বিশেষ সংবাদ:

কথাশিল্পী মাহমুদুল হকের ১১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Logoআপডেট: শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের এক অনন্য ব্যক্তি কথাশিল্পী মাহমুদুল হক। তার লেখার বিষয়-বৈচিত্র্য, বক্তব্য, ভাষা এবং সরূপ ভিন্নতর মাত্রা ছুঁয়েছে অগণিত সাহিত্য অনুরাগীদের।
মাহমুদুল হক সর্বার্থেই স্বতন্ত্র, জীবনযাপন করেছে একইভাবে সাহিত্যচর্চায়ও। লেখক হিসেবে তিনি ছিলেন খুঁতখুঁতে এবং শুদ্ধতম। কখনোই পুরোপুরি মনঃপুত না হলে সে লেখা প্রকাশ করতেন না।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ছিল নিবিড় সখ্য। তিনি খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। গভীর অনুভূতি ও উপলব্ধি দিয়ে কঠিন-বাস্তবতাকে মূর্ত করে তুলতেন এক আশ্চর্য ভাষাকাব্যে। প্রবলভাবে জীবনবাদী মানুষটির আগ্রহ ও উৎসাহের ক্ষেত্র ছিল বিচিত্র, জীবনাভিজ্ঞতাও বিপুল, তাঁর পঠন-পাঠনের অবলম্বনও ছিল নানান বিষয়।
আজ ২১ জুলাই গুণী এই কথাশিল্পীর ১১ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৮ সালের এইদিন গভীর রাতে রাজধানীর লালবাগে এ কৃতী লেখক মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪০ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারাসতে মাহমুদুল হক জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ছয় ভাই চার বোনের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন। ১৯৫০ সালে তারা সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে তার সোনার দোকান ছিল। রত্ন-পাথর সম্বন্ধেও তার আগ্রহ ও বিস্তর পড়াশোনা ছিল। পঞ্চাশের দশকে স্কুলে থাকাকালীনই লেখালেখি শুরু করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে জগন্নাথ কলেজ (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে লেখক হিসেবে মাহমুদুল হকের রাজসিক আবির্ভাব ঘটে।যে দুটি বই তাঁর ললাটে সাহিত্যিকের জয়তিলক এঁকে দেয় তা হলো, খঞ্জনা পাখী এবং নিরাপদ তন্দ্রা। বই দুটো অনেকটা ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুমহলের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়, যদিও এতে ছিল লেখকেরও সম্পৃক্ততা।

প্রখর রুচিবোধের অধিকারী ছিলেন মাহমুদুল হক। বই প্রকাশের সবকটি ধাপ সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত কেবল নন, সেখানে রুচি ও বৈদগ্ধের পরিচয় ফুটিয়ে তুলতেও সমর্থ এবং প্রকাশনার সঙ্গে থাকেন নিবিড়ভাবে যুক্ত।
তার সম্পর্কে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন, এই লেখক বাংলা গদ্যে প্রভূত্ব করার অধিকার নিয়ে এসেছেন। সাহিত্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী প্রাবন্ধিক, গবেষক মফিদুল হক তার সম্পর্কে বলেন, মাহমুদুল হককে ছাঁচে ফেলা যায় না। ইচ্ছা করলে তিনি যথেষ্ট বিত্ত অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করেননি। সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রেও তার প্রতিটি গ্রন্থ ছিল আলাদা। তা বিষয় বৈচিত্র্যেই হোক বা লেখার ধরনে। অথচ বাংলা সাহিত্যে তুমুল আলোড়ন তুলে এক সময়ে নিভৃতচারী হয়ে ওঠেন এ লেখক।

নিভৃতচারী এই লেখকের সাড়া জাগানো উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- খেলাঘর(১৯৮৮)-(চলচ্চিত্ররূপ২০০৬ ), জীবন আমার বোন(১৯৭৬), খঞ্জনা পাখি, চিক্কোর কাবুল, নিরাপদ তন্দ্রা(১৯৭৪), কালো বরফ, অনুর পাঠশালা(১৯৭৩), মাটির জাহাজ, অশরীরী।
তিনি শিশুদের কাগজ আলাপনী, শাহীন সেতারা প্রভৃতি পত্রিকায়ও নিয়মিত লিখতেন। কিন্তু ১৯৮২ সালের পর আর লেখেননি। অনেকটা নিভৃতে জীবন কাটিয়েছিলেন মাহমুদুল হক। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তার লেখা ‘কালো বরফ’ উপন্যাসটি কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে পাঠ্য।