বিশেষ সংবাদ:

খায়রুল আলম সবুজের শ্রুতি নাটক- ‘জন্ম জন্মান্তর’

Logoআপডেট: শনিবার, ২৮ জুন, ২০১৪


প্রথম দৃশ্য
(গ্রামের পথে হাঁটছে আট বছরের প্রতীক ও তার বাবা। পাখি ডাকে। বাঁশি বাজে।)
প্রতীক ॥ বাবা!
পান্থ ॥ (কথা বলে না)
প্রতীক ॥ হুম!
প্রতীক ॥ আমার কথা তুমি শুনতে পাও না?
পান্থ ॥ পাই তো।
প্রতীক ॥ পেলে কথা বলছো না কেন?
পান্থ ॥(কণ্ঠ ধরে আসে) এই তো বলছি। চারদিকে সবুজ গ্রাম দেখো। সবুজের উপ্র নীল।
হ্যা বলো।

প্রতীক ॥ রাত হলে আমরা কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো?
পান্থ ॥ কেন তোমার ভয় হয়?
পান্থ ॥ হ্যা, বাবা।
পান্থ ॥ কেন ভয় কিসের। তোমার বাবা আছে না সঙ্গে? (নুয়ে মাটি স্পর্শ করে) এখানে আমার বাবাও আমার সঙ্গে আছেন।
প্রতীক ॥ বাড়ি ছেড়ে কত দূর এসেছি। ওকি করছো বাবা?
পান্থ ॥ এই মাটিতে আমার বাবা, তোমার দাদু, শেষবারের মতো শুয়েছিলেন। সেই মাটি কপালে ছোঁয়াচ্ছি।
প্রতীক ॥ তাহলে আমাকেও একটু দাও।
পান্থ ॥ এই নাও।
প্রতীক ॥ বাবা, আমরা কোথায় যাবো?
পান্থ ॥ একজন মানুষের বাড়ি।
প্রতীক ॥ তুমি তো এখানে কিছু চেনো না কি করে যাবে?
পান্থ ॥ তুমি আমি দুজনে মিলে চিনে নেবো।
প্রতীক ॥ সেও কি দাদু?
পান্থ ॥ হ্যা, পরান দাদু।
প্রতীক ॥ তাকে তুমি চেনো?
পান্থ ॥ না। তার কথা শুনেছি। বড় ভালো মানুষ।
চলো তাকে পেলে আমরা তার সঙ্গে আলাপ করবো।

দ্বিতীয় দৃশ্য
মেঠো পথ। সেই পথ ধরে প্রতীক ও পান্থ চলছে।্ একজন লোক দেখে ডাক দেয় পান্থ।
পান্থ ॥ এই যে ভাই, এই যে--
লোক ॥ আমারে ডাকলেন?
পান্থ ॥ জ্বি, এইটা অম্বিকাপুর গ্রাম না?
লোক ॥ হ বাব্।া আপনার বাড়ি?
পান্থ ॥ আমি বাপু দূরের মানুষ। পরান মাস্টার নামে একজন মানুষ আছেনা এই গ্রামে?
লোক ॥ ছিলো তো।
পান্থ ॥ কেন এখন নেই?
লোক ॥ থাকবে না ক্যান? আছে। তয় না তাকার মতোনই। এখন কালি শ্বাসটুক চলে। হাঁটা চলা করতে পারে না। হায়রে, কি মানুষ কি হইয়া যায়। যান বাবা- এই রাস্থা ধইরা আর একটু আগাইলে হাতের বায়ে ডালপালা বিছাইনা বিরাট এক শিরিষ গাছ পড়বে - ওইটাই পরান দাদুর বাড়ি।
প্রতীক ॥ শিরিষ গাছ কেমন বাবা?
পান্থ ॥ চলো, তোমাকে দেখিয়ে দেবে। আসি ভাই।
লোক ॥ আচ্ছা (ওরা দুজন এগিয়ে যায়।)

