বিশেষ সংবাদ:

ঈদের অনুষ্ঠান তিনদিনের বেশী হলে দর্শক আগ্রহ কমে যায়

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ০৫ আগস্ট, ২০১৪

আতাউর রহমান
দু’ই ঈদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানমালা নিয়ে আমি আগেও একাধিকবার লেখেছি এবং কিছু পরামর্শ দেয়ারও চেষ্টা করেছি। কাজ হয়েছে কিনা সেটা পরখ করে দেখার সুযোগ হয়নি।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হল টিভি অনুষ্ঠান মালায়, বিশেষ করে এক ঘন্টার নাটক বা টেলিফিল্মে নির্মাতারা আগের তুলনায় পারিশ্রমিক কম পান এবং যথার্থ ভাবেই কাজের গুণগত মান পড়ে যায়।

খুব তড়িঘড়ি করে কাজ করা হয় এবং দু’একজন তারকা নিয়ে কিছু নব্য অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নিয়ে কাজটা সারা হয়; সুতরাং নির্মাণের মান পড়ে যায়। সবচেয়ে বড় দুর্ভিক্ষ হল, ভাল পান্ডুলিপির, যা বিভিন্ন গল্প ও কাহিনীর নতুন লেবাসে পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়। একটি ঈদে প্রায় তিন’শ থেকে সাড়ে তিন’শ নাটকও টেলিফিল্ম প্রচার হয় এবং সেক্ষেত্রে নির্মাণের মান নিম্নমুখী হতে বাধ্য।

নূন্য পক্ষে ২০-টি চ্যানেলে নাটক এবং আজকাল ৭-দিনের ঈদ-ধারাবাহিকও প্রচারিত হয়। ঈদে ৩-দিন সব পরিবারের মানুষেরা নিজেদের মত করে অতিথি সেবায় ব্য¯— থাকে এবং বিভিন্ন ভাবে উৎসব পালন করে থাকে। প্রত্যেক পরিবারের লোক কমবেশী বেড়াতে যায়; ফলে মন দিয়ে ঈদের কোন নাটক, কথামালার অনুষ্ঠান, নৃত্য ও সঙ্গীতের অনুষ্ঠান দেখা হয়না। বেশীর ভাগ পরিবারের মানুষেরা রিমোর্ট কন্ট্রোল নিয়ে টিভি চ্যানেল থেকে চ্যানেলে পরিভ্রমণ করেন এতে করে কোন টিভি অনুষ্ঠানই মন ভরে উপভোগ করা যায়না।

ঈদের অনুষ্ঠান মালা প্রত্যাশা করাটা আজকাল দায়সারা গোছের হয়ে গেছে। বেশীর ভাগ অনুষ্ঠানের মান নিম্নমুখী যা সংখ্যাতিরিক্ত অনুষ্ঠানের কারনেই হয়। তার উপর কম খরচে বেশী অনুষ্ঠানের প্রস্তুত ও স¤প্রচারের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ঈদের বেশীর ভাগ অনুষ্ঠানই হুড়াহুড়ি করে নির্মাণ করা হয়; সে কারণে পারফরমেন্স সহ কারিগরী সব দিকই নিম্নমুখী হয়ে থাকে।

ঈদের অনুষ্ঠান করতে হয়, তাই করা হয় এবং সবার উপরে রয়েছে এর একটি বাণিজ্যিক অথবা পণ্য বিকিকিনির দিক। সে জন্যে বিজ্ঞাপণ চিত্রের দৌরাত্বে ঈদের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে স¤প্রচারিত অনুষ্ঠান মালার মান নিম্নমুখী হতে বাধ্য হয়। বিজ্ঞাপন চিত্র যে কোন অনুষ্ঠানের শুর“তে এবং শেষে দেখালে হয়ত ভালো হয়। অনুষ্ঠানের বিঘœ ঘটিয়ে সংবাদ স¤প্রচারের সময়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়, এতে করেও অনুষ্ঠান উপভোগ করাটা কষ্টদায়ক হয়।

ঈদের অনুষ্ঠান, আমি মনে করি তিন দিনের বেশী দেখালে দর্শকদের আগ্রহ কমে যায়। বড়জোর ঈদের সময় পাঁচ দিনে, যে কোন টিভি চ্যানেল পাঁচটি নাটক ও টেলিফিল্ম স¤প্রচার হতে পারে। কথামালার অনুষ্ঠান, আনন্দমেলা, সঙ্গীত ও নৃত্যের অনুষ্ঠান প্রচারেও সংযমী হলে হয়ত অনুষ্ঠানের মান বাড়তে পারে। এক কথায়, অত্যাধিক অনুষ্ঠানমালা স¤প্রচারের জন্যে অনুষ্ঠানমালার শৈল্পিক মান যৌক্তিক ভাবেই নিম্নমুখী হয়। আমাদের দেশের আর্থিক এবং অব-কাঠামোগত সঙ্গতির বিষয়টি মাথায় রেখে ঈদের যে কোন অনুষ্ঠান প্রস্তুত করা উচিত।

চিরকাল দেখা গেছে আধিক্য গুণগত মানকে বিঘিœত করে এবং আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান মালায় তা ঘটে থাকে। আগে যখন একসময় বিটিভি ছাড়া দেশে অন্য কোন টিভি চ্যানেল ছিলনা, তখন ঈদের অনুষ্ঠান মালা অবলোকন করার জন্যে চাতক পাখির মত দর্শককুল অপক্ষো করত। সবশেষে বলব, এবার রোজার ঈদের অনুষ্ঠানমালা, বিশেষ করে স¤প্রচারিত নাটকের মান তুলনামূলক ভাবে অন্যবারের চেয়ে কিছুটা উন্নত মানের ছিল। আমি আশা করব; টিভি চ্যানেলগুলোর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ভাববেন এবং ভবিষ্যতের ঈদগুলোতে উন্নতমানের নাটক সহ অনুষ্ঠানমালা স¤প্রচারে ব্রতী হবেন।
লেখক- অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক (২১-শে পদকপ্রাপ্ত)