বিশেষ সংবাদ:

কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী কাল

Logoআপডেট: বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনের অনন্য এক কিংবদন্তির নাম হুমায়ূন আহমেদ। তিনি জন্মেছিলেন ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে।
কর্মমুখর সৃজন সাধনায় দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে মুখরিত করে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলা সাহিত্যের সৃষ্টিশীল ও জনপ্রিয় এই লেখকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্বপ্নঘেরা নুহাশ পল্লীতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকাশকরা নুহাশ পল্লীতে কথাশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যালয়ে’ অনুষ্ঠিত হবে দোয়া মাহফিল। একইভাবে অন্য প্রকাশের পক্ষ থেকে নুহাশপল্লীতে বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, খ্যাতিমান কথাশিল্পী, চলচ্চিত্র-নাটক নির্মাতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
হুমায়ূন আহমেদ-এর পিতার নাম ফয়েজুর রহমান। একাত্তরে পাকবাহিনী তাকে হত্যা করে। মা আয়েশা ফয়েজ। স্কুল জীবনে হুমায়ূন আহমেদকে পিতার চাকুরীস্থলে কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া, পঞ্চঘরসহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করতে হয়। তিনি ১৯৬৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (রাজশাহী বিভাগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয়), ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

ছাত্র জীবনেই তার লেখালেখি শুরু। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে ’। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’। এই দুটি বই প্রকাশের পর হুমায়ূন আহমেদ একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হন। সেই থেকে জীবিতকালে তার দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক তিনি লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন। তার লেখায় বাঙালি সমাজ ও জীবনধারার গল্পমালা ভিন্ন আঙ্গিকে এবং রসাত্মক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গল্প বলায় ভাষার ব্যবহারে নিজস্ব একটা কৌশল এবং বর্ণনায় লোকজধারাকে প্রাধান্য দেন।

বাস্তবতা থেকেই উঠে এসেছে তার প্রতিটি সৃষ্টিকর্ম। বাংলা সাহিত্যের কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে তাকে পথিকৃৎ বলেছেন সমালোচকরা। তিনি উপন্যাস, গল্প, জীবনী, নাটক, চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার লেখা বেশ কয়েকটি উপন্যাস, কয়েকটি নাটক, চলচ্চিত্র কালজয়ী কর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হুমায়ূন আহমেদ দীর্ঘদিন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকতাকে তিনে ইস্তফা দেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে হুমায়ূন আহমেদ গাজিপুরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নুহাশ পল্লী’।

তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, কিশোর সমগ্র, হিমুর আছে জল, লীলাবতী, হরতন ইস্কাপন, হিমুর বাবার কথামালা, গল্প পঞ্চাশ, আমিই মিছির আলী, হিমু রিমান্ডে, মিছির আলীর চশমা, দিঘির জলে কার ছায়া গো, আজ হিমুর বিয়ে, লিলুয়া বাতাস, কিছু শৈশব, হুমায়ূন আহমেদের ভৌতিক অমনানিবাস, আগুনের পরশমনি, পাপ ৭১, শ্রাবণ মেঘের দিন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও শ্যামল ছায়া।
দেশের সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার প্রতি অফুরান শ্রদ্ধা। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন অগণিত পাঠকের প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ।