বিশেষ সংবাদ:

আজীবন সম্মাননায় ভূষিত সুবীর নন্দী

Logoআপডেট: শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সঙ্গীত নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০১৮’ পাওয়ার্ড বাই সেভেন আপ। এবারের আসরটি হবে যুগপূর্তির। জমকালো এই আসরে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হবে বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দীকে।


এ আয়োজনের মাধ্যমে সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখার জনপ্রিয় শিল্পীরা আবারও একত্রিত হবেন একই মঞ্চে। আয়োজনের দিক দিয়ে চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-এ প্রতিবারই থাকে কিছু না কিছু চমক। এ চমকের অংশ হিসেবে এবার যুক্ত হচ্ছে দুই যুগেরও অধিক যাদের সঙ্গীত জগতে বিরচণ তাদের নিয়ে এবারের আসর থেকে শুরু হবে ‘গোল্ডেন ভয়েস অ্যাওয়ার্ড’।

এবার চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০১৮ পাওয়ার্ড বাই সেভেন আপ-এর চূড়ান্ত পর্বের জমকালো আসর বসবে ২১ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের ‘দ্যা প্যালেস’ হোটেলের উন্মুক্ত চত্বরে। এবারের আয়োজনের শ্লোগান করা হয়েছে ‘সুস্থ সঙ্গীতের বিকাশ’।

আজ শুক্রবার রাতে হবিগঞ্জের ‘দ্য প্যালেস’ রিসোর্টের উন্মুক্ত চত্বরে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এতে সুবীর নন্দীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও চেক তুলে দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ; ট্রান্সকম বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুরশীদ ইরফান চৌধুরী, ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ মজুমদার, সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমান ও সংগীতশিল্পী মো. খুরশীদ আলম।
ইজাজ খান স্বপনের পরিচালনায় তিন ঘণ্টার জাকজমকপূর্ণ এই আয়োজনটির উপস্থাপনা করেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। এবারের আয়োজনে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননাসহ ১৬টি ক্যাটাগরিতে সমালোচক পুরস্কার এবং ৬ ক্যাটাগরিতে গোল্ডেন ভয়েস অ্যাওয়ার্ডস। ক্যাটাগরিগুলো হলো : রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, লোক সঙ্গীত, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক, মিউজিক ভিডিও, কাভার ডিজাইন, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, আধুনিক গান-২টা, ব্যান্ড, নবাগত, ছায়াছবির গান এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত (কণ্ঠ)।

এছাড়াও গোল্ডেন ভয়েস অ্যাওয়ার্ডস-এর ক্যাটাগরি হিসেবে ছিল: রবীন্দ্র, নজরুল, লোক, ছায়াছবি, আধুনিক এবং গোল্ডেন মেকার। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন- মমতাজ, সুবীর নন্দী, কুমার বিশ্বজিৎ, সামিনা চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, মিতালী মুখার্জী, চন্দনা মজুমদার, ফেরদৌস আরা, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, আফজাল হোসেন, কনা, মেহরীন, কোনাল, এলিটা, অনিমা রায়, নুসরাত ফারিয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গানের জগৎ যখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল ঠিক সেই সময় দেশের সুস্থ ধারার সঙ্গীতকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে সিটিসেলের সহযোগিতায় শুরু হয়েছিল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-এর। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও জমকালো আনুষ্ঠানিকতায় সাজানো হয়েছে আয়োজনটি।

প্রসঙ্গত, সুবীর নন্দী একজন বাংলাদেশী জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করেন। সুবীর নন্দী হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় নন্দী পাড়া নামক মহল্লায় এক কায়স্থ সম্ভ্রান্ত সঙ্গীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।।তার নানা বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাদেআলিশা গ্রামে. তার পিতা- সুধাংশু নন্দী ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সঙ্গীতপ্রেমী। তার মা পুতুল রানী চমৎকার গান গাইতেন কিন্তু রেডিও বা পেশদারিত্বে আসেন নি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাই-বোনদের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিতে শুরু করেন ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে। তবে সঙ্গীতে তার হাতেখড়ি মায়ের কাছেই।
সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। প্রথম গান 'যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়' -এর গীত রচনা করেন মোহাম্মদ মুজাক্কের এবং সুরারোপ করেন ওস্তাদ মীর কাসেম। ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত সূর্যগ্রহণ চলচ্চিত্রে। ১৯৮১ সালে তার একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে বাজারে আসে। তিনি গানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন তিনি ব্যাংকার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।