বিশেষ সংবাদ:

বাংলাদেশে ডিজিটাল সিনেমার সম্ভাবনা প্রসঙ্গ

Logoআপডেট: শনিবার, ২২ জুন, ২০১৩

দিলদার হোসেন
বাংলাদেশে এখন চলচ্চিত্র নিমার্ণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নেই বললেই চলে। ভাবতে  অবাক লাগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বেই হলিউড, বলিউডের সাথে সমানভাবে তালমিলিয়ে এই বাংলাদেশেই তৈরী হয়েছিল।

সিনেমাস্কোপ রঙিন চলচ্চিত্র ‘বাহানা’। এদেশের চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা স্থাপনের সময়ই আমদানীকরা হয়েছিল ঐ সময়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সকল আধুনিক যন্ত্রপাতি সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আমলাতন্ত্র ও চলচ্চিত্র সংগঠকদের সুদূরপ্রসারী বিচক্ষনতার অভাবে রাষ্ট্রীয় দিকনির্শনার কুটচালে পড়ে কখনোই এই জাতির  চলচ্চিত্র শিল্পের উৎকর্ষ সাধন এবং সুন্দরের পথে দানা বাধতে পারে নিই। চলচ্চিত্র একটি সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সৃষ্টিশীল শিল্প এই শিল্পের  অভীষ্টলক্ষে যাওয়া কোনা সর্টকাটপথ নেই। সিনেমা নামক সবচেয়ে আধুনিক কনিষ্ট শিল্প মাধ্যমটিকে আত্মস্থ করতে হলে প্রতিনিয়তই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিরলস চর্চা, অধ্যায়ণ, নির্মাণের কৌশল প্রযুক্তি এবং সাম্প্রতিক তথ্যের উপর যথেষ্ট দখল থাকতে হবে।

তথাকথিত ফর্মূলা ছকে একটি চলচ্চিত্র তৈরির জন্য বারো হাজার ফুট সেলুলয়েড এক্সপোসড করলেই কখনোই চলচ্চিত্রের কেন্দ্র বিন্দুতে পৌছানো যাবে না। আমাদের এই অবক্ষয় থেকে উত্তোরণের এক মাত্র পথই হচ্ছে মান্ধাত্যা আমলের যন্ত্রপাতি ও মনমানসিকতা আমুল পরিবর্তন করতে হবে। বাস্তাবায়িত করতে হবে একটি যুগোপযোগী আধুনিক সঠিক পরিকল্পনা এবং সুদূর প্রসারী দৃষ্টভঙ্গি সম্পন্ন গতিশীল দিকনির্দেশনা।

আধুনিক বিশ্বের চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথে তাল মিলিয়ে ও সিনেমা নামক শিল্পটির নির্মাণ কৌশল রপ্ত করে প্রযুক্তির লেটেস্ট মডেলের যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে একটি প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনীরসমন্বয় সৃষ্টিশীল মনন দিয়ে তাদের অধ্যয়ন ও মেধাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নির্মাণ কৌশল আত্মস্ত করার পরই ভাবা যেতে পারে- কোনো আর্ন্তজাতিক প্রতিযোগীতায় আমরা দাঁড়াতে পারবো কি না? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে একটি আমূল পরিবর্তন সাধিত হতে যাচ্ছে। আর এর নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আসছে আধুনিক মননের সুদূর প্রসারী দৃষ্টি ভঙ্গি সম্পন্ন কয়েকজন কমিটেড শৈল্পিক নির্মাতারা। তারা চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিশ্বর সর্বাধুনিক প্রযুক্তিকে আমদানী করে- তাদের মেধা মননকে সম্পন্ন স্বাধীনভাবে ব্যবহার করে একটি নতুন ডিজিটাল যুগের সাথে এই প্রজন্মের দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সৎ অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে আসছে। আর এভাবেই শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ডিজিটাল সিনেমা যুগের নতুন অধ্যায়। আধুনিক প্রযুক্তির সিনেমা আসার সাথে সাথেই ভঙ্গুর-কংকালসার গুদাম সাদৃশ্য শত শত ইটের ভাটার মতো গরম পেক্ষাগৃহগুলি প্রতিযোগিতায় না দাঁড়াতে পেরে মুখ থুবড়ে পড়বে অথবা ক্লিনিক্যালি ডেড হয়ে কিছুদিন টিমটিম করে জ্বলতে থাকবে।

এই প্রজন্মের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন তরুণরা কখনোই এই কম্পিউটারের যুগে মান্ধাত্যা আমলের মনমানসিকতার গ্যাড়াকলে পড়ে এই বিজ্ঞান নির্ভর সিনেমা শিল্পটিকে ধ্বংস করতে কখনো দেবে না। তাই যতোই অশ্লীলতার ও বিজাতীয় সংস্কৃতি আমদানীর জন্য স্যাটেলাইট টিভি,ডিভিডি, ক্যাবর টিভি অথবা বিজাতীয় চলচ্চিত্রের কথা বলা হোক না কেনো, সিনেমা নামক শিল্পটি সম্পূর্ণ প্রতিযোগীতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তার অবস্থান টিকিয়ে সগৌরবে এবং আপন মহিমায়। এ ব্যাপারে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েএবং ভয় পেয়ে পালিয়ে গেলে কখনোই চলবে না। সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডিজিটাল যুগের চলচ্চিত্র নির্মাণের সূচনা হয়েছে। এই লেখক আশি দশকের বিকল্পধারার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন অগ্রনী নির্মাতা হিসেবে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও একটি প্রজন্ম দুটি ষোলো মিলিমিটার চলচ্চিত্র নির্মাণের দীর্ঘ দ-ুদশক পর সময়ের প্রয়োজন আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে দেশের প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মহাকাব্যিক ডিজিটাল সিনেমা কতো মানুষের ভিড়ে নিমার্ণ শুরু করেছে। যাতে ডিজিটাল ডলবিসাইন্ড, সিনেমাস্কোপ, ইংরেজী ও ফ্রেঞ্চ সাবটাইটেলসহ নতুন প্রযুক্তির সেলুলয়েড উপহার দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবন্ধ।

বাংলাদেশের সেকেলে অচল অকেজো ক্যামেরা, ক্রেন, ট্রলি, মুদ্রণযন্ত্র, অপটিক্যাল যন্ত্র শব্দগ্রহন যন্ত্রপাতিকে বাতিল করে এবং নি¤œমানের মুদ্রণ অযোগ্য ফগি নেগেটিভ- পজেটিভ ফিল্ম ক্যানগুলিকে চিরতরে ডাস্টাবিনে ফেলে ডিজিটাল যুগের সেলুলয়েডের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে তার নিজের জায়গা করে নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল সকল মহলের প্রতি এক্ষুণি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে আসার বিনীত আহবান জানাচ্ছি।

এতে করে ডিজিটাল চলচ্চিত্রে কম সময়ে ভালো। প্রডাকশন  নির্মাণ করতে অর্ধেক বাজেটে এসে দাড়াবে এবং এর মান হবে আর্ন্তজাতিক। পাশাপাশি ভালো সাউন্ড ও ঝকঝকে প্রিন্ট ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে নতুন নতুন আধুনিক বিলাসবহুল ‘আইনক্স’ প্রেক্ষগৃহ নির্মাণে নতুন লগ্নিকারক প্রযোজকবৃন্দ। আর সম্পূর্ণ সফলতা নির্ভর করছে ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সকল স্তরের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক সাংবাদিকও সমালোচকবৃন্দের গঠন মূলক লেখালেখি ও মূল্যায়নের উপর।