বিশেষ সংবাদ:

অনবদ্য প্রেম-বিরহে ‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিল’

Logoআপডেট: বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০১৪
শিহাব ফারুক
বহুদিন পর নাটকপাড়া যেন প্রাণেরস্পর্শ পেলো। সতেজ সংলাপের দৌল-খেলায় নন্দিত হলো নাট্যপিপাসু অগণিত দর্শকের আপ্লুত মন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরিক্ষণ থিয়েটার হলে এরইমধ্যে প্রদর্শিত হলো নাটকপাড়ার নবীণ নাট্যদল আরশিনগরের নতুন প্রযোজনা 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল'।

সুহাসিনী গ্রামের মানুষের হৃদয় ছেদকরা প্রেম-বিরহ ও সামষ্টিক নানা গল্প-কথনে নির্মিত হয়েছে অনবদ্য এ নাট্যসৃজন। কোন এক ভাদ্র মাসের পূণিমা রাতে মফিজুদ্দিন মিয়া সপরিবারে নিহত হওয়ার পর চাঁদের আলোয় বসে সুহাসিনী গ্রামের লোকেরা মফিজুদ্দিনের গল্প বলে। যেখানে তার শৈশব-কৈশোর-যৌবন এমনকি বার্ধ্যক্যরও আগে সুহাসিনীতে তার মায়ের আগমনের ঘটনা গড়ে তোলে বাস্তব কিংবা অবাস্তব কোন মিথ। গ্রাম-বাংলার বৈচিত্রতা থেকে মাটি-মানুষের সত্যিকারের প্রতিচ্ছবির রুপকার কথা-সাহিত্যিক শহীদুল জহিরের উপন্যাস অবলম্বনে নাটকটির রুপায়ন ও নির্দেশনা দিয়েছেন সম্ভাবণাধর নাট্যনির্মাতা রেজা আরিফ।

এটি পূর্ণিমা রাতে সুহাসিনীর সম্মিলিত মানুষের জীবন-বৈচিত্র ও অবিশ্বাস্য বাস্তবতার প্রাণবন্ত সমীরণ। এতে করে, 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল' উপন্যাসের পাঠকদের মতোই সুদীর্ঘ বর্ণনাত্মক এ নাটকটি উপছেপড়া দর্শকদের আটকে রাখতে সমর্থ হয়। গিজগিজে হলপূর্ণ দর্শক একটানা দুইঘণ্টার এ প্রদর্শনী হতবাক হয়েই উপভোগ করেছে।

পলকহীন চোখে তারা এতোটাই মুগ্ধ ছিল যে, দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরের পুরোগল্প গেঁথেছে একই সুতোই। তখন প্রতিটি দর্শকই যেন হয়ে উঠেছেন- এক-একজন তোরাব আলী, মফিজুদ্দিন, নাসিরুদ্দিন, চন্দ্রভান, দুলালী কিংবা নয়নতারা। ততক্ষণে হয়তো কেউই ভাবেনি এতো প্রাণবন্ত কাজটির পেছনে কতো শ্রম-ঘাম ও সময় বিসর্জন দিতে হয়েছে এর নির্দেশক ও কলাকৌশলীদের। নির্দেশক রেজা আরিফসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।

নাটকে দরিদ্র গণিকা নয়নতারা সামর্থের সবটুকু দিয়ে মফিজুদ্দিনের প্রাণদান, দুলালীকে খাল পার করা, তাদের চিঠি আদান-প্রদান, কিংবা মোরগ খাসি করানো- প্রতিটি দৃশ্যই যেন দর্শকদের অভিভূত করেছে। তবে নাটকে সঙ্গীত প্রয়োগে যথেষ্ট বিচ্যূতি লক্ষনীয় ছিল। একই সাথে শেষাংশে বেশীরভাগ নাট্যকর্মীরই সংলাপ প্রক্ষপণে হাঁপিয়ে উঠেছেন। যা প্রযোজনার মসৃণতায় আঘাত হেনেছে। নাটকে প্রচুর অশ্লীল সংলাপ ছিল যা প্রতিনিয়ত উপভোগকারীদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এবিষয়ে রেজা আরিফ বলেন, শহীদুল জহির বাংলা সাহিত্যের ভিন্নধর্মী একজন কথা-সাহিত্যিক। তাকে বা তার লেখা বুঝতে মানুষের আরও বিশ-বছর লেগে যাবে। আমাদের চেনা একটি ঘটনা/গল্পকে তিনি নিরেট বাস্তবতার আলোয়ে অতোটা শিল্প-সৃজনে আলোকিত করেন যে, প্রসঙ্গটি হয়ে উঠে অনবদ্য এক কর্মযজ্ঞ।

তিনি বলেন, নাটকটিকে আমরা রুপান্তর বলবো না, এটিকে বলা যেতে পারে উপন্যাসটির প্রতিচ্ছবি। সে অর্থে শ্রদ্ধেয় শহীদুল জহিরের 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল' উপন্যাসকেই হুবহু মঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখানকার প্রতিটি সংলাপ, প্রতিটি ঘটনাচিত্রই উপন্যাসের মতো করে তুলে ধরা হয়েছে। শুধু নাটকের প্রয়োজনে কিছু জায়গায় সংলাপ কর্তন করা হয়েছে। পাঁচমাস প্রতিক্ষার পর অবশেষে হল বরাদ্দ পেয়ে নাটকটির ৫ম প্রদর্শনী করতে পেরেছি। এজন্য বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারী জেনারেল আখতারুজ্জামান ও শিল্পকলা কর্তৃপক্ষের প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।