বিশেষ সংবাদ:

‘গুজব ছড়িয়েছেন বলে স্বীকার করলেন নওশাবা’

Logoআপডেট: রবিবার, ০৫ আগস্ট, ২০১৮

এবি প্রতিবেদক 
কদিন ধরে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়েছে সারাদেশে। তারেই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর ঝিগাতলায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুর্বিত্তরা দুই ছাত্রকে খুন, ও চোখ উপড়ে ফেলেছে বলে ফেসবুক লাইভে এসে গুজব ছড়িয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ।

উত্তরার একটি শুটিং স্পট থেকে রুদ্র নামের এক ছেলের প্ররোচনায় ফেসবুক লাইভে তিনি গুজব ছড়ান বলে স্বীকারোক্তি করেছেন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া এই অভিনেত্রী।শনিবার রাত একটার দিকে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নওশাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এ এই তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। এর আগে শনিবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে আসা এই অভিনেত্রীকে রাতে উত্তরা থেকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। নওশাবা নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে বলে র‌্যাবের নজরে আসলে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। পরে শনাক্ত করে উত্তরার একটি শুটিং স্পট থেকে রাত দশটায় নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘রুদ্র নামের স্কুল পড়ুয়া এক ছেলের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে নওশাবা তা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওতে যেভাবে শিক্ষার্থীদের চোখ উপড়ে ফেলা এবং শিক্ষার্থী মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে এতে মনে হয়েছে নওশাবা ঘটনাস্থল জিগাতলায় ছিলেন। কিন্তু সে উত্তরার একটি শ্যুটিং স্পট থেকেই ফেসবুক লাইভে গুজবটি ছড়িয়ে দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুজবের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘গত ৩ আগস্ট শাহবাগে রুদ্রর সঙ্গে নওশাবার পরিচয় হয়। তারপর থেকে আন্দোলনের বিষয়ে উভয়ের মধ্যে যোগাযোগ হতো। তথ্যটি অন্যের কাছ থেকে শুনলেও নওশাবা এমনভাবে অভিনয় করে ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়েছেন যে, ঘটনাস্থলের আশেপাশেই তিনি ছিলেন। তিনি অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করছিলেন আর আশেপাশে তাকাচ্ছিলেন। আমরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবো। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি মহল গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। গুজব ছড়ানোর বিষয়ে তারা এমন ব্যক্তিকে সিলেক্ট করছে, যেন তার কথা মানুষের কাছে সত্য মনে হয়। বিভিন্ন গুজবের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে এবং আমাদের কাছে তথ্য আছে। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে কাজী নওশাবা বলেন, ‘জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের (শিক্ষার্থীদের ঈঙ্গিত করে) একজনের চোখ তুলে ফেলা ও দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একটু আগে ওদেরকে অ্যাটাক করা হয়েছে। প্লিজ-প্লিজ ওদেরকে বাঁচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখনই রাস্তায় নামবেন ও আপনাদের বাচ্চাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাবেন, এটা আমার রিকোয়েস্ট। বাচ্চাগুলো নিরাপত্তাহীনতায় আছে। যে পুলিশরা আছেন আপনারা অবশ্যই নিজেদের বাচ্চাদের প্রোটেকশন দেন। আপনারা প্লিজ কিছু একটা করেন। আপনারা সবাই একসাথে হন। আমি এ দেশের মানুষ, এ দেশের নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি।’