বিশেষ সংবাদ:

প্রখ্যাত বাউলশিল্পী পার্বতী বাউল মাতালেন ঢাকার দর্শক

Logoআপডেট: রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক
বাউলগানে ঢাকার সঙ্গীতপ্রেমী দর্শকদের মাতালেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী পার্বতী বাউল।তাকে ঘিরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ২৭ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘কীরূপ দেখি নয়ন মুদি’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতেই গুণী এ শিল্পীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
এরপর একে একে বাউলিয়া সুরের মোহে উপভোগীদের মুগ্ধ করেন বাউলকন্যা পার্বতী। এসময় মুহূরমুহূর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন। অনবদ্য কণ্ঠমায়ার সাথে প্রাণছোঁয়া বাদনে মুহূর্তের মধ্যে সবার মাঝে আবেশ ছড়িয়ে পড়ে। তার গানের সঙ্গী একতারা, ডুপকি ও নুপুর।

বাঁ হাতে আকাশপানে উঁচিয়ে ধরা থাকে একতারা, কোমরে বাঁধা থাকে ডুপকি এবং পায়ের তালে তালে নাচতে থাকে তার নুপুর; গানের সাথে নেচে ওঠে তার মাথার জটা। এমনি বাউল গানের তত্ত্ব-কথনগুলি গানের সাথে সাথে গল্পের মাধ্যমে তিনি তার সাধক শিষ্যদের পাশাপাশি দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে তুলে ধরেন। দুর্দান্ত পরিবেশনায় বাংলাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের গতকালের সন্ধ্যাটায় মাতোয়ারা করেন পার্বতী।
পার্বতী বাউল উপমাহদেশের একজন প্রখ্যাত বাউল সঙ্গীতশিল্পী। বাউল সাধিকা ফুলমালি দাসী, সনাতন দাস বাউল, শশাঙ্ক গোঁসাই এই তিন জনের কাছ থেকে তিনি বাউল দীক্ষা গ্রহণ করেন। শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিজুয়াল আর্ট-এ শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। গানের শিক্ষা নেন হিন্দুস্থান ক্লাসিক মিউজিক থেকে এবং কত্থক নাচের শিক্ষা গ্রহণ করেন শ্রীলেখা মুখার্জী’র কাছ থেকে।

১৯৯৫ সাল থেকে তিনি অনুষ্ঠানে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি কেরালার তিরুবন্তপুরম যান। সেখানকার লোকায়ত সংস্কৃতি সর্ম্পকে জানতে। এখানে তার সাথে রবি গোপালন-এর সাথে পরিচয় হয়। তিনি একজন দক্ষ পুতুল এবং মুখোশ প্রস্তুতকারক। পরবর্তীতে পার্বতী দাস ও রবি গোপালন বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন। ২০০৫ সালে তার রচিত ইংলিশ বই ‘Song of Great Soul’ প্রকাশ পায়।
শৈশবে পার্বতী বাউল-এর নাম ছিল মৌসুমী পারিয়াল। দেশভাগের আগে তাঁর পূর্বপুরুষদের বাস ছিল বাংলাদেশের রাউজানের পশ্চিম গুজরার গ্রামে। তার বাবা বীরেন্দ্রনাথ পারিয়াল, মা সন্ধ্যা চক্রবর্তী।