বিশেষ সংবাদ:

শিল্পকলায় ‘সৈয়দ শামসুল হক-এর দ্বিতীয় প্রয়াণবর্ষ স্মরণার্ঘ্য’

Logoআপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক-এর দ্বিতীয় প্রয়াণদিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে দুই দিনের বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা। ‘সৈয়দ শামসুল হক-এর দ্বিতীয় প্রয়াণবর্ষ স্মরণার্ঘ্য’ শিরোনামের এ আয়োজনকে সাজানো হয়েছে আবৃত্তি, আলোচনা ও নাটক প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে।

আজ ২৭ ও পরশু ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ এই স্মরণায়োজন। আসরে আজ প্রদর্শিত হবে সৈয়দ শামসুল হক-এর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কালজয়ী নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’। সৈয়দ শামসুল হক রচিত ও থিয়েটার প্রযোজিত এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রয়াত আরেক গুণী নাট্যজন আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

পরবর্তীতে নাটকটি নব-রুপায়ন করেছেন সুদীপ চক্রবর্তী। আজ অনুষ্ঠিত হবে দর্শকনন্দিত এ নাটকের ১৮৭তম প্রদর্শনী। প্রথম মঞ্চায়ন থেকেই রচনাশৈলী, বিষয়বস্তু ও প্রকাশনা সৌকর্যের জন্যে নাটকটি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া জাগায়। যা হয়ে ওঠে মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অনবদ্য দলিল।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নাটকে ধর্মীয় বিষয়ে মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কার সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন সৈয়দ শামসুল হক। নাটকে দেখা যায়- চারদিকে মুক্তিযুদ্ধের দামামা। উদ্বেগ-উত্তেজনা ছোট-বড় সবার মধ্যে। আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ এসেছেন মাতব্বরের কাছে। তাদের চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা। গত রাতেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মাতব্বরের সঙ্গে দেখা করেছেন জানিয়ে সবাইকে আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। সহজ-সরল গ্রামবাসী সহজে আশ্বস্ত হতে পারেন না মাতব্বরের কথায়। এভাবে নানা ঘটনার ঘনঘটায় এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি। একসময় ঘর থেকে বের হন মাতব্বরের মেয়ে।

সবার সামনে বলেন, ‘বাবা জোর করে তাকে ওই রাতে ক্যাপ্টেনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। যেজন্য সে বাবাকে ধিক্কার জানায়। এরপর সেই বীরাঙ্গনা আত্মাহুতি দেন। অবশ্য নিস্তার মেলেনি রাজাকার মাতব্বরের। এমনই মর্মময় দৃশ্যকাব্যে গড়ে উঠেছে নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন, ফেরদৌসী মজুমদার, কেরামত মওলা, তোফা হোসেন, ত্রপা মজুমদার, মারুফ কবির, পরেশ আচার্য, সমর দেব, খুরশিদ আলম, নুরুল ইসলাম সানি, রাশেদুল আওয়াল শাওন, জোয়ারদার সাইফ, তামান্না ইসলাম, রুণা লাইলা, তানভীর হোসেন সামদানী, কল্যাণ চৌধুরী, তানজুম আরা পল্লী, কাওসার রাজীব, আতিকুর রহমান ও এরশাদ হাসান।

মঞ্চায়নে ২৯ সেপ্টেম্বর রয়েছে- সৈয়দ হক অনুদিত আরেকটি আলোচিত প্রযোজনা ‘হ্যামলেট’। এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়র রচিত বিশ্বালোচিত জনপ্রিয় একটি বিয়োগান্ত নাটক। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যনির্দেশক ও মঞ্চসারথি আতাউর রহমান।
এ নাটকে ডেনমার্কের যুবরাজ হ্যামলেটের জীবন যুদ্ধের দ্বন্দ্ব ও সংকটময় রূপ চিত্রিত হয়েছে। যা কাহিনি বিন্যাস ও মর্মকথায় হয়ে উঠেছে সর্বজনীন। নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হকের প্রয়াস ছিল, শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ যেন হয়ে ওঠে বাঙালির ‘হ্যামলেট’ তথা বাংলাদেশের ‘হ্যামলেট’।

সেই মানসেই তিনি কাহিনির কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে গ্রথিত করেছেন মহান বাঙালি কবিদের কাব্যাংশ ও সঙ্গীত। পাশাপাশি এসেছে আমাদের নিজস্ব লোকজ পালাগানেরও নানা আঙ্গিক। নৃত্যেও সচেতনভাবে ব্যবহৃত হয়েছে বাঙালির নৃত্য আঙ্গিক ও ভাবনা।