বিশেষ সংবাদ:

বাংলাদেশে অ্যাক্রোবেটিক শিল্পের সম্ভাবনা

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ০১ জুলাই, ২০১৪

ফারুক হোসেন শিহাব
ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বময় অন্যতম জনপ্রিয় একটি বিনোদন মাধ্যম হচ্ছে অ্যাক্রোবেটিক। কার্যকরী উদ্যোগের অভাবে এই শিল্পটি বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত দূর্বল হলেও এরইমধ্যে দেখছে আলোর মুখ।

কেননা, সার্কাস বা অ্যাক্রোবেটিকের সাথে জড়িত শিল্পীদের উন্নয়নে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী অন্যান্য শিল্পের ন্যায় নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকীর পরিকল্পনায় দু’বছর ধরে অ্যাক্রোবেটিক নিয়ে হাতে নেয় বর্ণীল কর্মসূচী।

‘আফগান মিনি মোবাইল চিল্ড্রেন্স সার্কাস’ যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানবাসীর জন্য সুখকর একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু স্বদেশীরাই নয় বিশ্বের নানান দেশের অনুরাগী অগণিত দর্শক তাদের পরিবেশনে রীতিমতো মুগ্ধ। সাম্বার দেশে জমকালো আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে শুরু হয় চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ। উদ্বোধনী আসরকে নান্দনিক ও উপভোগ্য করে তুলতে অন্যান্য আয়োজনের সাথে ছিল অ্যাক্রোবেটিক জিমন্যাস্টিকস। শুধু ব্রাজিলই নয়- চীন, রাশিয়া, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাক্রোবেটিক শিল্পের জনপ্রিয়তা, চর্চা ও গুরুত্ব অনেক বেশী।

শরীরকে নানা ভঙ্গিতে, নানান কসরতে, অ্যাক্রোবেটিক ছন্দে, নান্দনিক উপস্থাপন সত্যি মজার। যা উপভোগে মানুষ বর্ণীল আনন্দে বিনোদিত হয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরকালে বেইজিং ছায়াং থিয়েটারে চীনা শিল্পীদের অ্যাক্রোবেটিক শো প্রত্যক্ষ করেন। এতে করে এই শিল্পের প্রতি নি:সন্দেহে তার ভালোলাগাটা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বর্তমান সরকারকে এমনিতেই বলা হয়ে থাকে সংস্কৃতিবান্ধব সরকার। এরইমধ্যে সংস্কৃতিতে বিরল বাজেটসহ দেশব্যাপী প্রচুর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে তার বাস্তব দৃষ্টান্তও মিলেছে।

তারই ধাবাহিকতায় সমগ্র বাংলাদেশের অনুরাগী দর্শকদের নির্মল আনন্দ দিতে ৬৪ জেলা পরিভ্রমণে অ্যাক্রোবেটিক মঞ্চায়ন করে চলছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী অ্যাক্রোবেটিক দল। ২০১২ সালে রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৫ জন অ্যাক্রোবেটিক শিল্পী, ৭২ জন শিশুশিল্পী ও ঢাকাতে ৫০ জন শিশুশিল্পীকে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের মধ্যদিয়ে শুরু হয় বর্তমান সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে নতুন অ্যাক্রোবেটিক শিল্পী তৈরীর প্রয়াস। যেখানে শিশুদের জন্য করা হয় ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এরই মধ্যে শিল্পকলার ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত ১০টি অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। গেল দুই শতাব্দী ধরে আধুনিক সার্কাসে অনেক ধরনের প্রজাতির প্রাণী সার্কাসের অন্যতম অংশ হয়ে দাঁড়ালেও বর্তমানে এটি মানুষের শারীরীক নানা দূর্লব কৌশলের উপর ভর করে এগিয়ে চলছে।

অ্যাক্রোবেটিক নিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগের মধ্যদিয়ে যেন এ শিল্পের আলোকিত সম্ভাবণা উন্মুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক নাট্যরত্ন লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী এই শিল্প নিয়ে কাজ করছে। প্রশিক্ষিত অ্যাক্রোবেটিক দল তাদের শৈল্পিক নৈপূণ্য প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করছে।

৬৪ জেলা পরিভ্রমন শেষ হলেও এই অ্যাক্রোবেটিক দলের শিল্পীরা সারাদেশে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে এবং বিদেশী প্রশিক্ষকদের দ্বারা নিজেদেরও আরও দক্ষ করে তুলবে এমনকি তা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে এ শিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব-দরবারে দেশের মুখ উজ্জল করবে।’ সরকারী উদ্যোগ ও সহায়তার এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্বের ঐতিহ্যময় সংস্কৃতিপূর্ণ দেশগুলোর ন্যায় আমাদের সংস্কৃতিতেও অ্যাক্রোবেটিক শিল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।