাবৎ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আবদুর রহমান চৌধুরী পদক(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), একুশে পদক, লেখক সংঘ পুরস্কার এবং ঋষিজ পদকসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
জাতির মেধা, মনন ও রুচিবোধের বিকাশে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অসামান্য শ্রম, সাধনা ও মনোবৃত্তি সবসময় অনুপ্রাণিত করে, শুদ্ধতার আবেশ ছড়ায়। গুণী এই সাহিত্যিক ও জ্ঞান তাপসের জন্মদিনে তার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা।