বিশেষ সংবাদ:

‘টেলিভিশনে অর্ধশতাব্দী’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

Logoআপডেট: শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক 
নওয়াজীশ আলী খান দেশের একজন অনন্য সৃজনশীল টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। বাংলা এবং বাঙালি শিল্পকলার বিকাশ ও সমৃদ্ধি সাধনে ব্যতিক্রমী ও বৈচিত্র্যময় সৃজন ব্যাপক অবদান রেখেছে।

অসংখ্য বৈচিত্র্যময় নান্দনিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ ও উপহার দিয়ে তিনি টেলিভিশন দর্শকদের কাছে মহীয়ান হয়ে আছেন। দীর্ঘ সময়ে কর্মে ও গুণে বর্ষীয়ান এই ব্যক্তিত্ব এখনো চলিয়ে যাচ্ছেন তাঁর মেধা-মনন ও সৃজনের প্রয়াস। যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনবদ্য দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণা।

আজ ২৪ মার্চ শনিবার সকাল ১১টায় প্রখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব নওয়াজীশ আলী খান-এর কর্মময় জীবনের উপর ‘টেলিভিশনে অর্ধশতাব্দী’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বিএফডিসি’র ৮ নং ফ্লোরে।

এই গ্রন্থে নওয়াজীশ আলী খান কে নিয়ে লিখেছেন দেশের ১১১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন নিয়াজ মাহমুদ খান, প্রচ্ছদ এঁকেছেন সুনীল কুমার মালো এবং প্রকাশ করেছে ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্র ও জাদুঘর ও বিজয় বার্তা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত সমাজকল্যানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার, কামাল লোহানী, বিচারপতি এবাদুল হক, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, আবুল হায়াত, কে এস ফিরোজ, ম. হামিদ, ডলি জহুর, ফকির আলমগীর, ফরিদা পারভীন, ইয়াসমীন মুশতারী, মেহের আফরোজ শাওন, সঙ্গীত পরিচালক ওমার ফারুক সহ লেখক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, নওয়াজীশ আলী খানের জন্ম ১৯৪২ সালের ২রা অক্টোবর। তাঁর কর্ম জীবন শুরু হয় ১৯৬৭ সালের ২৯ নভেম্বর করাচী টেলিভিশনে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও সে সময়ে দেশে ফেরার সুযোগ পাননি তিনি। পরবর্তীতে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যোগদান করেন প্রযোজক পদে। তার কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অসময়, অযাত্রা, বিবাহ, এসো নীপবনে, ঐজাবোর্ড, মাটির ও পিঞ্জিরার মাঝে, মরণরে তুহু মম, নিমফুল, জননী, কবি ও গাছমানুষ উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ ২৮ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনে সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০০ সালে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বিটিভি থেকে অবসরের পর সে বছরই অনুষ্ঠান প্রধান হিসেবে যোগদান করেন একুশে টেলিভিশনে। সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন ৩১ ডিসেম্বর ২০০২ পর্যন্ত। এরপরই যোগ দেন এটিএন বাংলায়। গত ১৬ বছর যাবত এ প্রতিষ্ঠানেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বর্তমানে আছেন উপদেষ্টা (অনুষ্ঠান) হিসেবে।

দীর্ঘ পথচলায় দেশে ও বিদেশের অসংখ্য প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও কনফারেন্সে যোগদান করেছেন তিনি। দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি জড়িত। তাঁর কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন যার মধ্যে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ (সেরা প্রযোজক), প্রেক্ষাপট অ্যাওয়ার্ড ১৯৮৮, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড ১৯৯৫, শের-ই-বাংলা লিটারারি অ্যাওয়ার্ড ১৯৯২, ঢাকা ইয়োথ ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ১৯৯৫, কালোধ্বনি ইন্ডিপেন্ডেন্স গোল্ড মেডেল ১৯৯৫, নিপা গোল্ড মেডেল- ২০০০, ন্যাশনাল পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড ১৯৯৫, টেনাসিনাস অ্যাওয়ার্ড ১৯৯৬, টিডিএফ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০০৪, এ-ওয়ান টেলিমিডিয়া এন্ড সিল্ক লাইন ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০০৫, একটেল নাট্যসভা অ্যাওয়ার্ড, বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ স্মৃতি অ্যাওয়ার্ড ২০০৫, মাহাত্মা আশ্বিনী কুমার দত্ত স্মৃতি অ্যাওয়ার্ড ২০০৮।