তৃতীয় দৃশ্য
গ্রামের বাড়ি। দাওয়ায় এক বৃদ্ধ বসে বসে কাশছে। গরু ডাকে হাঁস মুরগির শব্দ পাওয়া যায় উঠানে।
পান্থ ॥ বাড়িতে কেউ আছেন?
বৃদ্ধ ॥ (কাশি থামে) কে বাবা? এই কোই গেলা দেখো তো কে ডাকে?
বৃদ্ধা ॥ (কিছুটা দূর থেকে) কোতায় কেডা ডাকে? ওমা!
পান্থ॥ স্লামুওয়ালাইকুম।
বৃদ্ধা ॥ ওয়ালাইকুমআসসালাম। কে গো বাবা আপনে? কারে খোঁজেন?
পান্থ ॥ এটা কি পরান মাষ্টার সাহেবের বাড়ি?
বৃদ্ধা ॥ জে, আপনি কে বাবা?
পান্থ ॥ জ্বি! আমাকে তো আপনি চিনবেন না, আমি অনেক দূরের অচেনা মানুষ।
ব্দ্ধৃ ॥ কে আসছে মনির মা?
বৃদ্ধা ॥ বলে তো আমরা চিনি না। অচেনা মানুষ।
বৃদ্ধ ॥ অচেন মানুষ কি চায়?
বৃদ্ধা ॥ তোমার নাম করে।
বৃদ্ধ ॥ এদিক আসতে বলো।
বৃদ্ধ্্া যান বাবা, ওই যে দওয়ায় বইসা আছেন।
ওই যে নাম কইলে সেইটা ওনারই নাম। আপনার সঙ্গে ইনি কে?
পান্থ ॥ আমার ছেলে।
বৃদ্ধা ॥ আহা, মুখটা তো শুকাইয়া গেছে। আসেন ভাই এদিকে আমার কাছে আসেন। হাইট্রা আসছেন?
হ, হাটা ছাড়া তো গতিকও নাই। আসেন ভাই আমার কাছে আসেন্।
প্রতীক ॥ বাবা!
পান্থ ॥ যাও যাও, দাদু তো। (বৃদ্ধাকে ফিসফিসিয়ে )ইনি কি চোখে দেখেন না?
বৃদ্ধা ॥ ( দীর্ঘশ্বাস ফেলে) দেখেন সানান্য্।ধারে কাছ কিছু কিছু দেখেন। তাও পরিষ্কার না।
পান্থ ॥ শুনতে কি অসুবিধা হয়?
ব্দ্ধৃ ॥ না। শোনেন সবই। ছোট্র কথা শুনতেও অসুবিধা হয় না। অসুবিধা বাবা চক্ষু নিয়াই।
পরান ॥ (দাওয়া থেকে) তার তো কিছু করার নাই। অস্তগামী সূর্যের আলোতে কি আর ত্যেজ থাকে?
পান্থ কাছে যায়
পান্থ ॥ আসসালামুআলাইকুম।
পরান ॥ খোঁজ করেন ক্যান বাব?
পরান ॥ আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।
পরান ॥ আমার সঙ্গে? আমার সঙ্গে কি কথা বাবা?
পান্থ ॥ আছে। আপনার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে।
পরান ॥ (দীর্ঘশ্ব্সা ফেলে) কি যে বলেন বাব! এখন কি কেউ কারো খোঁজ করে? মানুষ মানুষরে এখন ভুলতে চায়। শুনি তো লোকজন নাকি বলে ভুলে থাকতে হয়। পারেও।
পান্থ ॥ সে তো, চাচা, যারা পারে তারা পারে। সবাই কি সব কিছু ভুলতে পারে? যার অনেক জিঞ্জাসা, যার অনেক জানার আছে বোঝার আছে সে ভোলে কি করে। পিছন ভুললে তো আগামী নেই।
পরান ॥ বাহ্! কে বাবা আপনে? আপনার নাম কি? কোত্থেকে আসছেন? (কাশে) আসেন ঘরের ভিতরে আসেন বাবা। কতদূর থেকে আসলেন?
পান্থ ॥ সে মেলা দূর চাচা, ভিন গাঁও চিনবেন না।
পরান ॥ বসেন, এই চকিটায় বসেন বাবাজি। এতো দূর থেকে আমার কাছে - কি এমন কারণ?
পান্থ ॥ কারণ যদি বলেন তাহলে সে কারণে কোন যুক্তি আছে কিনা জানি না। অন্তত সবার কাছে তো নাই-ই।
পরান ॥ ঠিকই বলছেন বাবা। হ বসেন এই কোণটায়ই বসেন। বসেন। ঠিক বলছেন, অর্থ কি আর সবাই বোঝে? কারণ যে ভালো বোঝে অর্থটা তার কাছেই পরিষ্কার। বোঝাবুঝিতে চিন্তা ভাবনা একটু লাগেই। মনটারে একটু ধইরা বাইন্দা সিজিল করতে হয়। আপনার কথায় কথার বাইরের কথাও আছে। বেশ বেশ - এখনকার দিনে এমন কথা তো কেউ আর বলে না। মনটায় শান্তি পাইলাম বাবা - এখন বলেন কেন আসছেন।
পান্থ ॥ আপনাকে দেখবো, আপনার সঙ্গে একটু সময় থাকবো কথা বলবো ব্যাস। এর বাইরে যেটুকু আছে সেটুকু নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত; তাতে এই পৃথিবীর কারো কিছু যায় আসে না।
( আনমনা হয়ে যায়)
পরান ॥ কারণ তাহলে একটু আছে কি বলেন।
পান্থ ॥ তা আছে। নাহলে এতো দূরপথ কেউ কি আসে?
পরান ॥ কথাটা ঠিক বাবা। কারণ ছাড়া কেউ পথে নামে না।
ভালো বলেন মন্দ বলেন কারণ একটা লাগবেই। আপনার কারণটা কি আমারে বলা যাবে?
পান্থ ॥ যাবে। আপনাকেই বলা যাবে। আর সেটা বলার জন্যই আপনার কাছে এসছি।
পরান ॥ তাহলে বলেন বাবা। বলেন বাবা আপনার এখানে আসার কারণটা বলেন - দাঁড়ান, তার আগে একটু কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করি, বেলা তো প্রায় পড়ে এলো।
পান্থ ॥ আপনি ব্যস্ত হবেন না।
পরান ॥ কি যে বলেন! একটু কিছু তো খেতে হবে। উপস্থিত মতে যা আছে তাই বাবা। আপনি একটু বসেন। কোই শুনছো, কোই গেলা
উঠে যান পরান মাষ্টার

