বিশেষ সংবাদ:

সাতদশকে শম্ভু মিত্রের ‘বহুরূপী’

Logoআপডেট: রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৭

ফারুক হোসেন শিহাব

আবৃত্তি ও বাংলা নাটকের কিংবদন্তি শম্ভু মিত্র। বাংলা নাটক নির্মাণ ও সৃজনে তার অবদান অতুলনীয়। নাট্যমঞ্চকে ব্যতিক্রম ও বহুমাত্রিকতায় তিনি করে তুলেছিলেন ঐতিহ্যমণ্ডিত, ঐশ্বর্যবান ও আধুনিক।
মঞ্চে প্রাণশক্তি সঞ্চারে নবধারার প্রবর্তক তিনি। বাংলা নাটকের বিকাশে তার হাতেই হয়েছে অমূল্য অনেক সৃষ্টি। তিনি ছিলেন থিয়েটার সংগঠন ‘বহুরূপী’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

একটা সময় কলকাতায় বাংলা সংস্কৃতির দিকনির্দেশনা দিতো এই বহুরূপী। এটি শুধুমাত্র একটি নাটকের দলই নয়, বলা চলে বাংলা সংস্কৃতির ধারক-বাহকও এ বহুরূপী। আগামীকাল ১ মে সত্তরে পা দিতে চলেছে শম্ভু মিত্রদের হাতে গড়া সেই বহুরূপী। একটি নাটকের দলের পক্ষে সত্তরটা বছর গৌরবের সঙ্গে কাটিয়ে দেয়াটা অবশ্যই গর্বের। সেই গর্বের পথ জয় করেছে কলকাতার থিয়েটার দল বহুরূপী।

এ উপলক্ষে ২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য এক নাট্যোৎসব। নবতম প্রযোজনা ‘মেডেল’সহ বহুরূপীর চারটি এবং ভুবনেশ্বরের নাট্যচেতনা ও পাটনার আই পি টি এ-র দুটি নাটক নিয়ে সাজানো হয়েছে সাতদশক পূর্তি আসর। আজ ৩০ এপ্রিল দিল্লির বাঙালি সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক বিজন মুখোপাধ্যায়কে সম্মানিত করা হবে উৎসবে।
আগামীকাল ১ মে সম্মান জানানো হবে সত্তরোর্ধ সাত নাট্যপরিচালককে। গতকাল ২৮ এপ্রিল শিল্পকলা একাডেমির দক্ষিণ গ্যালারিতে ‘বাংলা নাট্যের ক্রমবিকাশের অভিমুখ’ বিষয়ে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। প্রদর্শনীটি চলবে ৪ মে পর্যন্ত।

বাংলা অভিনয় শিল্পে শিশিরকুমার ভাদুড়ীর দাপট যখন প্রায় ক্ষয়িষ্ণু তখন গণনাট্য সংঘের ব্যানারে ঝড় তুলেছিল বিজন ভট্টাচার্যের নাটক ‘নবান্ন’। তবে গণনাট্য সংঘের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরে বেশকিছু বিষয়ে মতান্তর দেখা দেয়।
ফলে তুলসী লাহিড়ী, অমর গাঙ্গুলী, গঙ্গাপদ বসু, মহঃ ইজরায়েল, কলিম শরাফি, অশোক মজুমদার, শম্ভু মিত্র, তৃপ্তি মিত্র ও সর্বোপরি মহর্ষি মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যসহ আরো অনেকে মিলে নতুনভাবে ভাবনা চিন্তা শুরু করেন এবং তার ফলস্বরূপ ১৯৪৮ সালের ১ মে তারিখে ‘বহুরূপী’ নাট্যদলের জন্ম হয়।

প্রথম দিকে রূপবাণী সিনেমা হলের পাশে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি ও অশোক মজুমদারের বাড়িতে সবাই জমায়েত হতেন। পরে নিয়মিত রিহার্সাল হতো শম্ভু মিত্রের নাসিরুদ্দিন রোডের বাড়িতেই। তারপর ‘পথিক’, ‘ছেঁড়াতার’ থেকে শুরু করে মঞ্চস্থ হতে থাকে একের পর এক নাট্য প্রযোজনা। দেখতে দেখতেই শম্ভু মিত্র ও তার ‘বহুরূপী’ বাংলা থিয়েটারের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে পরিণত হলো।

‘‘রক্তকরবী’ প্রযোজনা বহুরূপীকে দুই বাংলাতেই তুমুল সমাদৃত করে তোলে। বহুরূপীর সঙ্গে সঙ্গেই বিখ্যাত হয়ে উঠলেন আলোর জাদুকর তাপস সেন এবং মঞ্চচিত্রকার খালেদ চৌধুরীও। তবে সাধের এই বহুরূপী ছেড়েই একদিন বেরিয়ে আসতে হয়েছিল শম্ভু মিত্রকে।

শম্ভু মিত্রের পর ‘বহুরূপী’র কাণ্ডারী হলেন কুমার রায়। সেও আজ এক ইতিহাস। ঐতিহ্যমণ্ডিত বহুরূপীকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন কুমার রায় এবং সেই সঙ্গে ধৈর্য, নিষ্ঠা ও মেধাশক্তি দিয়ে তিনি নতুন নতুন প্রযোজনা উপহার দিয়েছিলেন বাংলার নাট্যমোদী মানুষকে। তারমধ্যে ‘মৃচ্ছকটিক’, ‘পিরীতি পরমনিধি’, ‘রাজদর্শন’, ‘মিঃ কাকাতুয়া’ ও ‘ফুল্লকেতুর পালা’র মতো জনপ্রিয় নাটকগুলো বাংলা অভিনয় শিল্পে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।