বিশেষ সংবাদ:

রাজধানী থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে শিল্পের শহর কর্মসূচী

Logoআপডেট: শনিবার, ০৬ অক্টোবর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক

শহরবাসীকে নির্মল ও রুচিশীল বিনোদন উপহার দিয়ে মানুষের মাঝে শিল্পের বোধ ছড়িয়ে দিতে ‘শিল্পের শহর ঢাকা’ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী’র পরিকল্পনায় এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা শহরে বছরব্যাপী সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

‘ঢাকা হবে শিল্পের শহর, ঢাকা হবে বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক নগরী’ শ্লোগানে ৫ ও ৬ অক্টোবর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলছে ‘শিল্পের শহর ঢাকা’ কর্মসূচী। বর্ণাঢ্য এ কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে গতকাল ৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় আরামবাগ পার্ক, ১২টায় মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি, ৪টায় খিলগাঁও পল্লিমা সংসদ, সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের জমকালো অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী।

একইভাবে আজ ৬ অক্টোবর সকাল ১১টায় মিরপুর শেখ রাসেল শিশু উদ্যান এবং সন্ধ্যা ৬টায় আগারগাঁও ৪র্থ উন্নয়ন মেলায় অনুষ্ঠিত হবে অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী। ঢাকা শহর সম্পর্কে সমাজে যেসব নেতিবাচক অভিব্যক্তি রয়েছে সেসব দূরীভূত করে ঢাকাকে শিল্পচর্চার নান্দনিক নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মানসে এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

তিনি জানান, ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি শহরেরই নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। শহরগুলোর সেই সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যকে শহরবাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে ‘শিল্পের শহর’ কর্মসূচি বিভাগীয় শহরগুলোতেও আমরা সম্প্রসারিত করছি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে

চলতি অক্টোবর মাসে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ১০টি করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপমহাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে দীর্ঘকালব্যাপী ঢাকা শহরের গভীরতম সম্পৃক্ততা রয়েছে। সম্প্রতি এ শহর গৌরবময় ৪০০ বছর অতিক্রম করেছে।

কালের ধারাবাহিকতায় আজ এ শহরের পরিচিতি ‘মেগাসিটি’ হলেও নাগরিক নানা সমস্যা ও সংকট ও যান্ত্রিকতার ফলে মানুষ ঢাকা শহরের ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, দূষণ ও যানজটের চাপে এখানে মানবিক আবেগগুলো অনেকখানি উপেক্ষিত।

শিল্পী মাহবুবুর রহমান-এর পরিচালনায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ১৫জন শিল্পীর পারফর্মেন্স আর্ট পরিবেশনার মধ্য দিয়ে গত ২৬ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘শিল্পের শহর ঢাকা’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।শিল্পের শহর কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং বুড়িগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বাউল দলের পরিবেশনা। এ পর্যায়ে শিল্পকলার অ্যাক্রোবেটিক দলের পরিবেশনায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

সাধারণ মানুষের সাথে শিল্পের সংযোগ সাধনের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শহরে পর্যায়ক্রমে শিল্পের বিভিন্ন অনুষঙ্গ উপস্থাপনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।