চতুর্থ দৃশ্য
পরানস্ত্রী ॥ খাও দাদু মুড়ি দুইডা খাও। ভালো লাগে না?
প্রতীক ॥ হ্যা, খুব ভালো। আমরা তো পথে খেয়েছি, তারপরও ভালো লাগে।
পরানস্ত্রী ॥ খিদা লাগে নাই?
প্রতীক ॥ না। আমরা তো একটু পরেই চলে যাবো তখন বাইরে গিয়ে খাবো।
পরানস্ত্রী ॥ এই যে আমি রান্না করছি। তোমরা এখানেই খাবে। বাইরে খাওয়ার দরকার নাই।
পরান ॥ (কাছে আসতে আসতে) এই যে শুনছো মেহমানদের কিছু খাবার ব্যবস্থা করতে হবেনা?
পরানস্ত্রী ॥ হ। আপনে গিয়া মেহমানদের সঙ্গে কথা বলেন আমার ব্যবস্থা করাই আছে। কেমন মানুষ পাইছি দেখেন। কত যে কথা! মেহমানরে আইজা আর যাইতে দিমুনা।
পরান ॥ আচ্ছা আচ্ছা, তুমি তাইলে আমাদের খবর দিও। বেলা কিন্তু গড়াইছে। আর শোনো, ওই বাড়ির মোমিনরে একটু খবর পাঠানো যায় কিনা দেখো। হাটে পাঠাবো।
প্রতীক ॥ বাজারকে তোমরা হাট বলো না দিদু?
পরানস্ত্রী ॥ বাজার তো নিত্য বসে, হাট সপ্তায় দুই দিন।
প্রতীক ॥ ওমা! দেখো দেখো, ওই পাখিটার রঙ একবারে হলুদ। এই যাহ্ উড়ে গেলো।

পঞ্চম দৃশ্য
পরান ॥ (ধীরে সুস্থে) আল্লা মালেক। হ্যা বাবা বলেন।
পান্থ ॥ আমার বাবা মারা গেছেন কিনা আমি জানিনা কিন্তু সাইত্রিশ আটত্রিশ বছর আগে ঘর থেকে বেরিয়ে আজও যেহেতু ঘরে ফেরেন নি আমরা ধরেই নিতে পারি তিনি আর কোনদিন ফিরবেন না। যেদিন বেরিয়ে ছিলেন সেদিন তার বয়স ছিলো পঁচিশ আর আমার মাত্র সাত মাস। বড় হতে হতে জেনেছি আমার বাবা এ দেশ ও জাতির জন্মযুদ্ধে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন্। মা বাব স্ত্রী পুত্র ছেড়েই তিনি বেরিয়েছিলেন। এতে আমি আশ্চর্য হই না। মানুষ মাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে। তবু দেশের ভালোবাসার টান এতোই বড় যে সেই মাকে ছেড়ে দেশ বাঁচাতে যুদ্ধ করতে চলে যায়। আমার বাবাও তাই গিয়েছিলেন। আমি নিজে বঞ্চিত তবু এই-ই আমার একমাত্র গর্ব, আমার একমাত্র গোপন অহঙ্কার, আমার ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের মূলমন্ত্র। আমি শুনেছি এবং জেনেছি শেষেরদিকে আমার বাবা এই গ্রামেই ছিলেন এবং একজন পরান মাস্টার তাকে কিছুদিন আগলে রেখেছিলেন।
পরান ॥ (ধরা গলায় ) আহ্!
পান্থ ॥ যখন জেনেছি তখন থেকে এই গ্রাম আর সেই মানুষ আমার অন্তরের ঠিকানা। যদি জানতে পারতাম তার সম্পর্কে আরও কিছু, তার জীবনের শেষ দিনগুলি সম্পর্কে যদি আরও কিছু জানা যেতো- এই আশা নিয়ে এখানে এতোদূর এসেছি। আর কিছু না। আমার বাবা আমার কাছে শুধুই শব্দ। শব্দের অধিক কিছু যদি জানা যায় সে কারণেই আপনার কাছে আসা। আমি আমার সন্তানকেও সঙ্গে এনেছি। সে তার নিজের ঠিকানা চিনে নেবে।
পরান ॥  (কেঁদে ওঠে) কি হবে আর জেনে! যা গেছে তোমারই গেছে, আর কারো কি কিছু গেছে?
আমার একমাত্র ছেলে মাত্র সতেরো বছর বাঁচলো। বানের মতো যুদ্ধ এসে ভাসিয়ে নিলো।
 (কাঁদে) বাবাজ্বি এ শুধু ব্যক্তিগত - ব্যক্তিগত, শুধুই ব্যক্তিগত শূন্যতা।তুমি তোমার বাবাকে দেখো নি আমি আর কোন দিন আমার সন্তানকে দেখবো না। এ জীবন শুধুই ব্যক্তিগত থাকা না থাকা বাবা। কত শূন্যতা নিয়ে মানুষ যে যাপন করছে জীবন! (কাঁদে)
পান্থ ॥ আপনি মনে করতে পারছেন?
পরান ॥ এখন আর কিছুই মনে করতে পারি না বাবা। সেই সময় আরো তো কত ছিলো। আমার এই ভাঙ্গা ঘরেই ছিলো।
মোমিন ॥ পরান দাদু, পরান দাদু -
পরান ॥ কে রে মোমিন আইছিস? আয় আয়-
মোমিন ॥ ডাকছো ক্যান?
পরান ॥ ডাকতে তো ভুইলাই গেছি। মাঝে মইধ্যে ইচ্ছা হয়। এই বাবাজি পুরানো দিনের কথা মনে কইরা দিলো তাই তোরে ডাকছি।
মোমেন ॥ উনি কে?
পরান ॥ পরে কমু, মনে পড়লে। তোর একটা কাজ আছে। কাইল সকালে বাবাজিরে গ্রামটা একটু ঘুরাইয়া দেখাবি। এই কাজ। যেখানে যেতে চায় নিবি। আমি তো আর চোখে ভালো দেখতে পাই না।
মোমেন ॥ তাইলে কাইল সকালেই আমি আসি। কিন্তু উনি কে?
পরান ॥ সেই সব নাম নাজানা কারো একজনার ছেলে।
পান্থ ॥ আরও একটা ব্যাপার আমি শুনেছিলাম। জানি না সত্যি কিনা। আমার বাবার নাকি মাটি হয় নি।
পরান ॥ আমার কিছু মনে পড়ে না বাব্।া কিছু মনে নাই। খাওয়া দাওয়া সারেন বাবাজি। থাকার অসুবিধা হবে না। আজ রাতটা এখানেই কাটাবেন। গ্রাম গাঁয়ে ঘুরলে দাদুভাইরও ভালো লাগবে। তাইলে মোমিনুল-
মোমিন ॥ আমি কাইল সকালেই আসবো (চলে যায়)
পরান ॥ আপনে বিশ্রাম করেন বাবা। আমিও একটু আরাম করি। (পরান ওঠে)

ষষ্ঠ দৃশ্য
রাত। প্রতীক ও পান্থ শুয়ে আছে। কান্নার শব্দ ভেসে আসে।
প্রতীক ॥  (ফিসফিসিয়ে ) বাবা , ও বাবা।
পান্থ ॥ বলো।
প্রতীক ॥ বাবা, কে কাঁদে?
পান্থ ॥ কোথায়?
প্রতীক ॥ ওই যে কান পেতে শোনো -
কিছু কথা ওভারল্যাপ হয়
পরান ॥ এই রোগেই তোমারে নেবে আমার কোন সাধ্য নাই।
পরানস্ত্রী ॥ তুমি ভালো কইরা দেহো নাই। আমার বাবারে তুমি ভালো কইরা দেহো নাই। (কাঁদে)
পরান ॥ দেখছি। ভালো কইরাই দেখছি।সে তোমার পোলা না। সেই বার তো গ্রামের পোলা গ্রামে মরে নাই।   সারা দেশে হাজার হাজার গ্রাম। এই গ্রামের পোলা ওই গ্রামে মরছে। আমি ভালো কইরা দেখছি - বটগাছের নিচে যে পইরা ছিলো সে তোমার পোলা না।
পরানস্ত্রী ॥ (হঠাৎ ক্ষেপে ওঠে) না ওইডাও আমার পোলা। আমার না হউক আর এক মায়ের তো। কেউ নিলো না। হারাডাদিন ধইরা শকুনের প্যাটে গেল। একটা মানুষের বাচ্চা শকুনের প্যাটে গেল- কেউ তারে দেখলো না, কেউ তারে নিলো না (কাঁদতে থাকে)
পরান ॥ আমেনা ভুইল্যা যাও- এর চাইতে বড় ওষুধ আমার জানা নাই। দুঃখ ভোলো আমেনা।
শকুনের প্যাটে যে ছেলেটি গেছে তারই ছেলে আজ তোমার ঘরে শুয়ে আছে। তারই বংশধর তোমার ঘরে। দুঃখ ভোলো আমেনা, দুঃখ ভোলো  
পান্থ ॥ (কেঁদে ওঠে)
প্রতীক ॥ বাবা, বাবা- (প্রতীকও ফুঁপিয়ে ওঠে)
পান্থ ॥  ঘুমাও ঘুমাও বাবা,ঘুমাও -

সপ্তম দৃশ্য
পরদিন সকাল
মোমিন ॥ দাদু, পরান দাদু, আমি আসছি।
পান্থ ॥ আসুন আসুন, আমরাও তৈরী । প্রতীক আসো বাবা, দাদু দিদাকে বলো।
আমেনা ॥ আসো দাদুভাই আমার কাছে আসো (আমেনা প্রতীককে আদর করে) আবার আসবা কেমন?
প্রতীক ॥ আসবো।
পান্থ ॥ চাচা, সেই বটগাছটার কাছে একবার যেতে চাই।
পরান ॥ কি বললে?
পান্থ ॥ সেই গাছের নিচে আমার বাবার শেষ চিহ্নটুকু পড়েছিলো, সেই গাছের নিচে আমি যাবো।
পরান ॥ (খানিক চুপ। দীর্ঘশ্বাস ফেলে) বাবা, সেই গাছটা তো আমার মতো বুড়া হইছিলো,
তাই তারে সবাই কাইটা ফেলছে। তার কোন চিহ্নও এখন আর পাবানা। কিন্তু এই যে যোগাযোগ হইলো সেইটা তোমার জন্মজন্মান্তরের। এই যোগাযোগ রাইখো বাবা। এইটুকু না থাকলে আমাদের যে আর কিছু নাই। (পরান কাঁদে)