বিশেষ সংবাদ:

প্রাণ জাগালো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনভিত্তিক আর্টক্যাম্প

Logoআপডেট: রবিবার, ০৫ আগস্ট, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক 
শিল্পীদের তুলিতে নানা বর্ণিলতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা উঠে এসেছে হৃদছোঁয়া চিত্রমালায়। দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কৃষ্টি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর আর্টক্যাম্পে শিল্পীরা আঁকলেন বৈচিত্র্যপূর্ণ সব চিত্রকর্ম। ২ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মন মাতানো এই আর্টক্যাম্প।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই আর্টক্যাম্প উদ্বোধন করেন একাডেমির মহাপরিচালক নাট্য ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চোধুরী। ক্যাম্পে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু।

একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাতিসত্তার অঞ্চল পরিদর্শন ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ৪ আগস্ট পর্যন্ত একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছিল তিন দিনব্যাপী জমজমাট এ আর্টক্যাম্প। আসরে ৫০টি ক্ষুদ্র নৃৃ-গোষ্ঠীর ৫০ জন শিল্পী তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে তুলে ধরেন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক জীবন-বৈচিত্র্যের উপর ১৫০টি চিত্রপট।

এই ক্যাম্পে শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে আয়োজন করা হয় একটি চিত্র প্রদর্শনী। এসব চিত্রকর্ম পরবর্তীতে একাডেমির সংগ্রহে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু।

আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হচ্ছেন- জিংমুন লিয়ান বম, চালাং রিছিল, মংছাইনু মার্মা, প্রণব খীসা সজীব, রূপশ্রী হাজং, নিশান সিংহ, অরুন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, বিমলা চাকমা, মুন্না বম, তনিমা চাকমা, নিশা চাকমা, পেনিক চাকমা, ভানরাম থিøর বম, মিংকু চাকমা, এভলী চাকমা, আতিয়া মাইবম, নন্দরাজ চাকমা, খাইদেম সিথি সিনহা, লুম্বিণী দেওয়ান এবং তিতাস চাকমা।

প্রথমবারের মত আয়োজিত এই আর্টক্যাম্প প্রসঙ্গে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘বৈচিত্র্য পূর্ণ কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এক অনুপম লীলাভূমি বাংলাদেশ। আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আচার অনুশীলন, জীবন চিত্র ও বিভিন্ন সুকুমার বৃত্তি আমাদের সংস্কৃতির তাৎপর্যপূর্ণ অংশ।’

তিনি বলেন, ‘এদেশে প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বসবাস। এসকল জাতিগোষ্ঠীর অধিকাংশেরই নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবে তাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গগুলো আজ যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না। সেগুলো সংগ্রহ করে চিত্রশিল্পে উপস্থাপনের জন্য প্রথম বারের মতো শিল্পকলা একাডেমি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

প্রসঙ্গত, এই ক্যাম্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২১ থেকে ২৩ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ৫০ জন শিল্পী কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অঞ্চল পরিদর্শন করেন। তখন তারা বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার তথ্য-উপাত্ত, স্থিরচিত্র এবং ক্ষেত্রবিশেষ স্কেচ তৈরি করেন। এই সব তথ্যের আলোকে অনুষ্ঠিত হয় প্রাণছোঁয়া এই আর্টক্যাম্প।