বিশেষ সংবাদ:

যেভাবে লেখা হল ‘রঙমহাল’

Logoআপডেট: রবিবার, ০১ মার্চ, ২০১৫

রুবাইয়াৎ আহমেদ
অমর একুশে বইমেলা ২০১৫ সালে ভাষাচিত্র প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘রঙমহাল’। তিনফর্মা বইটির গায়ের দাম ১৩৫ টাকা।

 

উৎসর্গ: সুদীপ চক্রবর্তী ও চঞ্চল সৈকত। প্রচ্ছদশিল্পী: সব্যসাচী হাজরা। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি এই সময়ের তরুণ মেধাবী নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তী এবং নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনাসম্বলের সম্পাদক চঞ্চল সৈকত আইরিশ নাট্যকার এডমন্ড জন মিলিংটন সেঞ্জ রচিত ‘দ্য ওয়েল অব দ্য সেইন্টস’ নাটকের পা-ুলিপিটি নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেন।

 

তাঁদের দাবি আমি যেন এই নাটকটির অনুবাদ করে দেই যা নাগরিক নাট্যাঙ্গনের পরবর্তী প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে আসবে। প্রিয় দুই নাট্যবন্ধুর এই দাবি প্রত্যাখ্যানের শক্তি আমার ছিল না।

 

আর আসলে আমি তো লিখতেই চাই। এ কারণে তাঁদের সেই প্রস্তাবে সম্মানিত বোধ করি এবং জানাই, অনুবাদ নয় এর কিছু সার নিয়ে আমি আমার মতো করে একটি নাটক লিখে দেব। তাতে তাঁরা দুজনেই সানন্দে সম্মতি দেন। সিঞ্জের নাটকটি পাঠ করার পর মনে হল, দুই প্রধান চরিত্র অন্ধ ভিক্ষুক দম্পতিকে নিয়ে মৌলিক একটি নাটকই তো লেখা সম্ভব। আমার ভেতরে তখন রঙমহালের কাহিনি দানা বাঁধতে শুরু করে।

 

নেত্রকোণার আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে মান বাংলার একটি মিশ্রণে শেষ পর্যন্ত ‘রঙমহাল’ দাঁড়িয়ে যায় দুই মাসে। তারপর নানা পরিমার্জনার মধ্যদিয়ে ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এটি চূড়ান্ত রূপ পায়। এই সৃষ্টিযাত্রায় অবগাহন করতে করতে টের পাই দেখার জগৎ অর্থাৎ রূপ এবং অদেখার জগৎ অর্থাৎ অরূপের মাঝে এক দ্বন্দ্ব। আমার মনে হতে থাকে চাক্ষুস সবকিছুকে যেমন মূল্যায়নের পাল্লায় আমরা তুলি এবং বিচার করি তাতে এক ধরনের ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে কখনো কখনো।

 

অরূপ, মানে না দেখা বিষয় যা শুধু অনুভবের তা এই বস্তুবাদী, পুঁজিতান্ত্রিক, ভোগবাদী বিশ্বে আজ তেমন কোনো মূল্য বহন করে না। আমরা বাইরের চাকচিক্য আর সৌন্দর্য্যরে পূজারি। ভেতরকার নির্মলতাকে দুর্বল আর অপ্রচল বিবেচনা করতে শিখে যাচ্ছি।

 

এই দ্বন্দ্বই ‘রঙমহাল’ আখ্যানের মূলে। দুই অন্ধ ভিক্ষুকের দৃষ্টি ফিরে পাওয়া এবং নানা সংকটের মধ্যদিয়ে পুনর্বার অন্ধত্ব বরণই ‘রঙমহাল’কে চালিত করেছে। তাতে সিঞ্জের লেখা নাট্যকাহিনির খানিক আভাস আছে। বাকিটুকু মৌলিক সৃষ্টি। আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা বন্ধুবর সুদীপ এবং ভ্রাতৃসম চঞ্চলদার প্রতি, তাঁদের আগ্রহ না হলে এই রচনা সৃজনের প্রেরণা আমার সৃষ্টি হতো না।

 

আর নিজের অঞ্চলের ভাষাকে প্রাধান্যদিয়ে লেখার সময় পুনর্বার টের পেয়েছি, নেত্রকোণার ভাষার মধ্যে অন্যরকম এক মাধুর্য রয়েছে। ওই ভাষার মধ্যেই সবসময় এক নৈকট্যের সুর বাজে। তাতে আবেগ যেমন সহজে প্রকাশ্য হতে পারে কৌতূকও ভীষণ সরসভঙ্গিতে ব্যক্ত করা সম্ভব। জন্মভিটার প্রতি এ আমার এক ধরনের নিবেদন।