বিশেষ সংবাদ:

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাউলশিল্পী-সাধকদের দাবি

Logoআপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০১৭

এবি প্রতিবেদক  

বাউল মানবতার জয়োগান প্রচারকারী একটি সম্প্রদায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, তারা প্রায়ই মৌলবাদী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। কখনো কখনো সামাজিক ও ধর্মীয় নানা বৈষম্য ও অধিকার থেকে এই সম্প্রদায়ের মানুষ বঞ্চিত হয়ে থাকেন। যদিও বাউল সম্প্রদায় অনেক বেশি প্রগতিশীল।

ধর্মীয় অনেক গোঁড়ামী এবং কুসংস্কার থেকেও তারা মুক্ত বা নিজেদের মুক্ত করতে তারা সর্বদা সচেষ্ট। তারা মানব ধর্মে বিশ্বাসী। কিন্তু মানবতারবাণী প্রচারকারী এই সম্প্রদায় প্রতিনীয়ত নানা সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। যেজন্য আজ সকালে জাথীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাউলশিল্পী-সাধকরা এক মানববন্ধন ও স্বারকলিপি পেশ-এর আয়োজন করে। জাতীয় বাউলশিল্পী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মানব বন্ধনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে এ বাউল সম্প্রদায় ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।

মানব বন্ধনে বাউলশিল্পী-সাধকরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের বাউল শিল্পীদের ভালবাসতেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আপনি নিরলসভাবে পরিশ্রম দিয়ে জাতিকে একটি সম্মানিত জাতি হিসাবে উন্নীত করেছেন। ধন্য বাঙালি জাতি আপনার জন্য। সারাদেশে সমানভাবে উন্নয়ন হলেও মাটি ও মানুষের সাথে মিশে থাকা বাউলশিল্পী-সাধক, বাদক, গবেষকরা সবচেয়ে অবহেলিত, লাঞ্ছিত ও সুবিধা বঞ্চিত। এমনকি জাঙ্গীবাদ উৎপাতের কারণ দেখিয়ে বাউর গানের অনুষ্ঠান পুলিশ প্রশাসনের দ্বারা নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে।’ তারা বাউলদের আগামী দিনের পথচলা মসৃণ ও নির্ঝঞ্জাট হয়ার বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ কামনা করেন।

বাউলশিল্পী-সাধকদের উত্থাপিত দাবিগুলো নিচে সংযোজন করা হলো-

১. জঙ্গী হামলার অজুহাতে বাউল শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠান বন্ধ কার এবং পুলিশি হয়রানি করা যাবে না।
২. বাউলশিল্পী ও সাধকদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী জমির বরাদ্দ করতে হবে।
৩. বিভিন্ন দেশে সাংস্কৃতিক দলে বাউল শিল্পীদের প্রেরণ করতে হবে।
৪. বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ০১(এক) ঘন্টাব্যাপী বাউল শিল্পীদের একটি অনুষ্ঠান ধারণ।
৫. শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা একডেমিসহ সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাউলদের নিয়মিত অংশ গ্রহনের সুযোগ দিতে হবে।
৬. দুই ঈদ, পূজা ও বড় দিনসহ জাতীয় উৎসবগুলোতে বাউল শিল্পীদের উৎসব ভাতা দিতে হবে।
৭. দুস্থ বাউলশিল্পী ও সাধকদের সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. বাউল শিল্পীদের ছেলে-মেয়েদের বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাউল শিল্পীদের গান গাওয়া বাবদ সম্মানি বৃদ্ধি করতে হবে।
১০. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাউলশিল্পী ও সাধকদের সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে।
১১. বাউল শিল্পীদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।