বিশেষ সংবাদ:

একেকটা জন্মদিনে একেকটা পালক খসে পড়ছে

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০১৫

সফিউল আলম রাজা

 

আমার নাকি জন্মদিন... ভাবতেই জলে চোখ ভিজে যায়....................... জন্মদিন। কার জন্মদিন! কবে সেই জন্মদিন-এমন নানা প্রশ্ন আমার মাথায়। নিজের জন্মদিন কখনো পালন করতে হবে ভাবিনি।

 

কেউ আমার জন্মদিন পালন করবে, তা কল্পনাও করিনি কখনো। জন্মদিনের তারিখটাও মনে রাখিনি কখনো। যতটুকু মনে আছে গত প্রায় ৫/৬ বছর ধরে বরেণ্য সাংবাদিক শাহেদ চৌধুরী, যাকে আমি ফুফা বলে ডাকি।

 

সেই ফুফাজি আমার জন্মদিনের তারিখ ‘৮ জুলাই’-এ একটা ফোন করে বলেন, আজ তোমার শুভ জন্মদিন। আমি চমকে উঠতাম। সত্যি বলছি-এই তারিখটি কখনো, কোনোদিনও মনে রাখিনি। আমি অবশ্য এই শুভেচ্ছা পেয়ে-প্রায়ই আমার ফুফা শাহেদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলতাম-‘যার মৃত্যুদিন কখনো পালন হবেনা, তার আবার জন্মদিন কিসের। আর এসব মনে রেখে বা কি হবে’।

যা হোক-ফোনে এই শুভেচ্ছাটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো আমার জন্মদিনের সব আয়োজন। ব্যস। এর বেশিকিছু না। কিন্তু বাংলাদেশ বেতারের সাবেক ডিআরডি, পরবর্তীতে আর ডি হয়ে অবসরে গেছেন, যার নাম সুরাইয়া বিলকিস। তিনিই প্রথম আমার জন্মদিনে কেক কাটলেন আগারগাঁও বেতার ভবনে তার অফিস কক্ষে। সেটাও মনে হয় ২০০৮ বা ২০০৯ সালের কথা। এই আমার জন্মদিনের তারিখের সাথে আয়োজন অনুষঙ্গ হিসেবে ছোট্ট একটি ‘কেক’ যুক্ত হল। তারপর দীর্ঘ ৫/৬ বছরএ ই জন্মদিনে আমার ফুফার ফোনের শুভেচ্ছাটাই আমার জন্মদিনের সম্বল ছিলো। এরপর ২০১১ সালে যখন ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করলাম। কোনো ভাবে খোঁচা-খুচি করে আমার দুষ্টু ছাত্র-ছাত্রীরা আমার জন্ম তারিখটা বের করে ফেললো।

 

এরপর শুরু হল আবার কেক কাটা, ফটোসেশন করা, বক্তব্য দেয়া। এই যে শুরু হল আর যে কেক কাটা বন্ধ হচ্ছে না। জন্মদিন এলেই প্রথম আমার ফুফার টেলিফোন, দ্বিতীয় আমার সহকর্মীদের মোবাইল থেকে শুভেচ্ছা ম্যাসেজ, তৃতীয় আমার ছাত্র-ছাত্রীদের কেককাটা পর্ব , ফুলেল শুভেচ্ছা আর ফটোসেশন, সেই সাথে গিফট প্রদান। আমার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকের নাম এই মুহুর্তে মনে পড়ছে-নাজিম উদ্দীন, জাকির হোমেন, কাঁকন, রিমা, চানমিয়া, রাকিবসহ আরো অনেকেই ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’-এ আমার জন্মদিন উদযাপন করে। এরপর প্রতিবছরই চলছে। গতবারও ‘ভাওয়াইয়া’ গানের দল ও ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা আমার জন্মদিন (৮জুলাই) উদযাপন করে। আমি অনেকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও  কিছুতেই এই ব্যাপারে নিষেধ শুনেনি ওরা। আমার আর কি বলার আছে। চুপচাপ মেনে নিলাম। 

 

আবারও এলাে আমার জন্মদিন। একেকটা জন্মদিনে একেকটা পালক খসে পড়ছে। আমার যাওয়ার সময় হয়ে আসছে। কিন্তু আমার যে একটা স্বপ্ন আছে-আর তা হলো চিলমারী বন্দরে ‘ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট’ গড়বো। যেখানে এই দেশের সন্তানরা ভাওয়াইয়া গবেষণা ও চর্চার জন্য যাবেন। ওরা ওদের ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করবে। আমার জন্মদিনে আল্লাহর কাছে আমার চাওয়া আমার এই স্বপ্নটা যেনো পূরণ করতে পারি। আর আমার শুভানুধ্যায়ী যারা আছেন-তাদের বলছি, সত্যিই জন্ম তারিখটা এলে ইদানিং খুব ভয় পাই। মনে হয় এই বুঝি চলে যাওয়ার সময় হলো। এ কথা ভাবতেই জলে চোখ ভিজে যায়।